সাহাবিদের গল্প

নারী সাহাবির ধৈর্যের পুরস্কার

ইসলাম ডেস্ক
ইসলাম ডেস্ক ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:২৩ পিএম, ১৯ মে ২০২৬
নারী সাহাবির ধৈর্যের পুরস্কার ছবি: জেমিনি এআই

ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস। তার ছাত্র ছিলেন আতা ইবনে আবি রাবাহ। একদিন ইবনে আব্বাস তার ছাত্রকে বললেন, ‘আমি কি তোমাকে একজন জান্নাতি নারী দেখাব?’ আতা ইবনু আবু রাবাহ আগ্রহভরে বললেন, অবশ্যই দেখান, কে সেই জান্নাতি নারী? ইবনে আব্বাস (রা.) একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারীকে দেখিয়ে বললেন, এই নারীই সেই সৌভাগ্যবতী, যিনি দুনিয়ায় থাকতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন।

নারীটি ছিলেন মৃগী রোগে আক্রান্ত। রোগের আক্রমণ হলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলতেন, নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারতেন না। এমন কি কখনো কখনো তার কাপড়ও ঠিক থাকত না। একজন নারী হিসেবে শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি রোগটি তার জন্য লজ্জা ও সামাজিকভাবে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ার কারণও হতো। 

একদিন তিনি দোয়া চাওয়ার জন্য নবীজির (সা.) কাছে গেলেন। তিনি আশা করেছিলেন, নবীজি (সা.) তার জন্য আল্লাহর কাছে সুস্থতার দোয়া করবেন। কিন্তু নবীজি (সা.) তাকে বললেন, তুমি চাইলে আমি তোমার সুস্থতার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করবো। তবে তুমি যদি ধৈর্যধারণ করতে পারো, অসুস্থতার কষ্ট সহ্য করতে পারো, তাহলে ‍তুমি জান্নাত লাভ করবে।

এ কথা শুনে নারী (সা.) সাহাবি এই জীবনে সুস্থতার বদলে পরের চিরস্থায়ী জীবনে জান্নাতকেই গ্রহণ করলেন। দুনিয়ার সাময়িক শান্তির চেয়ে আখিরাতের স্থায়ী পুরস্কারকে বেশি মূল্য দিলেন। তিনি বললেন না—‘আমি তো সুস্থতাও চাই, জান্নাতও চাই।’ তিনি তর্ক করেননি, প্রশ্ন তোলেননি, কোনো অভিযোগও করেননি। বরং তিনি বুঝেছিলেন, আল্লাহর দেওয়া বিপদ-আপদ সহ্য করে ধৈর্য ধারণ করা এমন এক ইবাদত, যার প্রতিদান অসীম।

তবে তিনি বললেন, অসুস্থতা থাকলেও এই অসুস্থতার কারণে আমি যেন বিবস্ত্র না হয়ে পড়ি, সেজন্য দোয়া করুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তার জন্য সেই দোয়া করলেন।

আমরা সাধারণত কষ্টকে শুধু দুর্ভাগ্য হিসেবে দেখি। কিন্তু ইসলাম আমাদের শেখায়, প্রতিটি কষ্টই মুমিনের জন্য পরীক্ষা, আবার আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগও। অসুস্থতা, দারিদ্র্য, অপমান কিংবা জীবনের কঠিন মুহূর্ত—সবকিছুই মানুষের ইমানকে পরিশুদ্ধ করে। কেউ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ধৈর্য ধারণ করে, তবে সেই কষ্টই তার জন্য জান্নাতের পথ হয়ে যায়।

এই নারী সাহাবি আমাদের শিখিয়েছেন—দুনিয়ার জীবন খুব ছোট। এখানে মানুষ যত বড় সমস্যার মধ্যেই থাকুক না কেন, তার মেয়াদ সীমিত। কয়েক বছর, কয়েক দশক—তারপরই সব শেষ। কিন্তু আখিরাতের জীবন অনন্ত। আখেরাতের সুখও অনন্ত, শান্তিও অনন্ত। তাই একজন সত্যিকারের মুমিনের কর্তব্য দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী কষ্টের বিনিময়ে আখিরাতের চিরস্থায়ী সফলতাকে বেছে নেওয়া।

আজকের পৃথিবীতে আমরা মানুষকে সম্মান করি তার সম্পদ, ক্ষমতা, চাকরি, নাগরিকত্ব কিংবা সামাজিক অবস্থানের কারণে। কেউ উন্নত দেশের ভিসা পেলে, বড় পদে চাকরি করলে বা প্রচুর অর্থসম্পদের মালিক হলে সমাজে তার মর্যাদা বেড়ে যায়। মানুষ তাকে ঈর্ষা করে, অনুসরণ করে, সম্মান করে। অথচ সাহাবিদের যুগে মর্যাদার মাপকাঠি ছিল ইমান ও তাকওয়া। একজন অসুস্থ, দরিদ্র, কৃষ্ণাঙ্গ নারীও সমাজের শ্রেষ্ঠ মানুষদের একজন হতে পারতেন—যদি তিনি অটল ইমান, ধৈর্য ও তাকওয়ার অধিকারী হতেন।

ওএফএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।