এবার পাল্টা কাউন্সিল ঘোষণা ‘আসল বিএনপি’র


প্রকাশিত: ০২:২২ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয় দখলের প্রচেষ্টার পর এবার পাল্টা কাউন্সিল করার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির পুনর্গঠনের মুখপাত্র দাবিদার ও ‘আসল বিএনপি’ হিসেবে পরিচিত কামরুল হাসান নাসিম। আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় বিএনপির কাউন্সিলকে ‘ব্যক্তি বিশেষের ডাকা ও নকল কাউন্সিল’ হিসেবে উল্লেখ করে ‘অর্থবহ’ কাউন্সিল করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে কাউন্সিলের সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করেননি নাসিম।

মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) গোলটেবিল মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসিম বলেন, ‘বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দলীয় বিপ্লব সংগঠিত হবে। এর অংশ হিসেবে জাতীয়তাবাদী জনতার নিম্ন আদালত’র রায় অনুযায়ী যেকোনো সময়ে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ‘জাতীয়তাবাদী জনতার উচ্চ আদালত’ বসবে। আর আদালত বসার পরই কেবল কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।’

বিএনপির পুনর্গঠন প্রসঙ্গে কামরুল হাসান নাসিম বলেন, ‘মা খালেদা জিয়া ও ভাই তারেক রহমান যুক্ত কিন্তু তাদের নেতৃত্বমুক্ত বিএনপি করতে হবে। দলে জিয়াউর রহমানের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় যা করার দরকার তাই করা হবে।’

গত ২৬ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘জাতীয়তাবাদী জনতার নিম্ন আদালত’ বসান কামরুল হাসান নাসিম। ওই আদালত থেকে দলীয় সংবিধান (গঠনতন্ত্র) স্থগিত এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ‘জাতীয়তাবাদী জনতার উচ্চ আদালত’ বসানোর জন্য রায় দেয়া হয়। সে অনুযায়ী, দুইবার চেষ্টা করেও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে উচ্চ আদালত বসাতে ব্যর্থ হন নাসিম।

কাউন্সিল প্রসঙ্গে কামরুল হাসান নাসিম বলেন, ‘নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী জনতার উচ্চ আদালত বসবেই। দলের পক্ষ থেকে আমি সেখানে বাদীর ভূমিকায় থাকতে চাইব। বিচারক হিসেবে থাকবেন বিএনপির গেল ২০ বছরের কাউন্সিলরেরা (৫০ থেকে ৫৫ হাজার)। তারা দলের নেতৃত্ব নির্ধারণ ও দলকে পুনর্গঠন করবেন। ওই আদালতের পরিক্রমা চলবে ৭ দিন ১৭ ঘণ্টা। এরপরে যদি বিচারকেরা (জনতা-কাউন্সিলর) দলের গঠনতন্ত্র স্থগিত করার নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন, তবে এরপর নির্বাচন কমিশন ঘোষিত দলের গঠনতন্ত্র স্থগিত করার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে অর্থবহ কাউন্সিল করা হবে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপির পক্ষ থেকে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সারাদেশের কাউন্সিলরদের (গেল ২০ বছরের) কাছে চিঠি যাবে। আর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যখন উচ্চ আদালত বসবে, তখন ৭ দিনের মধ্যে সব কাউন্সিলররা ঢাকায় আসবেন।’

কামরুল হাসান নাসিম নিজেকে বিএনপি পুনর্গঠনের মুখপাত্র দাবি করলেও সংবাদ সম্মেলনে দলটির কোনো পর্যায়ের কোনো নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি।

এমএম/জেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :