কুরবানি ও ঈদে যে চেতনায় উজ্জীবিত থাকেন মুমিন

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:১৫ পিএম, ০২ আগস্ট ২০২০

আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণায় হজ, ঈদুল আজহা ও কুরবানিতে আত্মনিয়োগ করেন মুমিন মুসলমান। জিলহজের প্রথম দশকের নির্ধারিত দিনগুলোতে তাওহিদ বা একত্ববাদের চেতনায় উজ্জীবিত থাকা মুমিন মুসলমানের জন্য ওয়াজিব। যে চেতনা বছরজুড়ে জেগে থাকে মুমিনর হৃদয়ে।

যে ঘোষণা উজ্জীবিত হয় মুমিন
اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَ اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر وَ للهِ الْحَمْد
উচ্চারণ : ’আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার; ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’
অর্থ : ’আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; সব প্রশংসা মহান আল্লাহ জন্য।’

৯ জিলহজ থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একবার এ তাকবির পড়া মুমিন মুসলমানের ওপর ওয়াজিব বা আবশ্যক।

এ দিনগুলোতে এ তাকবির মুমিন মুসলমানকে তাওহিদের চেতনায় উজ্জীবিত করে তোলে। মুমিন বান্দা খুঁজে পায় একত্ববাদের সঠিক ঠিকানা। আপন মনে পড়তে থাকে তাকবিরে তাশরিক।

আবার পবিত্র নগরী মক্কা, মিনা, আরাফাহ, মুজদালিফায় হজে অংশগ্রহণকারী ও অবস্থানকারীরা তালবিয়া পড়ে এ জানান দেয় যে-
لَبَّيْكَ اَللّهُمَّ لَبَّيْكَ
لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ
اِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ
لاَ شَرِيْكَ لَكَ

তালবিয়ার উচ্চারণ
> লাব্বাইকা আল্লা-হুম্মা লাব্বাইক,
> লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক,
> ইন্নাল হামদা ওয়ান্‌নিমাতা লাকা ওয়ালমুল্‌ক,
> লা শারিকা লাক।

তালবিয়ার অর্থ
>> আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত!
>> আপনার ডাকে সাড়া দিতে আমি হাজির। আপনার কোনো অংশীদার নেই।
>> নিঃসন্দেহে সব প্রশংসা ও সম্পদরাজি তথা নেয়ামত আপনার এবং একচ্ছত্র আধিপত্যও আপনার।
>> আপনার কোনো অংশীদার নেই।

সুতরাং ইয়াওমে আরাফায় হজ, ঈদুল আজহা ও কুরবানির প্রতিটি ইবাদতে ঘোষিত তাওহিদ তথা একত্ববাদের ঘোষণা। এসবই মুমিন মুসলমানের ঈমান ও আমলে উজ্জীবিত হওয়ার অংশ। যে যতবেশি এগুলো পালন করবে, পাঠ করবে ঈমানি চেতনা ও মূল্যবোধে ততবেশি অগ্রসহর হবে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদুল আজহা ও কুরবানি ও হজের সময় তাকবির, তাহলিল, তাহমিদ ও তালবিয়ার মাধ্যমে নিজে যেমন মহান আল্লাহর কাছে একত্ববাদের ঘোষণা দিতেন। তেমনি সাহাবায়ে কেরামকেও তা পড়ার জন্য তাগিদ দিয়েছেন।

এ দিনগুলোতে সামর্থ্যবান নারী-পুরুষের উপর কুরবানি ওয়াজিব। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও প্রতি বছর কুরবানি করেছেন এবং অন্যদেরও কুরবানির আদেশ দিয়েছেন। হাদিসে ঘোষণা করেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
‘সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে কুরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।’

সর্বোপরি ৯ জিলহজ থেকে তাকবিরে তাশরিকের বিধান এসেছে। ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একবার এ তাকবিরে পাঠ করা ওয়াজিব।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, বাকি দিনগুলোতেও তালবিয়া-তাকবিরে নিজেদের একত্ববাদের চেতনায় উজ্জীবিত করা। শিরক ও কুফরের সব চিহ্ন থেকে পরিচ্ছন্ন থাকা। ব্যক্তি পরিবার সমাজ তথা সর্বস্তরে শিরকমুক্ত চেতনায় তাকবির ও তালবিয়ার ঘোষণার মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তোলা ঈমানের একান্ত দাবি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জিলহজ মাসের এ দিনগুলোতে তাকবির-তালবিয়া পাঠের চেতনায় মজবুত ঈমানের অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]