কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালু হচ্ছে ডিজিটাল ভিসা ব্যবস্থা
মিশরের পর্যটন খাতে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে আগামী আগস্ট থেকে কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালু হতে যাচ্ছে ডিজিটাল ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ ব্যবস্থা। পর্যায়ক্রমে মিশরের সব বিমানবন্দরে এ সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটির সরকার।
বুধবার (১৩ মে) এ সংক্রান্ত দুটি চুক্তি সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিশরের প্রধানমন্ত্রী ড. মোস্তফা মাদবুলি। নতুন এ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভিড় কমানো, আগমন প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং পর্যটকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও আধুনিক করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
চুক্তিগুলো স্বাক্ষর করে প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান, ন্যাশনাল ব্যাংক অব ইজিপ্ট এবং ব্যাংক মিশর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্বমন্ত্রী শরীফ ফাতহি এবং মিশরের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপ-গভর্নর মোহাম্মদ আমের।
প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবুলি বলেন, নতুন এই ব্যবস্থা মিশরের ডিজিটাল রূপান্তর কৌশলকে আরও এগিয়ে নেবে এবং পর্যটকদের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর মুহূর্ত থেকেই উন্নত সেবা নিশ্চিত করবে।

নতুন প্ল্যাটফর্মের আওতায় ভিসা অন অ্যারাইভালের জন্য যোগ্য ভ্রমণকারীরা বিমানবন্দরের সেলফ-সার্ভিস কিয়স্ক, নির্ধারিত ওয়েবসাইট অথবা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের তথ্য জমা দিতে পারবেন। এরপর অনলাইনে ভিসা ও সেবা ফি পরিশোধ করলে একটি QR কোড প্রদান করা হবে, যা ইলেকট্রনিক ভিসা স্ট্যাম্প হিসেবে কাজ করবে। আগমনের পর পাসপোর্ট কর্মকর্তারা ওই কোড স্ক্যান করে ভিসার বৈধতা যাচাই করবেন।
জানা গেছে, যাত্রীরা চাইলে ভ্রমণের ৪৮ ঘণ্টা আগেও অনলাইনে ভিসা সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়া পর্যটন কোম্পানির মাধ্যমেও এই সেবা পাওয়া যাবে। কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরেও এটি চালু করা হবে।

গত কয়েক বছরে বিমানবন্দর ও অভিবাসন সেবাকে ডিজিটালাইজ করতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে মিশর সরকার। এরই অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ইলেকট্রনিক ল্যান্ডিং কার্ড, ডিজিটাল যাত্রী তথ্য সংরক্ষণ এবং কাগজবিহীন ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে, যা যাত্রী চলাচল দ্রুততর করার পাশাপাশি বিমানবন্দরের কার্যক্রম আরও দক্ষ করে তুলছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানবন্দর আধুনিকায়নের বৃহৎ কর্মসূচির আওতায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় স্মার্ট সিস্টেম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, লাগেজ ট্র্যাকিং প্রযুক্তি এবং সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে।
এমআরএম