এটা ঝুলন্ত সরকার : ব্যারিস্টার মইনুল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২৯ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০১৯

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকার ভোট ডাকাতির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে জনগণের শক্তিকে অস্বীকার করা হয়েছে। ফলে বর্তমান সরকার যতই পুলিশি শক্তি দেখাক না কেন, আসলে এটা একটা ঝুলন্ত সরকার।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক আইনজীবী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

ব্যারিস্টার মইনুল বলেন, আইনের শাসন থেকে দেশ আজ বঞ্চিত। মানুষের আজকে ভোটাধিকার নাই। আইনজীবী হিসেবে আপনারা চেষ্টা চালিয়ে যান, আমরা যেন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে বলতে পারি, আমরা আইনের শাসন চাই, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চাই, মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে চাই। রাজনীতির শক্তি জনগণ, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। বর্তমান সরকার ভোট ডাকাতির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে জনগণের শক্তিকে অস্বীকার করা হয়েছে। ফলে বর্তমান সরকার যতই পুলিশি শক্তি দেখাক না কেন, আসলে এটা একটা ঝুলন্ত সরকার। সম্পূর্ণভাবে এই সরকার পুলিশি শক্তি আর পুলিশি মামলার ওপর নির্ভরশীল। জামিন না দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার সহজ ব্যবস্থা তারা চালিয়ে যাচ্ছে। মামলা দিয়ে জামিন বাধাগ্রস্ত করা সরকারের রাজনৈতিক শক্তি। এটা রাজনীতি নয়, রাজনীতি বিদ্যা-বুদ্ধির ব্যাপার, এটা পুলিশি শক্তির ব্যাপার নয়।

সরকার দুর্বৃত্তায়নে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্ষমতায় থাকতে হচ্ছে- এমন দাবি করে তিনি বলেন, দেশব্যাপী ভয়ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ব্যবহার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে টর্চার সেলের মাধ্যমে ছাত্রদের নির্যাতন করা হয়। এটা কতটা মর্মান্তিক, কতটা নিষ্ঠুর যে তাদেরই এক সহপাঠীকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। এটা শুধু এক জায়গায় হচ্ছে না, সারা বাংলাদেশে এ রকম নির্যাতন হচ্ছে। দেশে একটা অরাজকতা পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। আইন নেই আছে শুধু পুলিশি ক্ষমতা।

সরকারের ভেতরের চিত্র বেরিয়ে আসছে এমন দাবি করে মইনুল হোসেন বলেন, ক্যাসিনো ব্যবসা করে যে শতকোটি টাকার খেলা খেলেছে, সম্রাট ‘সম্রাট’ হয়েছে এটা প্রকাশ পেয়েছে। আজকে সরকারের ভেতরের চিত্র বহিঃপ্রকাশ পাচ্ছে। উন্নয়নের রাজনীতির নামে কী করেছে তাদের লোকের মাধ্যমেই জাতির সামনে প্রকাশ পাচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যে আমরা জানতে পারব, কারা হাজার হাজার কোটি টাকা এদেশ থেকে পাচার করেছে।

আবেগ দিয়ে রাজনীতি হবে না এমনটি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারে সরকার ভেসে যাচ্ছে। দেশব্যাপী চলছে ভয়াবহ নৈরাজ্য। আমি ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করেছি যে, শান্তিপূর্ণভাবে একটা রাজনৈতিক সমাধান আসুক। রাজনীতি হচ্ছে একটি কৌশল। এটা স্লোগানের বিষয় নয়, রাস্তায় নেমে আন্দোলনের বিষয় নয়। আন্দোলন করে আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করলাম কিন্তু স্বাধীন দেশে আমরা স্বাধীন নই। বিদ্যা বুদ্ধি দিয়ে রাজনীতি করতে হবে, শুধু আবেগ দিয়ে হবে না।

বিচার বিভাগ স্বাধীন হলে খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য আন্দোলন করা লাগতো না-এমন দাবি করে মইনুল হোসেন বলেন, অসুস্থ খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সুযোগের জন্য জামিন পাওয়া তার অধিকার। সত্যি কথা বলতে স্বাধীন বিচার বিভাগ হলে এই বিষয়ে এতো আন্দোলন, বক্তব্য, বিবৃতির দরকার পড়ত না। পাকিস্তানের নওয়াজ শরীফকেও অসুস্থতার জন্য জামিন দেয়া হয়েছিল। জামিন দেয়া তো মুক্তি নয়। মুক্তির দাবি আপনারা করেন। কিন্তু একজন বয়স্ক মহিলাকে চিকিৎসার জন্য জামিনে মুক্তি দেয়া যাবে না, এটা অত্যন্ত অমানবিক।

গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়া মুক্তি আইনজীবী আন্দোলনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, চেয়ারপারসনের উদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব, বিএনপির নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা প্রমুখ।

কেএইচ/জেএইচ/জেআইএম