আমাদের তৃতীয় সন্তানের জন্ম

মো. ইয়াকুব আলী
মো. ইয়াকুব আলী মো. ইয়াকুব আলী
প্রকাশিত: ০৪:২৯ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২১

মানুষ হিসেবে পুরুষের সবচেয়ে বড় অক্ষমতা সে সন্তান ধারণ করতে পারে না, তাই একজন সন্তানের প্রতি সে যতটা ভালোবাসায় অনুভব করুক না কেন একজন মায়ের ভালোবাসার তুলনায় সেটা একেবারেই অপ্রতুল। আমাদের প্রথম এবং দ্বিতীয় সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে আমার স্ত্রীর কষ্টের দিনগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছি, বুঝেছিলাম পৃথিবীতে এর চেয়ে কষ্টের কোনো কাজ নেই।

সন্তান গর্ভে ধারণ করার যে প্রক্রিয়া সেটা একেবারে আলাদা এবং সেটা শুধুমাত্র একজন মা’ই অনুভব করেন। দিনের কাজ শেষে ঘুমিয়ে পড়েছি। হঠাৎ গোঙানির মতো শব্দে ঘুম ভেঙে দেখি আমার স্ত্রী দেয়ালের সঙ্গে পিঠ দিয়ে সোজা হয়ে বসে আছেন। কারণ জিজ্ঞেস করাতে উত্তর দিলেন, বাচ্চাটা পেটের মধ্যে লাথি দিচ্ছে তবে বসে থাকলে সেটা একটু কম অনুভব হচ্ছে।

দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের সময় তাকে আরো বেশি কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হলো কারণ ততদিনে আমরা সপরিবারে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে এসে বসবাস শুরু করেছি। দূর-পরবাসের স্বজনহীন পরিবেশে আমার স্ত্রীর জন্য সময়টা আরো কঠিন হয়ে গেল। আমি সারাদিন একটা শিশুখাদ্য তৈরির প্রতিষ্ঠানে ঝাড়ুদারের কাজ করি।

jagonews24

আমি বরাবরই আমার কাজগুলো একটু সৎভাবে করার চেষ্টা করি তাই দেখা যায় অন্যদের তুলনায় একই সময়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ কাজ করে ফেলি। খুশি হয়ে সুপারভাইজার আমাকে একইসাথে কখনও দেড় শিফট আবার কখনও দুই শিফট কাজ দিয়ে দেন কারণ আমাদের বাসা থেকে কাজে যেতে দু’ঘণ্টার বেশি সময় লাগে আবার ফিরে আসতেও একই রকম সময় লাগে। এভাবে কাজ করতে গিয়ে আমি আর সংসারে নজর দিতে পারি না।

আমার স্ত্রী সারাদিন ঘরের কাজের পাশাপাশি মেয়েটাকে স্কুলে দিতে যাওয়া এবং নিজের কাজও করত। আর রান্না-বান্নাতো ছিলই। উপরন্তু ছিল নিজের পরীক্ষার জন্য পড়াশোনার চাপ। আমি শুধুমাত্র কাজ করে এবং বাজার করেই নিজের দায়িত্ব শেষ করতাম।

বিদেশের জীবন খুবই কঠিন হয়ে যায় যদি আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং একটা চলার মতো গাড়ি না থাকে। আমি সপ্তাহের পাঁচদিন কাজ করে সপ্তাহান্তের দুই দিন গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নিই। এতে প্রত্যেক সপ্তাহেই আমাকে আবার শুরু থেকে লেসন নিতে হয়।

এভাবে লেসন নিতে যেয়ে হাড়ভাঙা খাঁটুনির পুরো টাকাটায় চলে যেত প্রশিক্ষকের পেছনে। আমরা তিনজনেই বাসে ট্রেনে চলাচলের জন্য ওপাল কার্ড করে নিয়েছিলাম। সেটা দিয়েই আমার স্ত্রী ডাক্তার এবং হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করত।

এভাবে চলতে চলতে শেষের দিকে এসে বেচারা আর নিতে পারছিল না। একদিন মেয়েটাকে স্কুলে দিয়ে ফেরার পথে রাস্তার পাশের কংক্রিটের ফুটপাতের উপর মাথা ঘুরে পড়ে যায়। তখন আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে আমাদের বাসায় পৌঁছে দেয়।

এরপর থেকে আমাদের প্রতিবেশী মানহার মা আমাদের মেয়েকে স্কুলে দিতে যাওয়া এবং নিয়ে আসার দায়িত্ব নিয়ে নেন। তাদের মেয়ে মানহা আমাদের মেয়ের সঙ্গে একই স্কুলে একই ক্লাসে পড়ে। এরপর হাসপাতালে যাওয়া আসার জন্য আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন তৃপ্তি আপু। কিছু কিছু মানুষ থাকেন ঘরের খেয়ে পরের মোষ তাড়িয়ে বেড়ান।

তিনিও তেমনই একজন মানুষ। কয়েকদিনের পরিচয়েই তিনি আমাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন। বিদেশে সবাই এভাবেই একজন অপরজনের বিপদের দিনে পাশে এসে দাঁড়ায়। স্বজন হারিয়ে বিদেশে এসে সবাই এভাবেই আশপাশের মানুষদের মধ্যে নিজের স্বজনদের খুঁজে পায়।

এরপর আমরা একদিন সপরিবারে বাসে করে ক্যাম্বেলটাউন হাসপাতালে গেলাম চেকআপের জন্য কিন্তু বলে দেয়া হয়েছিল যেন সব ধরনের প্রস্তুতি থাকে কারণ যে কোনো সময় সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার সুযোগ আছে। সেখানে যাওয়ার পর আমাদের জানানো হলো তারা আজকেই সিজার সেকশন করবেন।

jagonews24

আমি আর আমাদের মেয়ে তাহিয়া হাসপাতালে অপেক্ষা করা শুরু করলাম। সাধারণত সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার সময় পিতাকেও সেখানে রাখা হয় যাতে করে একজন পিতা কিছুটা হলেও মায়ের কষ্ট উপলব্ধি করতে পারেন কিন্তু আমি সেখানে যেতে পারলাম না কারণ তাহলে আমাদের মেয়েকে দেখার কেউ থাকবে না।

এরপর একটা সময় মা এবং আমাদের দ্বিতীয় সন্তান রায়ানকে আমাদের কোলে তুলে দেয়া হলো। সিজার সেকশন করতে গিয়ে ডাক্তারেরা আমার স্ত্রীর নার্ভে দুটো বেশি ছিদ্র করে ফেলেছিলেন ফলে সেখান দিয়ে তরল পদার্থ বের হয়ে তার নিম্নাঙ্গ মোটামুটি অকেজো হয়ে গিয়েছিল।

তিনদিন টানা বিছানার সাথে পিঠ লাগিয়ে শুয়ে থাকতে হয়েছিলো। সেই সময়টা ছিলো আরো ভয়ংকর। এরপর একটা সময় সব ঠিকঠাক হলে তৃপ্তি আপুর গাড়িতে করে মা এবং পুত্র বাসায় ফিরে আসলো। আমি আর তাহিয়া মিলে সামান্য একটু আয়োজন করেছিলাম।

আমি আমার অফিস থেকে নতুন শিশু আগমনের বার্তা সংবলিত কিছু কাগজ প্রিন্ট করে এনেছিলাম। সেগুলোই আমরা দুজন মিলে আমাদের ছোট গ্র্যানি ফ্ল্যাটের দরজা, জানালা এবং দেয়ালে টাঙিয়ে দিলাম। আর তৃপ্তি আপু নিয়ে এসেছিলেন একটা ফুলের তোড়া। এভাবেই একজন নতুন শিশুকে অভ্যর্থনা জানানো হলো।

এইবার আসা যাক আমাদের তৃতীয় সন্তান জন্মদানের গল্পে। দেশে থাকতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতটা অ্যাকটিভ কখনও ছিলাম কারণ আমার কাছে এটাকে মনে হত বন্ধুহীন মানুষের বন্ধু খোঁজার জায়গা। বাস্তব জীবনে অনেক বন্ধু-বান্ধব থাকার কারণে ভার্চুয়াল জগতে আর আলাদাভাবে বন্ধুর দরকার হতো না।

কিন্তু এই দূর পরবাসের জীবনে ফেসবুক হয়ে উঠলো নিত্য বিষয় বিশেষ করে দেশে ফেলে আসা বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সহজেই যোগাযোগ করা যায়।

সিডনি আসার পর প্রথম সপ্তাহেই মনের অনুভূতি জানিয়ে ফেসবুকে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম ‘ওম’ শিরোনামে বিষয়বস্তু ছিলো দূর পরবাসের জীবনে মানুষ বিশেষ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সবকিছু পেলেও পায় না দেশে ফেলে আসা প্রিয়জনদের স্পর্শ এবং ওম।

বন্ধুদের উৎসাহেই লেখাটা একটা পত্রিকার ‘দূর পরবাস’ বিভাগে পাঠিয়েছিলাম এবং যথারীতি ভুলেও গিয়েছিলাম কারণ তখন আমাদের জীবনযাপন ছিল একেবারে ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ অবস্থায়।

এরপর একদিন হঠাৎ সম্পাদকের একটা ফিরতি ইমেইল পেলাম সঙ্গে প্রকাশিত লেখার লিংক। তিনি লেখাটার শিরোনাম বদলে ‘প্রিয়জনের ওম’ করে দিয়েছিলেন আর সাথে কিছু প্রাসংগিক ছবিও জুড়ে দিয়েছিলেন। সেই লেখাটা অনেক পাঠকপ্রিয়তা পায়।

এরপর থেকে অবিরাম লিখে চলেছি। সম্পাদক মাঝেমধ্যেই উৎসাহ দিয়ে বলতেন, ইয়াকুব ভাই লেখাগুলো কোথাও সংরক্ষণ করেন যাতে ভবিষ্যতে বই বের করতে পারেন। আমি সেকথা হেসেই উড়িয়ে দিতাম সবসময় কারণ আমার কাছে আমার লেখাগুলো ছিল শুধুমাত্র আবেগের বহিঃপ্রকাশ।

আমার মনে সবসময় একটা সংশয় কাজ করে সেটা হলো সাহিত্যের মানদণ্ড বিবেচলায় আদৌ এগুলো লেখা হয় কি না কিন্তু তারা ভাই বরাবরই উৎসাহ দিতেন। একবার একটা লেখা প্রকাশিত হয়েছিল ‘একটি জাতি সভ্য হয় কিভাবে’ সেটাও অনেক বেশি পাঠক-প্রিয়তা পায়।

এরপর অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পাওয়ার পর লিখেছিলামঃ ‘বিদেশের নাগরিকত্ব কি বিস্বাসঘাতকার ছাড়পত্র’ এই লেখাটাও অনেক পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছিল। এভাবেই চলছিল কিন্তু ঘূর্ণাক্ষরেও বই প্রকাশের ভাবনা মনের মধ্যে ঠাঁই দিইনি কারণ আমার মতে ‘বই প্রকাশ করা সহজ কিন্তু বিক্রি করা কঠিন’ আর আমি অন্যের বই বিক্রির বেলায় যতটা মুখরা নিজের বেলায় ঠিক ততটাই লাজুক।

হঠাৎ একদিন ফেসবুকে আমাদের বুয়েটের বড় ভাই এবং প্রখ্যাত লেখক মহিউদ্দিন খালেদের একটা পোস্ট দেখলাম যে তিনি এবং আমাদের আরেক বড় ভাই ব্রত রায় মিলে একটা প্রকাশনী দাঁড় করিয়েছেন নাম ‘প্র প্রকাশনী’ আমি শখের বসেই পত্রিকার পাতা থেকে লেখাগুলোকে কপি এবং পেস্ট করে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ফাইলে নিয়ে প্রকাশনীর ই-মেইলে মেইল করলাম।

এর কয়েকদিন পরে ব্রত দাদা সরাসরি একটা প্রচ্ছদ বানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করে আমাকে ট্যাগ করে দিলেন। সেদিন ছিল শুক্রবার। আমি একটু তাড়াতাড়ি অফিস শেষ করে বাসায় ফিরে ছেলেটাকে নিয়ে সুইমিং পুলে গিয়েছিলাম। সে সুইমিং পুলে সাঁতার কাটে আর আমি পারে বসে বসে গল্পের বই পড়ি আর ফাঁকেফাঁকে ফেসবুক চেক করি যদিও ওখানে নেটওয়ার্ক খুবই দুর্বল।

আমি সেই পোস্ট দেখে ঝিম মেরে বসে রইলাম। মাথাটা ঠিকঠাক কাজ করছিল না। আমার নাম ছাপার অক্ষরে প্রকাশ হবে এই ব্যাপারটা আমার মস্তিস্ক কোনভাবেই গ্রহণ করতে পারছিল না।

বাসায় ফিরেও ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না কি করা উচিত। আমার স্ত্রী এবং মেয়েকে ঘটনাটা বলার পর মেয়ে খুবই উত্তেজিত হয়ে গেলো কারণ সে সবার কাছে বলে বেড়ায় তার বাবা একজন লেখক। গিন্নী বরাবরের মতোই নির্মোহ থাকলো।

রাতে দেশে ফোন করে আব্বা-মাকে অনেক কষ্টে বই প্রকাশের কথাটা বললাম কিন্তু শ্বশুর শাশুড়িকে আর বলতে পারলাম না কারণ অনেক লজ্জা লাগছিল। প্রায় প্রতি শুক্রবার রাতেই আমাদের কফি আড্ডা জমে বাসার পাশের সেভেন ইলেভেন তেল পাম্পে। কারণ এই চেইন তেলপাম্পটাই সারারাত খোলা থাকে আর ওখানে সস্তায় কফিও পাওয়া যায়।

আশফাক ভাই, মিথুন ভাই, মিথুন ভাইয়ের ছেলে তামজীদ, রূপক ভাই আর আমি মোটামুটি এই আড্ডার নিয়মিত সদস্য, মাঝে মধ্যে অন্যরাও এসে যোগ দেয়। সেখানে বিষয়টা বলতেই পরেরদিন তাদেরকে খাওয়ানোর দাবি উঠলো। আমি লাজুকভাবে সেটাও মেনে নিলাম।

jagonews24

এরপর ব্রত দাদা সব লেখাগুলোকে বিষয়ভিত্তিক তিনটি ভাগে ভাগ করে তিনটি প্রচ্ছদ তৈরি করে ফেললেন। স্মৃতিকথা নিয়ে বইটির নাম দিলেনঃ ‘নদীর জীবন’, অস্ট্রেলিয়ার জীবনযাপন নিয়ে বইটির নামঃ ‘অস্ট্রেলিয়ার ডায়রি’ আর অস্ট্রেলিয়ার ভ্রমণ কাহিনিগুলোর সংকলনের নামঃ ‘অস্ট্রেলিয়ার পথে পথে’।

এভাবে প্রচ্ছদ ঠিক হয়ে যাওয়ার পর শুরু হলো লেখা বাছাই পর্ব। বলা বাহুল্য পুরো কাজটা করলেন ব্রত দাদা একাই। এরপর যখন আসলো প্রুফ দেখার প্রসঙ্গ তখন আমার গায়ে জ্বর চলে আসলো কারণ আমি আমার জীবনে কোনো পরীক্ষার উত্তরপত্র পর্যন্ত রিভাইস দিইনি।

প্রচন্ড আলসেমী লাগে তবুও জোড়াতালী দিয়ে অনেক সময় নিয়ে নদীর জীবন বইটার প্রুফ দেখে দিলাম। এরপর বই আকারে প্রিন্ট হয়ে আসতে বেশ কিছুদিন সময় লাগলো।

বইমেলায় ‘প্র প্রকাশনী’র নিজস্ব কোনো স্টল নেই তাই এই বইটা পাওয়া যাচ্ছে ১৯১ নং আনন্দম এর স্টলে কিন্তু ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে লকডাউন শুরু হয়ে গেছে তাই বই মেলাতে বিক্রি মোটামুটি শূন্যের কোটায়। এছাড়াও বইটি অনালাইনে কিনতে পারবেন।

যাইহোক এখন যখন দেশ বিদেশ থেকে মানুষ আমার অটোগ্রাফসহ বই চেয়ে পাঠাচ্ছে তখন সবকিছুই কেমন জানি স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে।

প্রুফ দেখার সময় ছিল যখন বাসার সবাই ঘুমাতে যেত কারণ অফিসের কাজ ফাঁকি দিয়ে লেখা চালিয়ে গেলেও প্রুফ অফিসে বসে দেখা সম্ভব হচ্ছিল না। আবার বাসায়ও সম্ভব না যতক্ষণ ছেলে-মেয়ে দুটো জেগে থাকে কারণ সারাদিনের অফিস শেষে সামান্য সময়ের জন্যই ওরা আমাদের দু’জনকে কাছে পায়।

সবাই ঘুমিয়ে গেলে আমি ডাইনিং টেবিলে ঘুম ঘুম চোখে প্রুফ দেখতে বসি। মাঝে মধ্যে আমার স্ত্রী উঠে এসে আমাকে দেখে যায় ঠিক যেভাবে সে সন্তান সম্ভবা থাকা অবস্থায় রাত জেগে থাকত আমার অবস্থাও অনেকটা সে রকম। এরপর বিভিন্ন সময়ে ব্রত দাদার বিভিন্ন প্রয়োজনগুলোও পাঠাতে হত।

বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার সময়ের পার্থক্য থাকাতে অবধারিতভাবেই সেটা হতো রাতের বেলায়। একবার জেগে উঠলে বইয়ের চিন্তায় আর ঘুমাতে পারতাম না। এভাবেই নির্ঘুম রাতগুলো কেটে যাচ্ছিল। ইতোমধ্যেই বই প্রকাশিত হয়েছে এবং বইমেলায় এসেছে কিন্তু তবুও কেন জানি বিশ্বাস হচ্ছে না যতক্ষণ পর্যন্ত না নিজের হাতে পাচ্ছি।

অনেকটা সন্তানকে কোলে নিয়ে দেখার মতো। এভাবেই আমাদের তৃতীয় সন্তানের জন্ম হয়েছে। আরো দুজন ভূমিষ্ঠ হওয়ার প্রহর গুনছে জানি না কবে তারা পৃথিবীর আলোর মুখ দেখবে।

অনলাইন পত্রিকাগুলোর প্রবাস বিভাগের প্রত্যেকটা পাঠক আমার বইগুলোর অংশীদার আর প্রবাস বিভাগের সম্পাদকদের উৎসাহ না পেলে কখনওই ঘড়ির কাঁটা ধরে চলা প্রবাস জীবনের ফাঁকে ফাঁকে এত দীর্ঘ সময় ধরে লেখালেখি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো না।

অসংখ্য ধন্যবাদ বাংলা অনলাইন পত্রিকাগুলোকে আমার মধ্যে লেখক সত্তাকে জাগিয়ে তোলার জন্য। নিজের বই প্রকাশ নিঃসন্দেহে আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন।

এমআরএম/এএসএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]