জিলহজের প্রথম দশকের ফজিলত

ইসলাম ডেস্ক
ইসলাম ডেস্ক ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৩২ পিএম, ১৭ মে ২০২৬
জিলহজের প্রথম দশকের ফজিলত

জিলহজের প্রথম দশক ইসলামে বিশেষভাবে সম্মানিত। এ সময়ে ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি হজ ও গুরুত্বপূর্ণ আমল কোরবানি পালিত হয়। শাওয়াল ও জিলকদ মাসেও হজের জন্য ইহরাম বাধা যায়। কিন্তু হজের মূল কার্যক্রম; আরাফায় অবস্থান, মুজদালিফায় অবস্থান, কোরবানি ইত্যাদি এ সময়ই পালিত হয়। কোরবানির প্রধান দিন জিলহজের ১০ তারিখ। যদিও এর পরবর্তী দুদিন অর্থাৎ জিলহজের ১১ ও ১২ তারিখও কোরবানি করা যায়।

কোরআনে আল্লাহ জিলহজের প্রথম দশ রাতের শপথ করেছেন। আল্লাহ বলেন, শপথ ভোরবেলার, শপথ দশ রাতের, শপথ জোড় ও বেজোড়ের। (সুরা ফাজর: ১-৩)

জাবের (রা.) বৰ্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, এ আয়াতে দশ হচ্ছে জিলহজ মাসের দশ দিন, বেজোড় হচ্ছে আরাফার দিন আর জোড় হচ্ছে কোরবানির দিন। (মুসনাদে আহমদ: ৩/৩২৭)

এ আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায় জিলহজের প্রথম দশক, আরাফার দিন ও কোরবানির দিন আল্লাহ তাআলার কাছে বিশেষ মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী

কোরআনের আরেক জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেছেন, মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দাও; তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং কৃশকায় উটে চড়ে দূর পথ পাড়ি দিয়ে। যেন তারা নিজেদের কল্যাণের স্থানসমূহে হাজির হতে পারে এবং তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু থেকে যে রিজিক দিয়েছেন তার ওপর নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে। (সুরা হজ: ২৮)

কোরআনের অধিকাংশ ব্যাখ্যাকারের মতে এ আয়াতে ‘নির্দিষ্ট দিনসমূহ’ বলে জিলহজের প্রথম দশ দিনকে বোঝানো হয়েছে।

এ দশ দিন যে কোনো নফল আমলেরই সওয়াব বেড়ে যায়। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, অন্যান্য যে কোনো সময়ের তুলনায় জিলহজের প্রথম দশ দিনের নেক কাজ আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। (সহিহ বুখারি: ৯৬৯)

আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, এ দশকের প্রতি দিনের রোজা এক বছরের রোজার এবং এর প্রত্যেক রাতের নামাজ কদরের রাতের নামাজের সমতুল্য। (সুনানে তিরমিজি: ৭৫৮)

নবীজি (সা.) প্রতি বছরই জিলহজের প্রথম নয় দিন রোজা রাখতেন। উম্মুল মুমিনীন হাফসা (রা.) বলেন, নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনো চারটি আমল পরিত্যাগ করেননি। সেগুলো হলো, আশুরার রোজা, জিলহজের প্রথম দশকের রোজা, প্রতি মাসে তিন দিন রোজা, ও ফজরের পূর্বের দুই রাকাত নামাজ। (সুনানে নাসাঈ: ২৪১৬)

এ দশ দিনের মধ্যে কোরআনে বর্ণিত বেজোড় দিন বা জিলহজের ৯ তারিখ রোজা রাখার ফজিলত সবচেয়ে বেশি। জিলহজের ৯ তারিখ রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আরাফার দিন কেউ রোজা রাখলে আমি আশাবাদী যে আল্লাহ তার পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। (সহিহ মুসলিম: ২৬১৭)

জিলহজের প্রথম দশক ফজিলতপূর্ণ কেন?

সহিহ বুখারির প্রখ্যাত ব্যাখ্যাকার ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) জিলহজের প্রথম দশকের বিশেষ মর্যাদার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, জিলহজের প্রথম দশকের মর্যাদার কারণ হলো, এ দিনগুলোতে ইসলামের সবগুলো মৌলিক ইবাদত অর্থাৎ নামাজ, রোজা, সদকা, ও হজ একত্রিত হয় যা অন্য কোনো সময় হয় না। (ফাতহুল বারি: ২/৫৩৪)

অর্থাৎ এ দিনগুলোতে নামাজ আদায় করা হয় সব সময়ের মতোই, প্রথম দশকের রোজা বিশেষত আরাফার দিনের রোজা বিশেষ ফজিলতপূর্ণ, ফরজ সদকা বা জাকাত সারা বছরের মতো এ সময়ও আদায় করা যায়, নফল সদকারও বিশেষ মৌসুম এটি, আর হজ শুধু এ সময়েই পালন করা যায়। বছরের অন্য কোনো সময় ইসলামের সবগুলো মৌলিক ইবাদত একসাথে পালিত হয় না। এটাই জিলহজের প্রথম দশকের বিশেষ মর্যাদার কারণ।

ওএফএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।