দান-সদকা কবুল হওয়ার ৬ শর্ত
দান করা, আল্লাহর পথে খরচ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। কোরআনের বেশ কিছু আয়াতে মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে নামাজের সাথে দান করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন সুরা আনফালের শুরুতে আল্লাহ তাআলা বলেন, সন্দেহ নেই, মুমিন তো তারাই, আল্লাহর নাম উচ্চারিত হলে যাদের অন্তর ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে, যখন তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন তা তাদের ইমানকে বাড়িয়ে দেয় এবং তারা তাদের রবের ওপর ভরসা করে; যারা যথারীতি নামাজ আদায় করে এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। এরাই হচ্ছে প্রকৃত মুমিন। তাদের জন্য তাদের প্রভুর নিকট রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা, ক্ষমা ও সম্মানজনক রিজিক। (সুরা আনফাল: ২-৪)
সুরা বাকারার শুরুতে মুত্তাকিদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়েও আল্লাহ তাআলা দানের কথা বলেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, এই সেই কিতাব, যাতে কোন সন্দেহ নেই, যা মুত্তাকিদের জন্য হেদায়াত। যারা গায়েবের প্রতি ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। (সুরা বাকারা: ২, ৩)
সুরা বাকারার আরেক আয়াতে আল্লাহ তার সন্তুষ্টির জন্য সদকাকারীদের, তার পথে খরচকারীদের তার সন্তুষ্টি, সওয়াব ও জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। তবে এই প্রতিদান পাওয়ার জন্য সদকার সঙ্গে একটি শর্তও জুড়ে দিয়েছেন যে, সদকা করার পর সদকা গ্রহণকারীকে খোঁটা দেওয়া যাবে না বা অন্য কোনো কোনোভাবে কষ্ট দেওয়া যাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা আল্লাহর রাস্তায় তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তারপর তারা যা ব্যয় করেছে, তার পেছনে খোঁটা দেয় না এবং কোনো কষ্টও দেয় না, তাদের জন্য তাদের রবের কাছে প্রতিদান রয়েছে এবং তাদের কোনো ভয় নেই, আর তারা চিন্তিতও হবে না। (সুরা বাকারা: ২৬২)
কোরআনের আরও কিছু আয়াতে আল্লাহ তাআলা দান-সদকা কবুল হওয়ার আরও কিছু শর্ত উল্লেখ করেছেন। এখানে আমরা এ রকম ৬টি শর্ত উল্লেখ করছি:
১. সম্পদ পবিত্র ও হালাল হতে হবে
দান করতে হবে হালাল ও পবিত্র সম্পদ থেকে। হারাম অর্থ আল্লাহ তাআলা গ্রহণ করেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন, হে বিশ্বাসীরা! তোমরা যা উপার্জন করো এবং যা আমি তোমাদের জন্য জমিতে উৎপন্ন করি, সেখান থেকে পবিত্র বস্তু ব্যয় করো। (সুরা বাকারা: ২৬৭)
২. দান শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য
দান করতে হবে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ছাড়া লোক দেখানো, সম্মান অর্জন বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে দান করলে তা কবুল হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই দান-খয়রাত করো। (সুরা বাকারা: ২৭২)
৩. সদকা গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তিদের সদকা দেওয়া
নিজের জ্ঞান ও সাধ্য অনুযায়ী সদকা গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তিদের সদকা দান করতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, মানুষ কী ব্যয় করবে—এ বিষয়ে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, বলে দাও, যে ধন-সম্পদ তোমরা ব্যয় করবে তা মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, মিসকিন এবং মুসাফিরের জন্য। উত্তম কাজের যা কিছু তোমরা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত। (সুরা বাকারা: ২১৬)
৪. সদকার মধ্যে রিয়া বা লোক দেখানোর ইচ্ছা না থাকা
লোক দেখানো দান কবুল হয় না। আল্লাহ তাআলা বলেন, (আল্লাহ অপছন্দ করেনে তাদেরকে) যারা নিজ ধন-সম্পদ লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্যয় করে এবং ইমান আনে না আল্লাহর প্রতি এবং না শেষ দিনের প্রতি আর শয়তান যার সঙ্গী হয়, সঙ্গী হিসেবে কতইনা নিকৃষ্ট সে! (সুরা নিসা: ৩৮)
৫. সদকা করার পর খোঁটা ও কষ্ট না দেওয়া
সদকা করার পর সদকা গ্রহণকারীকে খোঁটা দিলে বা অন্য কোনোভাবে কষ্ট দিলে সদকার সওয়াব নষ্ট হয়ে যায় যেমন আমরা ওপরে উল্লিখিত একটি আয়াতে পেয়েছি। আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, হে ইমানদারগণ! তোমরা খোঁটা ও কষ্ট দিয়ে ওই ব্যক্তির মতো নিজেদের দান বিনষ্ট কোরো না যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য নিজের অর্থ ব্যয় করে এবং আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ইমান রাখে না। (সুরা বাকারা: ২৬৪)
৬. উৎকৃষ্ট সম্পদ থেকে দান করা
সদকা পূর্ণ সওয়াব পেতে ভালো ও উৎকৃষ্ট বস্তু সদকা করা উচিত যে বস্তর প্রতি অনাগ্রহের কারণে নয়, বরং আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করা হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, হে মুমিনগণ! তোমাদের উপার্জিত উত্তম সম্পদ থেকে এবং তোমাদের জন্য ভূমি থেকে যা উৎপন্ন করেছি তা ত্থেকে ব্যয় কর এবং নিকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করার নিয়ত করো না, তোমরা নিজেরা যা গ্রহণ কর না, যদি না তোমাদের চক্ষু বন্ধ করে থাক। আর জেনে রেখ, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, প্রশংসিত। (সুরা বাকারা: ২৬৭)
ওএফএফ