প্রতিটি পদক্ষেপে আওয়ামী লীগের ভোট কমছে : মওদুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫৪ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৩:৫৮ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০১৮

আওয়ামী লীগ যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে, প্রতিটি পদক্ষেপে তাদের ভোট কমছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে শনিবার দুপুরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরাম।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, 'আমাদের ওপর কতো অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন। তারা এক দিকে টিম গঠন করেছে (জাতীয় নির্বাচনের জন্য) আর আমরা অনেকটা বন্দি অবস্থায় আছি। সভা করতে দেয় না, ঘরোয়া একটা বৈঠক করতে দেয় না। আমার গ্রামে ঘরোয়াভাবে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করার সুযোগ দেয় না পুলিশ। সারা দেশেই এ অবস্থা।'

সরকার বিএনপিকে একেবারে দুর্বল ও নিশ্চিহ্ন করে দিতে চাই উল্লেখ করে সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, কিন্তু বিএনপির জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে। আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা কমছে। তারা যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে প্রতিটি পদক্ষেপে তাদের ভোট কমছে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন যে স্থগিত করেছে তাতে তাদের যে জনপ্রিয়তা কমে গেছে এটা তারা নিজেরাই প্রমাণ করেছেন। তবে বিএনপি নির্বাচনী মাঠে নামলে দেশের রাজনৈতিক চিত্র বদলে যাবে। এটা বলার অপেক্ষায় রাখে না। একবার মাঠে নামলে যে গণজোয়ার দেখবে, আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতায় থাকার জন্য তখনও ওই নির্বাচনকে বানচালের চেষ্টা করবে।

এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমাদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তারা তো দেখে নাই, মনে করছে বিএনপিকে একেবারে ঘরে ঢুকিয়ে দিয়েছে। ওরা সভা সমাবেশ করতে পারে না, তাদের আমাদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়! একটা সময় আসবে যখন অনুমতি আর নেয়া হবে না। তাদের অবহিত করা হবে, আগে যা ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমরা নির্বাচন করবো, এবার আমরা খালি মাঠে গোল করতে দেব না, একদলীয় নির্বাচনও করতে দেব না। সেজন্য আমাদের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

ডিএনসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হবে জেনেই এ নির্বাচন স্থগিত করেছে সরকার, জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, 'আমাদের নামে কোনো বেল দিলে পরের দিন গিয়েই তারা চেম্বার জজের কাছে গিয়ে স্থগিত করে নেয়। সরকার যদি ডিএনসিসি নির্বাচন নিয়ে সিরিয়াস হতো তাহলে অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচন স্থগিতের পরে দিন গিয়ে এটা কেন স্থগিত করলেন না? সুতরাং এটা বোঝা যায়, সরকার এবং নির্বাচন কমিশন পরিকল্পনা করে রিট করেছেন এবং তারা চেয়েছেন এ নির্বাচন স্থগিত থাকুক। কেন? কারণ তারা জানে এ নির্বাচনে তাদের (আ. লীগের) বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হবে। জাতীয় নির্বাচন আসছে সামনে, এজন্য তারা ঝুঁকি নিতে চান নাই। এটা সবারই জানা। বাংলাদেশের মানুষ এতো বোকা না।'

বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরামের সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় এবং সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান শামীমের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ, খালেদা ইয়াসমিন, জাসাস'র সহ সভাপতি শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা প্রমুখ।

এমএম/জেএইচ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :