রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি দল সুন্দরবনে


প্রকাশিত: ০২:০৮ পিএম, ২৪ মার্চ ২০১৬

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পশুর নদীর তীরে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রভাবে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের ক্ষতির বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ইউনেস্কোর তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল এখন সুন্দরবনে অবস্থান করেছেন।

প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ঢাকা থেকে আসা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা, বনবিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা রয়েছেন বলে জানান বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. জাহাংগীর আলম।

প্রতিনিধি দলের সঙ্গে থাকা বন ও প্ররিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. মহিউদ্দিন জানান, ইউনেস্কোর প্রতিনিধি দলটি রামপালে নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাক পরিদর্শন শেষে ঢাকায় ফিরে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, নৌ মন্ত্রণালয়সহ সুন্দরবন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদদফতরের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।

ইউনেস্কোর প্রতিনিধি দলের তিন সদস্যে মধ্যে রয়েছেন, ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান ইউনিটের প্রকল্প কর্মকর্তা ফ্যানি এডোলফিন এম ডোভের, যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রকৃতি সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ নওমি ক্লার ও বিশ্ব ঐতিহ্যের পর্যবেক্ষণ কর্মকর্তা মিজুকি মুরাই।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের ডিএফও মো. সাইদুল ইসলাম জানান, আগামী ২৮ তারিখ পর্যন্ত তাদের সুন্দরবনে থাকার কথা রয়েছে।

প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে ‘ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডে’র (এনটিপিসি) প্রকল্প এলাকা ছাড়াও সুন্দরবনের পশুর নদী, শ্যালা নদী, মংলা বন্দর, করমজলসহ যে সকল এলাকায় তেলের ট্যাংকার, কয়লা বোঝাই কার্গো  ডুবেছে সেই সকল এলাকা ঘুরে দেখা ছাড়াও এসকল এলাকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গবেষক এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন বলেন জানান বন্য প্রাণি ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) জাহিদুল কবির।

২০১২ সালে বাংলাদেশ ও ভারত সরকার যৌথভাবে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সাপমারী-কৈদাসকাঠি মৌজায় এক হাজার ৭৩৪ একর জমির উপর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের ক্ষতির কথা চিন্তা না করেই  সুন্দরবনের ১৪ কিলোমিটারের মধ্যে রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে- এমন দাবি করে তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ এবং বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন এ প্রকল্প বন্ধের জন্য আন্দোলন চালিয়ে আসছে। তবে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি করবে না এমন দাবি  করে সরকার এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ দ্রুতই এগিয়ে নিচ্ছে।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা- ইউনেস্কো ১৯৯৭ সালে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যর তালিকাভুক্ত করে। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে ইউনেস্কোর বার্ষিক সাধারণ সভায় সুন্দরবনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, বনের ভেতর নৌ-চলাচল, আশপাশে শিল্প কারখানা ও শ্যালা নদীতে তেল ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে উদ্বেগ জানানো হয়।

বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. মহিউদ্দিন আরো বলেন, দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে রামপাল কয়লাবিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে সুন্দরবনের ক্ষতির আশঙ্কার বিষয়টি উঠে আসায় ইউনেস্কো বাংলাদেশে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সুন্দরবন ঘুরে প্রতিনিধি দলটি তাদের পর্যবেক্ষণ ইউনেস্কোর সদর দফতরে জমা দেবে।

শওকত আলী বাবু/এআরএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।