‘জনগণকে ভোটে ফেরাতে হবে, নয়তো বিপদ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৩৫ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৯

বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেছেন, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক শাসন রক্ষার স্বার্থে জনগণকে ভোটে ফিরিয়ে আনার পথ করতে হবে, নয়তো বিপদ বাড়বে ছাড়া কমবে না।

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাসদ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদসহ জাতীয় চার নেতা ও ৩০ লাখ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশ জাসদ সভাপতি।

শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতি দেখে মনে হয়, অশুভশক্তি বেশি সক্রিয়। দেশবাসীকে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘তারা সকলেই বাঙালি জাতির আত্মার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য। ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার পর তার অনুপস্থিতিতে সরকার গঠন ছিল রাজনৈতিকভাবে অপরিহার্য, যা তাজউদ্দিন সাহেব করেছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ, উপদেষ্টা পরিষদ, সামরিক প্রধান নিয়োগ ইত্যাদির মধ্যে জাতিকে সঙ্ঘবদ্ধ রেখে যুদ্ধ পরিচালনার প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা তার সিদ্ধান্তে ফুটে ওঠে।’

১৭ এপ্রিলকে জাতীয় দিবস ঘোষণার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ জাসদ সভাপতি বলেন, ‘১৭ তারিখ মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় ঘোষিত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আমাদের ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধের দলিল। ১৭ এপ্রিলকে জাতীয় দিবস ঘোষণা করা উচিত।’

আম্বিয়া বলেন, ১৯৭২ সালে এদেশে জাতীয় সরকার গঠন হলে হয়তো ইতিহাস আরও সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ হতে পারত। ওসমানি সাহেবের কিছু ভুল এবং বঙ্গবন্ধুকে ভুল পরামর্শের কারণে জনগণের যুদ্ধ ও আত্মত্যাগ কিছুটা অবমূল্যায়িত হয়েছে। এর খেসারত এখনো জাতি দিচ্ছে।

নানা ফাঁকফোকর দিয়ে ইতিহাসে স্বাধীনতার ঘোষক আমদানির চেষ্টা হচ্ছে বলে জানান শরীফ নুরুল আম্বিয়া। তিনি বলেন, বাস্তবে স্বাধীনতার ঘোষণায় ‘স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ’র অবদানের স্বীকৃতি দেয়া উচিত।

জাসদ সভাপতি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ। রাজনৈতিক ভুলের জন্য আমরা অনেক সাহসী বীরদের স্বীকৃতি দিতে পারিনি। সামরিক শাসকরা মহিমান্বিত হয়েছে, যা গণতন্ত্রের বিকাশের অন্তরায়।’

বাংলাদেশ জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম সিকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দিন খান বাদল, বাংলাদেশ জাসদ সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, গণআজাদী লীগ সভাপতি এস কে সিকদার, ন্যাপের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রশিদ সরকার, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসন, বাংলাদেশ জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মুশতাক হোসেন, মোহাম্মদ খালেদ প্রমুখ।

এইউএ/এসআর/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :