বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির আহ্বান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০০ পিএম, ১৩ জুলাই ২০১৯

বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশে অতিবৃষ্টি ও ভারত থেকে ছেড়ে দেয়া পানির ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে সেই বিষয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে বন্যাপীড়িত দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলের সর্বস্তরেরে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘দলের কেন্দ্রীয় ত্রাণ যে কমিটি আছে তাকে সক্রিয় করে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে।’

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকার ব্যর্থ এমন মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, রোহিঙ্গা ইস্যুটি দেশের অর্থনীতি, দেশের স্বাধীনতার ওপরে বড় রকমের চাপ সৃষ্টি করেছে। এক্ষেত্রে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকার কোনো কার্যকরী উদ্যোগ নিতে পারছে না। তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।’

ফখরুল বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম চীনে প্রধানমন্ত্রী গেলে যেখান থেকে একটা পজেটিভ কোনো উত্তর পাব- সেটাও আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমরা দেখলাম যে, চীন তার একই অবস্থানেই আছে এবং সেখানে কোনো কিছু আমাদের জন্য উপযোগী কথা চীনা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাইনি। এ বিষয়ে আমরা কুটনীতিকদের ব্রিফিং করব এবং তার আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাবো।’

সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ছে উল্লেখ করে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং সিস্টেমটা একেবারে ভেঙে পড়েছে। আপনারা দেখেছেন যে, তিনদিন আগে পিপলস লিজিং ফাইন্যান্স কোম্পানিটিকে আমানতকারীদের ২৩৬ কোটি টাকা ফেরত না দিয়েই বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটিকে অবসান করেছে। সেটা নজিরবিহীন ঘটনা। ফলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আমানতকারীরা চরম অনিশ্চয়তা মধ্যে পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এ বিষয়টি গোটা ব্যাংকিংয়ের যে সিস্টেমের একটা প্রতিকী ঘটনা। এইভাবে গোটা ব্যাংকিং সিস্টেম ভেঙে পড়েছে। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক এককভাবে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা না করে এবং ওই প্রতিষ্ঠানটি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করে বন্ধ করে দেয়ার ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এ ব্যাপারে পুঁজিবাজারের আমানতকারীসহ ব্যাংকিং ব্যবস্থার বেহাল অবস্থার বিষয়ে ভবিষ্যতে দলীয় কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভাগীয় শহরে সমাবেশের কর্মসূচি শুরু হবে শিগগিরই।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ১৮ তারিখে বরিশালে, ২০ তারিখ চট্টগ্রাম ও ২৫ তারিখ খুলনায় সমাবেশ এখন পর্যন্ত কনফার্ম করেছি। আমরা আশা করছি, আগামী ৩০ তারিখের মধ্যে বাকি বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ করতে পারব। ইতোমধ্যে এই সিদ্ধান্ত আমরা নিয়ে নিয়েছি।’

ফখরুল বলেন, ‘আমাদের দলের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘকাল ধরে কারারুদ্ধ রয়েছেন এবং চিকিৎসার জন্য এখন হাসপাতালে রয়েছেন। কিন্তু আমরা খোঁজ-খবর নিয়ে জেনেছি, তার স্বাস্থ্যের কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখছি না। তার শারীরিক যেসব সমস্যা ছিল তার কোনো সমাধানই হয়নি। উপরন্তু সমস্যা বেড়েই চলেছে।’

একাদশ সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল এবং সারাদেশে সংঘটিত নারী-শিশু ধর্ষণ-হত্যা-গুমের বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে কয়েকদিনের মধ্যে আলাদা আলাদাভাবে সংবাদ সম্মেলন করে করণীয় দেশবাসীর কাছে তুলে ধরার কথাও জানান তিনি।

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিকেলে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির এই বৈঠক হয়। লন্ডন থেকে স্কাইপিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। বিকেল সোয়া পাঁচটায় শুরু হয় বৈঠক চলে প্রায় দুই ঘণ্টা।

এই বৈঠকে মহাসচিব ছাড়াও খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ছিলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। দলের স্থায়ী সদস্যদের কাছে বৈঠকের একদিন আগে বৈঠকের আলোচ্যসূচি সংবলিত কাগজপত্রসহ একটি ফোল্ডার বিশেষ বার্তা প্রেরকের মাধ্যমে পাঠানো হয়।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দায়িত্বে আসার পর নতুন এই নিয়ম চালু হলো। শনিবারের বৈঠকে সকল সদস্যই ফোল্ডার হাতে নিয়ে বৈঠকস্থলে ঢোকেন।

কেএইচ/এমআরএম/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :