মালয়েশিয়ায় নাশিদ ইনটিমের মানবতার জয়গান

আহমাদুল কবির
আহমাদুল কবির আহমাদুল কবির , মালয়েশিয়া প্রতিনিধি মালয়েশিয়া
প্রকাশিত: ১১:০৯ এএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইসলামী সংস্কৃতি, সংগীত ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে জনপ্রিয় মালয়েশিয়ান নাশিদ দল ইনটিম। তাদের সংগীতজীবনের পঁচিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘কনসার্ট টুয়েন্টি ফাইভ তাহুন ইনটিম নুর কাসিহ’-এ পারসাতুয়ান কেবাজিকান আল-ফিকরাহ মালয়েশিয়াকে দশ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত অনুদান দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রবাসী মুসলমানদের কাছে ইনটিমের গান দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মীয় অনুভূতি, নৈতিকতা ও আত্মশুদ্ধির অনুপ্রেরণা হিসেবে পরিচিত। সেই দলটির রজতজয়ন্তী কনসার্টে মানবিক উদ্যোগ যুক্ত হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া পড়েছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বুকিত জলিলের অ্যাক্সিয়াটা অ্যারিনাতে অনুষ্ঠিত এই কনসার্টে তিন পক্ষের যৌথ উদ্যোগে অনুদানটি দেওয়া হয়। অনুদানদাতারা হলেন- ইনটিম নিজে, কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী দাতুক এম নাসির এবং কনসার্টের আয়োজক প্রতিষ্ঠান আইকন এন্টারটেইনমেন্ট।

ইনটিমের পক্ষে দলের সদস্য রহিম বলেন, এই অনুদান একটি আন্তরিক প্রয়াস, যেন সংগীতের আনন্দের সঙ্গে সমাজের কল্যাণেও আমরা ভূমিকা রাখতে পারি।

মালয়েশিয়ায় নাশিদ ইনটিমের মানবতার জয়গান

অনুষ্ঠানে দাতুক এম নাসির প্রতীকী চেক হস্তান্তর করেন এবং পরে ইনটিমের সঙ্গে মঞ্চে উঠে পরিবেশন করেন তার আবেগঘন গান ‘বোন্দা’ যা মালয়েশিয়ান ও প্রবাসী দর্শকদের স্মৃতিতে মায়ের ভালোবাসা ও শেকড়ের টানকে নতুন করে নাড়া দেয়।

২৫ বছর পূর্তির এই বিশেষ কনসার্টে ইনটিম পরিবেশন করে তাদের ২৫টিরও বেশি জনপ্রিয় নাশিদ। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে পরিচিত ও প্রিয় গান ‘দিয়া মুহাম্মদ’, ‘কাশিহ কেকাসিহ’, ‘সিতি খাদিজাহ’, ‘রাবিয়াতুল আদাবিয়াহ’ ছাড়াও মেডলি আকারে পরিবেশিত হয় ‘কাশিহকু আবাদি’, ‘রাতু শাহাদাহ’, ‘সাতুকান কামি দি সুরগা’ এবং ‘নূর কাসিহ’।

নাজরি জোহানি ও জিজি কিরানার উপস্থিতিতে কনসার্টটি আরও বর্ণিল হয়ে ওঠে। অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শক জানান, এই কনসার্ট তাদের জন্য ছিল শুধু বিনোদন নয়-বরং প্রবাসজীবনের ক্লান্তিতে আত্মিক প্রশান্তির এক অনন্য মুহূর্ত।

ইনটিমের এই মানবিক উদ্যোগ প্রমাণ করে সংগীত শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং তা হতে পারে সমাজকল্যাণ ও মূল্যবোধ জাগ্রত করার শক্তিশালী হাতিয়ার।

এমআরএম/এমএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]