আজকের তারাবিহতে বনি ইসরাইলের প্রশ্নের জবাব পড়া হবে
আজ অনুষ্ঠিত হবে রমজানের ১২ তারাবিহ। হাফেজে কুরআনগণ তারাবিহ নামাজে কুরআনুল কারিমের ১৪তম পাড়া পড়বেন। কুরআনুল কারিমের গুরুত্বপূর্ণ দুটি সুরা রয়েছে এ পারায়। একটি হলো সুরা বনি ইসরাইল বা সুরা ইসরা। আর দ্বিতীয়টি হলো আসহাবে কাহাফের ঘটনা সম্বলিত সুরা কাহাফ।
এ সুরা দু’টিতে তাওহিদ,রেসালাত ও আখেরাত সত্যয়নে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় ওঠে এসেছে। সুরা ইসরায় আল্লাহ তাআলা শুরু করেছেন মেরাজের ঘটনা দিয়ে। প্রিয়নবি যখন কাফের মুশরেকদের অত্যাচার নির্যাতনে অতিষ্ঠ; ঠিক তখনই আল্লাহ তাআলা প্রিয়নবিকে তাঁর একান্ত সান্নিধ্যে ডেকে নিয়ে যান ।
বনি ইসরাইল সম্প্রদায় প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবুয়তের সত্যতার প্রমাণে বহু আগের কিছু ঘটনা সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। সে সব প্রশ্নের উত্তর আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমের সুরা কাহাফে তুলে ধরেছেন।
আরও পড়ুন > ইফতারের সময় দোয়া কবুলে প্রিয়নবির ঘোষণা
সুরা দুটির পরিচিতি ও আলোচ্য বিষয় সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-
সুরা বনি ইসরাইল
সুরা বনি ইসরাইল মক্কায় নাজিল হয়। সুরাটিতে ১২ রুকু ও ১১১ আয়াত রয়েছে। যদিও সুরার নাম বনি ইসরাইল কিন্তু বনি ইসরাইল এ সুরার আলোচ্য বিষয় নয়। বরং প্রতীকী হিসেবে নামটি সুরার চার নম্বর আয়াত থেকে নেয়া হয়েছে।
এ সুরার প্রথম আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, সুরাটি মিরাজের সময় নাজিল হয়েছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী হিজরতের এক বছর পূর্বে এ সুরাটি নাজিল হয়।
এ সুরায় মক্কার কাফের অবিশ্বাসীদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, বনি ইসরাইল ও অন্যান্য জাতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো। আল্লাহর দেয়া অবকাশ তথা সময় শেষ হয়ে আসছে তা শেষ হওয়ার আগেই নিজেদের সামলে নাও।
প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং কুরআনের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা দাওয়াত পাঠাচ্ছেন তা গ্রহণ করো। অন্যথায় তোমাদের ধ্বংস করে দেয়া হবে। তোমাদের জায়গায় অন্য লোকদেরকে দুনিয়া আবাদ করার সুযোগ দেয়া হবে।
আরও পড়ুন > রোজায় ইফতার বিতরণ ও আর্থিক অনুদানের তাৎপর্য
মানুষের সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য এবং কল্যাণ ও অকল্যাণের ভিত্তি আসলে কোন কোন জিনিসের ওপর রাখা হয়েছে, তা অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী পদ্ধতিতে বুঝানো হয়েছে। এ সুরায় তাওহিদ, পরকাল, নবুয়ত ও কুরআনের সত্যতার প্রমাণও পেশ করা হয়েছে।
নৈতিকতা ও সভ্যতা-সংস্কৃতির বড় বড় মূলনীতি শিক্ষা দেয়াই ছিল প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামর দাওয়াতের প্রধান লক্ষ্য; তা এ সুরায় আলোচিত হয়েছে। যা আজ পাঠ করা হবে।
সুরা কাহাফ
আসহাবে কাহাফের ঘটনা সমৃদ্ধ সুরা কাহাফ মক্কায় নাজিল হয়েছে। সুরাটিতে ১১০ আয়াত এবং ১২টি রুকু রয়েছে। সুরাটি বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়তের সত্যতা প্রমাণের অনেক বড় দলিল হিসেবে সমাদৃত। এ সুরার ৯নং আয়াতের কাহাফ শব্দটি এসেছে।
মক্কার মুশরিকরা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরীক্ষা নেয়ার জন্য আহলে কিতাবের অনুসারীরা তাঁর সামনে তিনটি প্রশ্ন করেছিল। সে প্রশ্নের জবাবে আল্লাহ তাআলা সুরা কাহাফ নাজিল করেছেন।
আরও পড়ুন > তারাবিহ নামাজের নিয়ত ও দোয়া
প্রশ্ন তিনটি হলো-
>> আসহাবে কাহাফ কারা ছিল?
>> হজরত খিজিরের ঘটনা ও তাৎপর্য কি কি? হাদিসে এসেছে, তাদের দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিল রূহ সম্পর্কে।
>> জুলকারনাইনের ঘটনাটি কী?
প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুরা কাহাফের মাধ্যমে বনি ইসরাইলদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন। আর তাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়ের সত্যতা প্রকাশিত হয়েছে। এভাবেই আল্লাহ তাআলা ইসলামকে বিজয়ী করেছেন।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আজকের তারাবিহ নামাজে পঠিত সুরা দুটির ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। তাওহিদ রেসালাত ও পরকালের ওপর গভীর বিশ্বাস রেখে নিজেদের আকিদা-বিশ্বাসকে শিরকমুক্ত রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।
এমএমএস/এমএস