এখন প্রয়োজন ‘ঐক্য-ঐক্য-ঐক্য’ : ফখরুল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৪৮ পিএম, ২৬ জুন ২০১৯

স্বৈরশাসন হটাতে ‘জনঐক্য’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার সন্ধ্যায় এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান অবস্থা থেকে বেরুনোর উপায় কী? মানবসভ্যতার ইতিহাসে রয়েছে এ উপায়। একমাত্র জনগণের শক্তি দিয়ে এ ধরনের শাসকদের, যারা একদলীয় শাসন রক্ষা করতে চায়, যারা ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চায়, তাদের পরাজিত করতে হবে। সেজন্য আমাদের সবচেয়ে বড় যেটা প্রয়োজন ঐক্য, ঐক্য, ঐক্য।’

আরও পড়ুন >> খালেদার মুক্তি, দুটি রায়ের অপেক্ষায় মওদুদ

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের জনগণের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে, রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। আমাদের যারা বুদ্ধিজীবী আছেন, বিভিন্ন সংগঠনে আছেন, মানবাধিকারে কাজ করছেন, তাদের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করে ঐক্যবদ্ধ শক্তি দিয়ে এদের পরাজিত করতে হবে। আমাদের ভাইয়েরা-বোনেরা যারা নির্যাতিত হয়েছেন, তারা বারবার একথা বলছেন, আমরা নির্যাতিত হয়েছি কিন্তু আমরা মানসিক দিক দিয়ে পরাজিত হয়নি। আমরা চাই যে, সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এদের পরাজিত করব। ইনশাল্লাহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা এদের পরাজিত করতে সক্ষম হব।'

গত এক দশক বিরোধী দলের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, এ দেশে বিগত একযুগেরও ওপরে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সচেতনভাবে জনগণের ওপর নির্যাতনের স্টিমরোলার চলছে। উদ্দেশ্য একটি ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করে রাখা, উদ্দেশ্য একটি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চিরস্থায়ী করা। বাংলাদেশে যে চিত্র আমরা দেখছি, আমাদের সকলের কাছে তা অত্যন্ত পরিচিত একটা চিত্র। ২০০৭ সালে এক-এগারোর সরকার আসার পর থেকে যে নির্যাতন এ দেশে শুরু হয়েছে, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিরাজনীতিকরণ, রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে হবে গোটা জাতিকে।

bnp

আরও পড়ুন >> গতি নেই ২০ দলে, পাত্তাও নেই শরিকদের

তিনি বলেন, গত ১২/১৩ বছর ধরে এ দেশে যা চলছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বে এ ধরনের নির্যাতন নজিরবিহীন। আপনারা নির্যাতিতদের মুখে শুনেছেন। এখানে বসে আছেন আমাদের ভাই-বোনেরা। ওই কোনায় এক বোন বসে আছেন, যিনি নির্বাচনের আগে একটা দলের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে দুই চোখ হারিয়েছেন। এখানে এক বোন কথা বলেছেন, তার সম্ভ্রম লুণ্ঠিত হয়েছে। অসংখ্য অসংখ্য চিত্র।'

তিনি আরও বলেন, আমাদের সামনে বড় উদাহরণ, গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি শুধুমাত্র এ সরকারের একদলীয় শাসনের পাকাপোক্ত করবার যে চক্রান্ত, সেই চক্রান্তের কারণে তাকে আজ বন্দি করে রাখা হয়েছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাকে নির্যাতন করে পঙ্গু করে নির্বাসিত করা হয়েছে। কারাগারের মধ্যে আমাদের সহকর্মী-সতীর্থরা এখনও রয়েছেন, আমাদের আবদুস সালাম পিন্টু ভাই, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ইসহাক সরকার অসংখ্য, অসংখ্য বন্দি হয়ে আছেন।

সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের প্রধান দাবি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। পরের দাবি হচ্ছে, অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। আমরা আহ্বান জানাই, অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

আরও পড়ুন >> বিএনপির শূন্য তিন পদে আলোচনায় যারা

রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে নির্যাতিতদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস- ২০১৯ উপলক্ষে ‘নীরবতাও নির্যাতনের কারণ হতে পারে’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারের শুরুতে বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন, বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘রাইট টু লাইভ’ উপস্থাপন করা হয়। মানবাধিকার ডেস্কের প্রতিবেদন তুলে ধরেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী।

কেএইচ/এমএআর/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :