আশারায়ে জিলহজে সব গুনাহ বর্জন করুন: মুফতি মেনক
ডক্টর মুফতি ইসমাইল ইবনে মুসা মেনক, যিনি মুফতি মেনক নামে বেশি পরিচিত, একজন মুসলিম শিক্ষাবিদ, ইসলাম প্রচারক ও বক্তা। তিনি বর্তমানে জিম্বাবুয়ের প্রধান মুফতি। ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৭ সালে জর্ডানের রয়্যাল আল আল-বাইত ইনস্টিটিউট ফর ইসলামিক থট তাকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০০ মুসলমানের অন্যতম হিসাবে ঘোষণা করে।
মুফতি মেনক সম্প্রতি এক বক্তব্যে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত ও করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। ১৬ মে ২০২৬ নিজের ভেরিভায়েড ইউটিউব চ্যানেলে `Prepare For The Best 10 Days' শিরোনামে ওই বক্তব্যের ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য তার বক্তব্যের সারাংশ তুলে ধরছি।
মুফতি মেনক বলেন,
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বিভিন্ন স্থানের বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। মসজিদ মসজিদের বাইরের স্থানের চেয়ে মর্যাদাপূর্ণ। আপনি যদি মসজিদের ভেতর থাকেন, আপনি একটি বরকতময় স্থানে আছেন। মসজিদ থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে আপনি কম বরকতময় একটি স্থানে চলে আসেন। মক্কার হারাম অন্য যে কোনো স্থানের চেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী। রাসুলুল্লাহর (সা.) রওজা মোবারক সাধারণ স্থানের চেয়ে অনেক বেশি মর্যাদার অধিকারী।
স্থানের মতো কিছু সময়েরও বিশেষ মর্যাদা আছে। রাতের শেষ তৃতীয়াংশ দিনের অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান। জুমার দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় আছে যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে কোনো দোয়া করা হলে তা ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। আমরা হয়তো সেই নির্দিষ্ট মুহূর্তটি জানি না, কিন্তু আমরা জানি শুক্রবার সপ্তাহের সেরা দিন। রমজান মাস অন্যান্য মাসের চেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী। রমজানের অন্যান্য রাতের চেয়ে আবার শেষ দশ রাতের মর্যাদা বেশি। বিজোড় রাতগুলোর মর্যাদা আরও বেশি; এর মধ্যে একটি রাত আছে যা পুরো বছরের সব রাতের চেয়ে বেশি মূল্যবান।
একইভাবে জিলহজের প্রথম ১০ দিনেরও বিশেষ মর্যাদা ও সম্মান আছে আল্লাহ তাআলার কাছে। এই দিনগুলোর নেক আমল অন্যান্য সময়ের নেক আমলের তুলনায় আল্লাহ তাআলার কাছে বেশি পছন্দনীয়। তাই জিলহজের প্রথম ১০ দিনে বেশি বেশি ইবাদত করুন।
যখন চাঁদ দেখা যায় এবং জিলহজ মাসের ঘোষণা আসে, তখন থেকেই জিলহজ মাসের বরকত শুরু হয়। প্রথম রাত থেকেই জিলহজের ফজিলতের ব্যাপারে সচেতন হোন। ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি নফল ইবাদত বৃদ্ধি করুন। এর আগে যা করা দরকার তা হলো, সমস্ত গুনাহের কাজ থেকে বিরত হোন।
আপনি যদি মক্কায় যান, আপনি কি ব্যভিচারসহ অন্যান্য গুনাহ চালিয়ে যাবেন? আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। একজন মুমিন হিসেবে এমনিতেই এই গর্হিত কাজ থেকে আমাদের দূরে থাকা উচিত ছিল। কিন্তু আপনি যদি সেখানে গিয়ে গুনাহ করেন, তবে তা বহুগুণ বেড়ে যায় কারণ সেই স্থানের মতো মর্যাদাপূর্ণ আর কোনো স্থান নেই।
সুতরাং জিলহজ মাসে সব অন্যায়, অপরাধ, পাপাচার ও খাারাপ কাজ থেকে দূরে থাকুন। অন্যান্য নফল আমলের মত জিলহজের এই দশদিন রোজা রাখারও বিশেষ ফজিলত রয়েছে। কিন্তু রোজা রেখে লাভ কী যদি আমি গুনাহ করতে থাকি এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নির্দেশের প্রতি আমার কোনো ভ্রুক্ষেপ না থাকে? রোজার মূল উদ্দেশ্যই হলো সংযম ও নিজেকে নিয়ন্ত্রণের অনুশীলন। যদি আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হালাল থেকে বিরত থাকতে পারি, তবে হারাম কাজ থেকে কেন বিরত থাকতে পারবো না!
জিলহজের নয় তারিখ আরাফাতের দিনের রোজা যারা হজে নেই, তাদের জন্য এতটাই ফজিলতপূর্ণ যে এই রোজা রাখলে বর্তমান বছরের এবং অন্য বর্ণনা অনুযায়ী পূর্বের ও পরের বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যায়।
আর আপনাকে আল্লাহর সামনে নিজেকে বিনম্র করতে হবে। খাবার সামনে আছে, হালাল উপায়ে অর্জিত, সুস্বাদু খাবার; কেন আমি খাব না? কারণ আমি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে চাই। আল্লাহর সন্তুষ্টিই আমাদের জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য।
ওএফএফ