বিশ্বনবি যেভাবে ইসলামের দাওয়াত দিতেন

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৩৬ পিএম, ৩১ অক্টোবর ২০২০

ইসলামের দিকে দাওয়াত ও তাবলিগের মূলনীতি কেমন হবে- এ সম্পর্কে কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। আবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোম সম্রাটকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিয়ে সে পদ্ধতির বাস্তব নমুনা তুলে ধরেছেন। যাতে ইসলামের দিকে দাওয়াত ও তাবলিগের মূলনীতি ফুটে ওঠেছে।

দাওয়াতের ব্যাপারে উভয় পক্ষের জন্য সাধারণ একটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে তাবলিগের নির্দেশ এসেছে কুরআনুল কারিমে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْاْ إِلَى كَلَمَةٍ سَوَاء بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلاَّ نَعْبُدَ إِلاَّ اللّهَ وَلاَ نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلاَ يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضاً أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللّهِ فَإِن تَوَلَّوْاْ فَقُولُواْ اشْهَدُواْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ
(হে রাসুল! আপনি) বলুন, ‘হে আহলে-কিতাবগণ! একটি বিষয়ের দিকে আস। যা আমাদের মধ্যে এবং তোমাদের মধ্যে সমান। (তাহলো) যে আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করব না, তাঁর সঙ্গে কোনো শরিক সাব্যস্ত করব না এবং একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া কাউকে পালনকর্তা বানাব না। তারপর যদি তারা স্বীকার না কর, তাহলে বলে দাও যে, `সাক্ষী থাক আমরা তো অনুগত। (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ৬৪)

আয়াতের ব্যাখ্যামূলক অনুবাদ
হে রাসুল! আপনি বলে দিন, হে আহলে কিতাব তথা আসমানি কিতাবের অনুসারি ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরা, আস এমন কথার দিকে; যা আমাদের ও তোমাদের মাঝে একই রকম। একই সমান তার বিষয়সমূহ। তাহলো- আমরা আল্লাহ ব্যতিত কারও ইবাদত করি না, কোনো কিছুকেই তাঁর সঙ্গে শরিক করি না। তোমরা যেমন তোমাদের ধর্মের অভিজ্ঞ ও সন্ন্যাসীদেরকে ‘রব’ বলে মেনে নিয়েছ, তেমনি আমাদের কেউ আল্লাহ ব্যতিত অপর কাউকেও রব বলে গ্রহণ করে না। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়। তাওহিদ তথা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী হওয়া থেকে বিমুখ হয় তবে তোমরা তাদের বল- তোমরা আমাদের ব্যাপারে এ কথার উপর সাক্ষী থাকা যে, আমরা আত্মসমার্পনকারী অর্থাৎ তাওহিদ তথা আল্লাহর একত্ববাদের অবলম্বনকারী। (তাফসিরে জালালাইন)

দাওয়াত ও তাবলিগের মূলনীতি ঘোষণা
আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে দাওয়াত ও তাবলিগের মূলনীতি, পদ্ধতি কেমন হবে তা ঘোষণা করেছেন। আর তাহলো- ‘আস! ওই বিষয়ের দিকে, যা আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান’। এ আয়াত থেকে তাবলিগ ও ধর্মের প্রতি কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলকে আহ্বান করার মূলনীতি জানা যায়। তাহলো এমন যে-
‘ভিন্ন মতের কাউকে ধর্মের প্রতি আহ্বান জানাতে হলে প্রথমে তাকে শুধু এমন বিষয়ের প্রতি আহ্বান জানানো উচিত, যে বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হতে পারেন।’

রোম সম্রাটকে ইসলামের দাওয়াত
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রোম সম্রাটকে ইসলামের দাওয়াত দেন, তখন এমন বিষয়ের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে উভয়েই একমত ছিলেন। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের প্রতি। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াতটি ছিল এমন-
‘আমি আল্লাহর নামে শুরু করছি- যিনি পরম করুণাময় ও দয়ালু। এ পত্র আল্লাহর বান্দা ও রাসুল মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি। যে হেদায়েতের পথ অনুসরণ করে, তার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। অতপর আমি আপনাকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানাই। মুসলমান হয়ে যান; শান্তি লাভ করবেন। আর্লাহ আপনাকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেবেন।

আর যদি বিমুখ হন তবে আপনার প্রজা সাধারণের গোনাহ আপনার উপর পতিত হবে। (অতপর কুরআনের উক্ত আয়াত তুলে ধরেন)- হে আহলে কিতাবগণ! এমন এক বিষয়ের দিকে আস, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন। তা এই যে- আমরা আল্লাহ ছাড়া কারও ইবাদত করব না; তাঁর সঙ্গে কাউকে অংশীদার করব না এবং আল্লাহকে ছেড়ে একে অন্যকে পালনকর্তা সাব্যস্ত করব না।’

অতপর আয়াতের শেষ অংশে আল্লাহ তাআলা সাক্ষী থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছেন এইভাবে যে- ‘অতপর তোমরা বলে দাও যে, তোমরা সাক্ষী থাক; আমরা আত্মসমার্পনকারী মুসলমান।’ (তাফসিরে মারেফুল কুরআন)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনুল কারিমের নির্দেশনা অনুযায়ী ইসলামের দিকে আহ্বান করার তাওফিক দান করুন। বিশ্বনবির শেখানো পদ্ধতিতে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজে সম্পৃক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]