‘আমার জন্ম তারিখও দুটো, কিন্তু কই না’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৪০ পিএম, ২১ ডিসেম্বর ২০১৭

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পাঁচটি জন্ম তারিখ রয়েছে বলে দাবি করছেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিআইডব্লিউটিএ ভবনে মহান বিজয় দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।

শাজাহান খান বলেন, ‘বিএনপির দুই নীতি, ভন্ডামি আর দুর্নীতি। খালেদা জিয়ার দুই গুণ, দুর্নীতি আর মানুষ খুন। এটা বলি কেন? দ্যাখেন, নিজের জন্ম তারিখ থেকে মিথ্যাচার শুরু করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বলেই ফেলব কীনা, আমার জন্ম তারিখও দুটো, এটা কিন্তু কই না আমি। একটা হল আসল জন্ম তারিখ আরেকটা সার্টিফিকেটের জন্ম তারিখ।’

মন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার পাঁচটি জন্ম তারিখ। এরমধ্যে তিনটি তার নিজের সই করা। সে যখন ১৯৬১ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেন তখন সেখানে তার জন্ম তারিখ উল্লেখ ছিল ১৯৪৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। যখন জিয়াউর রহমান সাহেবের সঙ্গে উনার বিয়ে হল সেখানে কাবিন নামায় তিনি জন্ম তারিখ লিখেছেন ১৯৪৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। বয়স কম তো এজন্য একটু বাড়িয়ে দিলেন দুই বছর।’

‘প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নিজের হাতে সই করে মিথ্যাচারটা কীভাবে করেছে দ্যাখেন- একটা হল উনার পাসপোর্ট, পাসপোর্টে নিজের সই করা। আমার কাছে সব কপি আছে। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন জন্ম তারিখ ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট। ভোটার তালিকায় যে তিনি সই করেছেন তা আমি মিলিয়ে দেখেছি, একই সই। সেখানে (ভোটার তালিকায়) তিনি জন্ম তারিখ উল্লেখ করেছেন ১৫ আগস্ট।’

খালেদা জিয়ার আরেকটি জন্ম তারিখ আছে যার কাগজটি মন্ত্রীর হাতে নেই জানিয়ে বলেন, ‘চারটি ডকুমেন্ট আমার হাতে। উনি যখন সার্কের চেয়ারম্যান হিসেবে বায়োডাটা জমা দিয়েছিলেন, সেখানে আরেকটা জন্ম তারিখ আছে।’

শাজাহান খান বলেন, ‘বিএনপির মিথ্যা কথা কইতে কইতে একটা অভ্যাস হয়ে গেছে। সুতরাং আইট্ট কলা গাছ লাগালে সবরি কলা পাবেন না। তদ্রুপ বিএনপি একটা খুনির দল, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধের দল, সেই দলের কাছে আমরা সবরি কলা, দেশের উন্নয়ন আশা করতে পারি না। শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব এই দেশকে এগিয়ে নেয়া।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা আসলে উন্মাদ হয়ে গেছেন। তারা বলেন আইনের শাসন চাই, কিন্তু আইন যখন তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তখন তারা আইন মানবেন না, যেন মামু বাড়ির আবদার।’

‘যে প্রধান বিচারপতি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বঙ্গবন্ধু নিয়ে নানা ধরনের কথা বলেছেন কীভাবে তার পক্ষ নিয়েছিলেন। আর আজকে যখন সেই আদালত খালেদা জিয়ার অরফানেজ ট্রাস্টের আত্মসাতের মামলা হয়েছে, সাজা হবে কী হবে না তা বলতে পারেন আদালত। আপনি আমি জোর করে বলতে পারব না যে, খালেদা জিয়ার সাজা হবে। তবে অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে তিনি সাজা পেতে পারেন। তাই তারা বলছেন এটা তারা মানেন না’ বলেন পরিবহন শ্রমিক নেতা শাজাহান খান।

তিনি বিএনপির উদ্দেশে আরও বলেন, ‘একটা কথা বলে রাখতে চাই যাই করেন আর যাই বলেন, আমি মনে করি বিচার আপনাদের মানতে হবে। মুক্তি পেলেও আমরা স্বাগত জানাব, বিচার হলেও আমরা স্বাগত জানাব।’

এ সময় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান এম মোজাম্মেল হকসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএমএম/জেএইচ/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :