গণমাধ্যমকে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হচ্ছে : মোস্তফা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩৯ পিএম, ১৬ জুন ২০১৯

বাংলাদেশের গণমাধ্যম মুক্ত নয় বরং বাংলাদেশের গণমাধ্যম বারবার ক্ষমতাসীনদের আক্রমণের শিকার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।

তিনি বলেন, শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষুর কাছে গণমাধ্যমকে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হচ্ছে। সরকার মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বললেও প্রকৃত অর্থে তারাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে পদদলিত করছে বারবার। শাসকগোষ্ঠী তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। ১৯৭৫ সালে ১৬ জুন মাত্র চারটি সংবাদপত্র রেখে সকল সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিল তৎকালীন সরকার।

রোববার রাজধানীর শাহজাহানপুরে দলীয় কার্যালয়ে ১৬ জুন সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে জাতীয় গণমুক্তি আন্দোলন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন চারটি সংবাদপত্র সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখে মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী প্রতিষ্ঠিত ‘হককথা’-সহ সকল সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিল আওয়ামী সরকার। ডেইলি অবজার সম্পাদক আবদুস সালামকে গ্রেফতার করে কারাবন্দী করা হয়। দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে দৈনিক বাংলা, টাইমস, বিচিত্রা, আনন্দ বিচিত্রা বন্ধ করেছে। সবশেষে ক্ষমতায় এসে বন্ধ করেছে চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি, দৈনিক আমার দেশ, বাংলামেইল।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে চারটি সংবাদপত্র বন্ধ হলেও পরবর্তীতে ২০০১ সালে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত গণমাধ্যম প্রেমিক দাবিদাররাও সেই সংবাদমাধ্যমগুলো চালু করার কোনো প্রচেষ্টা গ্রহণ করেনি। তারাও ক্ষমতায় থাকাকালীন প্রমাণ করেছে মুখে সংবাপত্রের পক্ষে কথা বললেও কার্যত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না। মৌখিক ভালোবাসা দেখালেও কাজে কিছুই না।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক সাগর-রুনির নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনেও চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বর্তমান সরকার। সব মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। ফলে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এনডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, সংগঠনের সমন্বয় কমিটির সদস্য আবদুল হালিম, মাওলানা আবু জাফর রেদোয়ানী, আবদুল কাইয়ূম মাহমুদ, আফরোজা বেগম, ইমরুল হাসান, যুবনেতা আবদুল হালিম মল্লিক প্রমুখ।

কেএইচ/বিএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :