কোরবানিদাতা চুল-নখ কাটবেন না কখন থেকে?
জিলহজ মাস শুরু হওয়ার পর থেকে অর্থাৎ জিলহজের চাঁদ দেখা যাওয়া বা জিলকদ মাসের ৩০ তম দিনের সূর্যাস্তের পর থেকেই কোরবানিদাতাদের জন্য চুল, নখ না কাটা মুস্তাহাব।
উম্মে সালাম (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যারা কোরবানি করবে, জিলহজের চাঁদ দেখার পর থেকে তারা যেন চুল নখ না কাটে। (সহিহ মুসলিম: ১৯৭৭)
এ হাদিসের ভিত্তিতে ইসলামি আইনবিশারদগণ বলেছেন, জিলহজের চাঁদ ওঠার পর থেকে কোরবানিদাতাদের জন্য নখ, চুল, লোম না কাটা মুস্তাহাব। তবে এ হুকুম তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে যারা জিলকদের শেষে নখ-চুল কেটেছে। নখ-চুল বেশি লম্বা হয়ে গেলে কেটে ফেলতে হবে।
এ কারণে জিলকদ মাস শেষ হওয়ার আগেই চুল, গোঁফ ও শরীরের অন্যান্য জায়গার যেসব লোম নিয়মিত কাটতে হয়, সেগুলো কেটে ফেলা উচিত। যেন জিলহজের শুরু থেকে এই মুস্তাহাব আমলটি করা যায়।
এ বছর (২০২৬) বাংলাদেশে জিলহজের চাঁদ দেখা যেতে পারে আগামীকাল সোমবার ১৮ মে দিবাগত রাতে। তাই যারা কোরবানি করবে, তাদের আগামীকাল সন্ধ্যার আগেই চুল, গোঁফ, অন্যান্য অযাচিত লোম ও নখ কেটে ফেলতে হবে। চাঁদ দেখা যাওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকে চুল-নখ কাটা থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি আগামীকাল জিলহজের চাঁদ না ওঠে, তাহলে ১৯ মে সূর্যাস্তের পর থেকে চুল-নখ কাটা থেকে বিরত থাকতে হবে।
যারা কোরবানি করবেন না, তারা কি এ আমলটি করবেন?
যারা কোররবানি করবে না তাদের জন্য এ হুকুম প্রযোজ্য কি না এ ব্যাপারে কেউ কেউ বলেছেন, এ হুকুম শুধুমাত্র কোরবানিদাতাদের জন্য প্রযোজ্য। উপরোক্ত হাদিসে শুধু কোরবানিদাতাদের কথাই বলা হয়েছে।
তবে কারো কারো মতে সামর্থ্য না থাকায় যারা কোরবানি করবে না, আমলটি তাদের জন্যও। তাদের দলিল হলো আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস। তিনি বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একবার তার এক সাহাবিকে বললেন, আমাকে কোরবানির দিন ঈদ পালনের আদেশ করা হয়েছে যা আল্লাহ এ উম্মতের জন্য নির্ধারণ করেছেন। ওই সাহাবি বললেন, যদি আমার কাছে শুধু একটি মানিহা অর্থাৎ অন্যের থেকে নেওয়া দুগ্ধ দানকারী উষ্ট্রী থাকে, আমি কি তা কোরবানি করে ফেলবো? নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, না, তবে তুমি চুল, নখ ও গোঁফ কাটবে এবং নাভীর নিচের লোম পরিষ্কার করবে। এটাই আল্লাহর দরবারে তোমার পূর্ণ কোরবানি বলে গণ্য হবে। (সুনানে আবু দাউদ: ২৭৮৯)
এ হাদিসে কোরবানির ঈদের দিন নখ, চুল, গোঁফ ও অন্যান্য অযাচিত লোম কাটার নির্দেশ থেকে এর আগের দশ দিন না কাটার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তাই যারা সামর্থ্যের অভাবে কোরবানি করতে পারছে না, তারাও যদি জিলহজের প্রথম দিন থেকে চুল-নখ না কেটে কোরবানির ঈদের দিন কাটেন, হতে পারে তারা কোরবানির সওয়াব পেয়ে যাবেন।
ওএফএফ