শেখ জামালের প্রিয় মানুষ বোস্টন প্রবাসী স্বপনের মৃত্যু

কৌশলী ইমা কৌশলী ইমা , যুক্তরাষ্ট্র
প্রকাশিত: ১১:১৫ পিএম, ০৭ জুলাই ২০২০

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বিতীয় পুত্র শেখ জামালের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন প্রবাসী ইফতেখার রহমান স্বপন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বোস্টনের স্থানীয় সময় ৬ জুলাই সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মেডফোর্ডের নিজ বাসভবনে মৃত্যু হয় তার।

তিনি দীর্ঘদিন অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বছরে অগ্ন্যাশয়ে ক্যান্সার ধরা পড়ে স্বপনের। প্রায় ছয় মাস তিনি ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মাঝে মধ্যে বাসায় আসা যাওয়া করতেন। মৃত্যুর কয়েক মাস আগে তার শারীরিক অবস্থার ভীষণ অবনতি দেখা দিলে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করে সেকাহ্নে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়।

স্বপন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবদ্দশায় তার বাড়িতে নিরাপত্তা কর্মীর দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। ওই সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বিতীয় পুত্র শেখ জামালের সাথে তার বেশ শখ্যতা গড়ে ওঠে। এ কারণেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপনকে ভালোবাসতেন এবং খুব আদর করতেন বলে জানান ইফতেখার রহমান স্বপন।

তিনি ১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ২৯ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করলে তা মঞ্জুর হয়। সেই থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই বসবাস করছেন। প্রথম ৮ বছর তিনি নিউইয়র্কে ছিলেন। গত ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের মেডফোর্ডে বসবাস করছেন। ১৯৫৪ সালে রংপুরের গুপ্তপাড়ায় স্বপন জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকার লালমাটিয়া এলাকায় কেটেছে তার শৈশব ও বাল্যকাল।

ইফতেখার রহমান স্বপনের মৃত্যুতে গোটা ম্যাসাচুসেটসের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ ইংল্যান্ড (বেইন), বোস্টন বাংলাদেশ বুড্ডিষ্ঠ অ্যাসোসিয়েশন, নিউ ইংল্যান্ড আওয়ামীলীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা পৃথক পৃথকভাবে শোক প্রকাশ করেছেন। একই সাথে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রয়াত স্বপন নিউ ইংল্যান্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির পদে বহাল ছিলেন।

এমআরএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]