আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে সুখ দুঃখের কথা

রহমান মৃধা
রহমান মৃধা রহমান মৃধা
প্রকাশিত: ০১:৪০ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২
ছবি: জাগো নিউজ

ভোর পাঁচটা। ঘুম ভেঙে গেছে। মারিয়া আমার পাশে নেই। সে আন্দামান হাসপাতালে। তাকে সেখানে রেখে ফিরেছি রাত ১১টার পরে। জেসিকা হোটেলের কক্ষে একা। সে জানে না আমি বা তার মা মারিয়া কী অবস্থায় আছি! টেলিফোন শুধু তখনই কাজ করে যদি আশপাশে ওয়াইফাই থাকে।

আমরা বহু বছর পরে একসঙ্গে ছুটিতে এসেছি। সঙ্গে রয়েছে আমার ছেলে জনাথান, মেয়ে জেসিকা এবং সহধর্মিণী মারিয়া। ছোটবেলার মতো করে সবাই মিলে একসঙ্গে ভ্রমণ করার ইচ্ছেটি সবার মনে জাগে এ বছরের শুরুতেই। এখন আর কেউই ছোট নেই যে আমার বা মারিয়ার ওপর নির্ভরশীল। সবারই ব্যক্তিগত মতামত রয়েছে, তারপরও আমি আবদার করেছি আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে যাব এবং থাকব ক্রাবি দ্বীপে।

jagonews24

প্রথম দিকে সবাই প্রশ্ন করেছে কেন ক্রাবি? হাজার হাজার দ্বীপ থাকতে কেন তুমি ক্রাবি পছন্দ করলে? তারপর আবার সেখানে আগেও একবার গিয়েছিলে? আমি বললাম আমরা গিয়েছি তবে তোমাদের মা যায়নি সেখানে, তাছাড়া সেখান থেকে তোমরা ইচ্ছে করলে অন্যান্য জায়গাতেও যেতে পারবে।

দ্বিতীয় পর্ব পড়ুন এখানে

সবাই মোটামুটি রাজি হলেও জনাথান নিজের মতো করে টিকিট কেটেছে স্টকহোম-ব্যাংকক, ব্যাংকক-ক্রাবি। আমি, মারিয়া এবং জেসিকা ৪টা ট্রিপে করে স্টকহোম-পুকেট, পুকেট-ক্রাবি। এভাবে টিকিট কেটেছি। জনাথান উঠবে ছোট্ট একটি দ্বীপে যেখানে যেতে বোট লাগবে এবং শুধু হোটেলের অতিথি এবং কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য কেউ সে দ্বীপে যেতে পারবে না।

আমাদের প্যাকেট জার্নি, তার মানে যাওয়া, আসা এবং থাকা অন্তর্ভুক্ত। এদিকে ছুটি দশ দিনের, তার মধ্যে দুই দিন যাওয়া, আসার মধ্যে, বাকি আট দিন আমাদের একই হোটেলে থাকতে হবে। জেসিকার চিন্তা যদি হোটেলের সবকিছু মনঃপূত না হয় তাহলে তো সর্বনাশ!

jagonews24

আমি বললাম কীভাবে সর্বনাশ। সে উত্তরে বললো যদি আবহাওয়া খারাপ হয় তখন কোথাও ঘোরা হবে না, বাধ্য হয়ে হোটেলে সময় কাটাতে হবে, সেক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভালো এবং পরিষ্কার পরিবেশের সুইমিংপুল, জিম, সুন্দর বাগান, সাগরের দৃশ্য, খাবারের মান ইত্যাদি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে, আর যদি আবহাওয়া ভালো খাকে তখন তো শুধু রাতে হোটেলে ঘুমাতে আসতে হবে।

প্যাকেট জার্নির এটাই একটি সমস্যা, সব ঠিকঠাক মতো করলেও ভাগ্য বলে যে কথাটি রয়েছে তাকে ভুলে গেলে চলবে না।ভাগ্য ভালো হলে সব ঠিকঠাক, তা না হলে গেলো পুরো ভ্রমণের বারোটা বেজে! যাইহোক প্রথম দর্শন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এত সবকিছু মাথায় রেখে পরিকল্পনা করি এবারের ভ্রমণ সেই ফেব্রুয়ারি মাসে, বুকিং নিশ্চিত করি জুনে।

jagonews24

ইনসুরেন্স থেকে শুরু করে কোভিড পাস এবং ভ্যালিড পাসপোর্টসহ ছুটি মঞ্জুর, কাজগুলো সময়মতো ম্যানেজ করা। জনাথান তার মতো করে পরিকল্পনা করেছে যেন তার টেনিস ট্যুরে বড় আকারে ব্যাঘাত না ঘটে। সে তার জাপান ট্যুর শেষে পরিকল্পনা অনুযায়ী স্টকহোমে আরল্যান্ডা বিমানবন্দরে আসবে, আর আমরা একই দিনে একই সময়ে বোর্ডিং শেষে হাই হ্যালো বলে যার যার প্লেনে উঠবো।

আমাদের ভ্রমণের সপ্তাহ মতো বাকি। হঠাৎ পুলিশ কর্তৃপক্ষ থেকে একটি চিঠি এসেছে। আমাদের পাসপোর্ট সময় মতো ডেলিভারি দিতে পারবে না কারণ ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য সময় মতো পাসপোর্টের সবকিছু জোগাড় করতে সুইডিস পুলিশ হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেলো। এত আগে সবকিছু পরিকল্পনা করেছি তারপরও ঝামেলা?

এদিকে সময় কম, আমার এবং মারিয়ার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে ডিসেম্বরে প্রথম সপ্তাহে, এটা আমরা জানতাম তাই অনেক আগেই নতুন পাসপোর্টের জন্য যা যা করণীয় করেছি।

পাসপোর্ট অফিসে সমস্যা চলছে গত দুই বছর ধরে তাও জানি। সুইডেন পাসপোর্ট তৈরির যে মেশিন ব্যবহার করে সেটা ফিনল্যান্ডের সঙ্গে শেয়ার করে। পাসপোর্ট তৈরি করতে যে কাগজ ব্যবহার করে সে কাগজ মূলত তৈরি হয় রাশিয়াতে। চলছে যুদ্ধ ইউরোপে, সুইডেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করছে এমনকি ন্যাটো জোটে যোগ দিতে উঠেপড়ে লেগেছে।

চলবে...

এমআরএম/জিকেএস

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]