পর্তুগালে ওমিক্রন শনাক্ত, আতঙ্কে প্রবাসীরা

মনির হোসেন
মনির হোসেন মনির হোসেন , পর্তুগাল প্রতিনিধি পর্তুগাল
প্রকাশিত: ০৪:৩১ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২১

করোনার নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশির মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। বাইরে চলাচলের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন পর্তুগালে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসকরা।

সোমবার পর্তুগালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গোটা ইউরোপে এখন আতঙ্কের নাম ‘ওমিক্রন’। প্রাথমিকভাবে বি.১.১.৫২৯ নামে এই ধরণটি ৯ নভেম্বর সংগৃহীত একটি নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ভাইরাসটি পর্তুগালে ১৩ জনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে। তারা বেলেনেনসেস এএসডি ফুটবল দলের খেলোয়াড়। সম্প্রতি তাদের মধ্যে একজন দক্ষিণ আফ্রিকা ভ্রমণ করেছিলেন।

এদিকে পর্তুগালসহ ইইউর সদস্যভুক্ত দেশগুলো তাদের নাগরিক ব্যতীত দক্ষিণ আফ্রিকা, নমিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, অ্যাঙ্গোলা, মোজাম্বিক, মালাউই, জাম্বিয়া, লিসোথো এবং এসওয়াতিনি থেকে বিদেশি নাগরিকদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে।

নতুন বিধিনিষেধ হিসেবে নিয়মিত করোনা পরীক্ষা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টেলিওয়ার্ক, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিত ব্যতিক্রম বাদে সব বদ্ধ স্থানে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

এছাড়া রেস্টুরেন্ট, পর্যটনকেন্দ্র বা আবাসিক হোটেল-মোটেলসহ পর্যটন আবাসিক কেন্দ্রে চিহ্নিত আসনের কোনো ইভেন্ট বা জিমনেসিয়ামে ইইউ কোভিড ডিজিটাল সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২২ নতুন বছরের ২ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বাধ্যতামূলক টেলিমার্কসহ স্কুল-কলেজের বড়দিনের ছুটি ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এসময় ডিস্কোও বন্ধ থাকবে।

এদিকে পর্তুগালে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এ ধরণটি নিয়ে অনেকটাই উদ্বিগ্ন।

লিসবনে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টে ব্যবসায়ী সেলিম জানান, গত কয়েক মাস আগেই পর্তুগাল সরকার বিধিনিষেধ তুলে দিয়ে সবকিছু শিথিল করে দিয়েছিলো। ফলে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যও অনেকটা ভালোই চলছিল। হঠাৎ করে আবার আক্রান্তের হার বাড়ছে। জানি না সবশেষ পরিস্থিতি কি হবে।

jagonews24

আব্দুর রহিম নামে এক প্রবাসী বলেন, শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্তের হার যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, দেশটির সরকার যেকোনো সময় নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক সমস্যায় পড়ে যাবে।

এখন পর্যন্ত ইউরোপের যেসব দেশে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে

পর্তুগাল: ৯ নভেম্বর সংগৃহীত একটি নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে একজনের শরীরে ওমিক্রন ধরা পড়ে। বর্তমানে ভাইরাসটি ১৩ জনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে। তারা বেলেনেনসেস এএসডি ফুটবল দলের খেলোয়াড়। একজনের সম্প্রতি আফ্রিকা থেকে ফিরেছিলেন।

যুক্তরাজ্য: দেশটিতে তিনজন ওমিক্রন ধরনে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের সবাই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

জার্মানি: দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে মিউনিখ বিমানবন্দরে যাওয়া দুজনের ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।

নেদারল্যান্ডস: দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নেদারল্যান্ডসে যাওয়া কয়েকশ যাত্রীর ৬১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জন ওমিক্রন ধরনে আক্রান্ত।

ডেনমার্ক: দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে যাওয়া দুজনের শরীরে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।

বেলজিয়াম: একজনের ওমিক্রনে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানা গেছে। ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে বেলজিয়ামে ওমিক্রন ধরন শনাক্ত হয়।

ইতালি: ইতালিতে একজনের ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। ওই ব্যক্তি আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হওয়ার আগে গোটা দেশ ঘুরে বেরিয়েছেন।

চেক প্রজাতন্ত্র : দেশটিতে একজনের ওমিক্রনে আক্রান্ত হওয়ার কথা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ওমিক্রন প্রথম শনাক্ত হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়। এরপর তা ছড়িয়ে পড়েছে আরও বেশ কয়েকটি দেশে। ওমিক্রন ধরা পড়া দেশগুলোর পাশাপাশি আরও বেশকিছু দেশকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইউরোপ।

এমআরএম/এমএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]