যুক্তরাজ্যে পুলিশ ব্যবস্থায় বড় সংস্কারের ঘোষণা

এস ইসলাম
এস ইসলাম এস ইসলাম , লন্ডন থেকে
প্রকাশিত: ১২:৫৮ পিএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি-সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের পুলিশ ব্যবস্থায় গত দুই শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে বড় সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির হোম অফিস। হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদের উদ্যোগে প্রকাশিত শ্বেতপত্রে পুলিশিং ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব করার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

হোম অফিস সূত্রে জানা গেছে, “From Local to National: A New Model for Policing” শিরোনামের এই শ্বেতপত্রে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে পুলিশিংয়ের মধ্যে নতুন ভারসাম্য তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর লক্ষ্য হলো-একদিকে স্থানীয় অপরাধ দমন জোরদার করা, অন্যদিকে জটিল ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী জাতীয় কাঠামো গড়ে তোলা।

প্রস্তাবিত সংস্কারের অংশ হিসেবে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বর্তমানে বিদ্যমান ৪৩টি পুলিশ ফোর্সের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করবে সরকার। হোম অফিসের মতে, ফোর্স একীভূত হলে খরচ কমবে, প্রযুক্তি ও সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং জনসেবার মান বাড়বে।

গুরুতর ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে নতুন করে ন্যাশনাল পুলিশ সার্ভিস গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই বাহিনী জাতীয় অপরাধ সংস্থা, সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট, আঞ্চলিক অপরাধ দমন ইউনিট এবং পুলিশ হেলিকপ্টার সার্ভিসকে একীভূতভাবে পরিচালনা করবে।

হোম অফিস জানায়, এতে স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর ওপর চাপ কমবে এবং তারা জনগণের দৈনন্দিন নিরাপত্তায় আরও বেশি সময় দিতে পারবে।

শ্বেতপত্র অনুযায়ী, ব্যর্থ পুলিশ ফোর্সের বিরুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপের ক্ষমতা দেওয়া হবে হোম সেক্রেটারিকে। অপরাধ দমনে ব্যর্থতা বা ধীরগতির জরুরি সাঁড়ার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হবে। প্রয়োজনে প্রধান কনস্টেবলকে অপসারণের আইনগত ক্ষমতাও পুনর্বহাল করা হবে।

এছাড়া, পুলিশ সদস্যদের জন্য বাধ্যতামূলক ভেটিং ব্যবস্থা, লাইসেন্স টু প্র্যাকটিস এবং নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতায় জড়িতদের বাহিনী থেকে বাদ দেওয়ার কঠোর নীতিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

হোম অফিস জানিয়েছে, পুলিশ প্রযুক্তিতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ করা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, লাইভ ফেশিয়াল রিকগনিশন, ডিজিটাল ফরেনসিক্স ও আধুনিক ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত ও তদন্তের গতি বাড়ানো হবে।

সংস্কারের মাধ্যমে প্রতিটি এলাকায় দৃশ্যমান নেবারহুড পুলিশিং নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ দ্রুত সাড়া, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে হোম অফিস।

পুলিশ কর্মকর্তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ হেল্পলাইন, নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ট্রমা ট্র্যাকিং সফটওয়্যার চালুর কথাও শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

হোম অফিসের মতে, এই সংস্কার বাস্তবায়িত হলে পুলিশ ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী হবে, যা শেষ পর্যন্ত জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এমআরএম/এমএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]