সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক কাজল আর নেই

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৪০ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

প্রবীণ সাংবাদিক, লেখক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক কাজল আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে গ্রেটার লন্ডনের রমফোর্ড কুইন্স হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৭২ বছর।

ইসহাক কাজল ১৯৪৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বৃহত্তর সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষা ইউনিয়নের ব্রাহ্মণউষা গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি পতনউষা বালক প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা, নয়াবাজার কৃষ্ণচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও সিলেট মদনমোহন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

ইসহাক কাজলের রাজনীতির হাতেখড়ি ছাত্রলীগের হাত ধরে। ছাত্র থাকাবস্থায় তিনি বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানসহ বাঙালি স্বাধীকার আন্দোলনের প্রতিটি পর্বে অংশ নেন। ১৯৭১ সালে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে হাতে অস্ত্র তুলে নেন তিনি। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পুলিশি হয়রানির শিকার হয়ে দীর্ঘদিন তিনি আত্মগোপনে থাকেন। এতে শিক্ষকতার চাকরি হারান তিনি। পরবর্তীতে শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় ওয়ার্কার্স পার্টিতে যোগ দেন ইসহাক কাজল।

১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে একমাস সাতদিন কারাবরণ করেন তিনি। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ায় একাধিক মামলার শিকার হয়ে দেশত্যাগ করে প্রথমে কুয়েত ও পরে যুক্তরাজ্যে যান ইসহাক কাজল।

দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে মৃত্যুর কাছে হার মানেন ইসহাক কাজল।

প্রবীণ সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক কাজল একজন জনপ্রিয় লেখক হিসেবেও পরিচিত। বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত এ লেখকের মোট গ্রন্থ ২১টি। সিলেট প্রেস ক্লাব ও লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নির্বাহী কমিটিতেও বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ব্রিটেনের বাংলা সাপ্তাহিক জনমতের পলিটিক্যাল এডিটর, যুক্তরাজ্য ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি এবং একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এমএফ/এমকেএইচ

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - jagofeature@gmail.com