তারাবির তিলাওয়াতে আজ

তালাক ও ইলার বিধিবিধান

ইসলাম ডেস্ক
ইসলাম ডেস্ক ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৪৯ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
তালাক ও ইলার বিধিবিধান ছবি: পিক্সেলস

আজ (১৯ ফেব্রুয়ারি) প্রথম রমজান দিবাগত রাতে ইশার পর দ্বিতীয় দিনের তারাবি নামাজে আমাদের দেশের মসজিদগুলোতে কোরআনের দ্বিতীয় পারার অর্ধেক ও পূর্ণ তৃতীয় পারা তিলাওয়াত করা হবে। সুরা বাকারার ২০৪ নং আয়াত থেকে শুরু হয়ে তিলাওয়াত হবে সুরা আল-ইমরানের শুরু থেকে ৯১ নং আয়াত পর্যন্ত।

পবিত্র কোরআনের এ অংশে দৈনন্দিন জীবন সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ যে বিধিবিধান আলোচিত হয়েছে:

১. নারীদের মাসিকের সময় যৌনমিলন থেকে বিরত থাকতে হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, আর তারা তোমাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, তা কষ্ট। সুতরাং তোমরা ঋতুস্রাবের সময় স্ত্রীদের থেকে দূরে থাক এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। অতঃপর যখন তারা পবিত্র হবে তখন তাদের নিকট আস, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারীদেরকে ভালবাসেন এবং ভালবাসেন অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে। (সুরা বাকারা: ২২২)

২. যারা ইলা করবে অর্থাৎ চার মাস বা তার বেশি সময় স্ত্রী সংশ্রব থেকে বিরত থাকার শপথ করবে, তারা যদি তাদের শপথ না ভাঙে এবং চার মাস স্ত্রী থেকে দূরে থাকে, তাহলে তাদের বিয়ে ভেঙে যাবে। তবে চার মাস অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই শপথ ভেঙে ফেললে বিয়ের সম্পর্ক ঠিক থাকবে এবং ওই কসমের জন্য কাফফারা দিতে হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা তাদের স্ত্রীদের সাথে মিলিত না হওয়ার শপথ করবে তারা চার মাস অপেক্ষা করবে। অতঃপর তারা যদি ফিরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর যদি তারা তালাকের দৃঢ় ইচ্ছা করে নেয়, তবে নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সুরা বাকারা: ২২৬, ২২৭)

৩. স্ত্রীর ওপর স্বামীর অধিকার আছে, স্বামীর ওপরও স্ত্রীর অধিকার আছে। প্রত্যেকেরই দায়িত্ব অপরের প্রতি নিজের কর্তব্যের ব্যাপারে সচেতন হওয়া।

আল্লাহ তাআলা বলেন, আর নারীদের ওপর পুরুষদের যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি নিয়ম অনুযায়ী পুরুষদের ওপরও নারীদের অধিকার রয়েছে। আর পুরুষদের রয়েছে তাদের ওপর মর্যাদা। আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সুরা বাকারা: ২২৮)

৪. নারীদের তালাকের ইদ্দত তিন মাসিক বা তিন মাস। স্বামী রাজঈ তালাক দেওয়ার পর তিন মাসিক পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যদি ফিরিয়ে না নেয়, তাহলে তালাক চূড়ান্ত হয়ে যায় এবং নারীরা অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, আর তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন মাসিক পর্যন্ত নিজেদেরকে বিরত রাখবে। আর তাদের জন্য বৈধ নয় যে, আল্লাহ তাদের জরায়ুতে যা সৃষ্টি করেছেন তা তারা গোপন করবে, যদি তারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ইমান রাখে। (সুরা বাকারা: ২২৮)

৫. কোনো স্বামী যদি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দেয়, তবে সে স্ত্রী তার জন্য আর হালাল থাকে না, যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন, সে যদি তাকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়, তবে সে এরপর আর তার জন্য বৈধ হবে না, যতক্ষণ না সে অন্য স্বামী গ্রহণ করে। (সুরা বাকারা: ২৩০)

৬. তালাক বা বিচ্ছেদের সময় নারীদের থেকে মোহরানা বা অন্য কিছু জোরপূর্বক ফিরিয়ে নেওয়া যাবে না। তবে স্বামীর যদি তালাক দেওয়ার ইচ্ছা না থাকে, স্ত্রী নিজে পৃথক হয়ে যেতে চায়, তাহলে সমঝোতার মাধ্যমে স্ত্রী মোহরের কিছু অংশ ফিরিয়ে দিতে পারে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, তালাক দুইবার। অতঃপর বিধি মোতাবেক রেখে দেবে কিংবা সুন্দরভাবে ছেড়ে দেবে। আর তোমাদের জন্য হালাল নয় যে, তোমরা তাদেরকে যা দিয়েছ, তা থেকে কিছু নিয়ে নেবে। তবে উভয়ে যদি আশঙ্কা করে যে, আল্লাহর সীমারেখায় তারা অবস্থান করতে পারবে না। সুতরাং তোমরা যদি আশঙ্কা কর যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা কায়েম রাখতে পারবে না তাহলে স্ত্রী যা দিয়ে নিজকে মুক্ত করে নেবে তাতে কোন সমস্যা নেই। এটা আল্লাহর সীমারেখা। সুতরাং তোমরা তা লঙ্ঘন করো না। আর যে আল্লাহর সীমারেখাসমূহ লঙ্ঘন করে, বস্তুত তারাই জালিম। (সুরা বাকারা: ২২৯)

৭. তালাক দেওয়ার পর স্ত্রীকে সদ্ভাবে বিদায় দিতে হবে এবং কোনোভাবেই কষ্ট দেওয়া যাবে না।

আল্লাহ তাআলা বলেন, আর তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দাও, অতঃপর তারা তাদের ইদ্দত পূর্ণ করে, তখন তোমরা হয় তাদেরকে সদ্ভাবে রেখে দাও অথবা সদ্ভাবে ছেড়ে দাও। আর তাদেরকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে তোমরা আটকে রেখো না। (সুরা বাকারা: ২৩১)

ওএফএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।