জাগো নিউজের আরও একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার জয়


প্রকাশিত: ১২:২১ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

সেই মলিন মুখটিতে এখন হাসি ফুটেছে নুর নাহারের। এখন আর বান্ধবীরা তাকে বলবে না, তোকে খেলায় নেব না, কারণ তুই দৌড়াতে পারিস না। বসতে না পারার কষ্টে আর হয়তো স্কুলের পেছনের বেঞ্চটিতে দাঁড়িয়ে ক্লাস করতে হবে না তাকে। কারণ নুর নাহার এখন পুরোপুরি সুস্থ। এ নিউজ প্রকাশের কিছুক্ষণ পরই হয়তো বাড়ি পৌঁছে যাবে সে। ইতোমধ্যে তার সুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। এতক্ষণে হয়তো তার বাড়ি ফেরার কথাও জেনে গেছে এলাকার মানুষ। হয়তো তাকে দেখার জন্য তাদের বাড়ি ভিড় করবে অনেকেই। ছুটে আসবে তাকে খেলায় না নেয়া বান্ধবীরাও। তাকে সুস্থ দেখে হয়তো তারা বলবে কাল থেকে আমরা একসঙ্গে খেলবো।

Nurnahar

নুর নাহারকে নিয়ে এ ভাবনাগুলো যেন বাস্তব রূপ ধারণ করে। তাহলেই হয়তো সার্থক হবে মানবতা। সার্থক হবে জাগোনিউজ২৪.কম এর ক্ষুদ্র এ প্রচেষ্টা। পাঠক নুর নাহারের সুস্থতার কাহিনিই তাহলে আগে পড়ুন।

আজ সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিয়েছে পাবনার বেড়া উপজেলার কাপাসডাঙ্গা মণ্ডলপাড়া গ্রামের দিনমজুর সিদ্দিক মণ্ডলের ৯ বছর বয়সী মেয়ে নুর নাহারকে।

Nur-Nahar

এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এদিন হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. জুয়েল ও একই বিভাগের বিশেষজ্ঞ গাজী জহিরুল ইসলাম তার মেরুদণ্ডের ঠিক নিচের অংশে (নিতম্বে) টিউমারটি পর্যবেক্ষণ করেন।

রোগীর পারিবারিক অবস্থা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতায় নুর নাহারকে হাসপাতালে আনা হয়েছে জেনে চিকিৎসকরাও তার প্রতি আন্তরিকতা দেখান এবং ফ্রি বেড দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ৩১ জানুয়ারি সকালে তাকে ভর্তির জন্য বলা হয়। ওইদিন ভর্তি হওয়ার পর এমআরআইসহ একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ১৩ ফেব্রুয়ারি অপারেশনের মাধ্যমে তার দেহ থেকে এক কেজি ওজনের একটি টিউমার অপসারণ করা হয়।

তবে চিকিৎসকরা শুরুতেই যে আশঙ্কা করেছিলেন সেটি শেষ পর্যন্ত আর হয়নি। অপারেশনের পর দীর্ঘ ১৫ দিন হাসপাতালে পরিচর্যায় থাকার পর অবশেষে সুস্থ হয়ে উঠেছে নুর নাহার। পরিবর্তন ঘটেছে তার শরীরেরও।

Nur-Nahar
 
প্রসঙ্গত, অর্থের অভাবে টিউমারের অপারেশন করতে পারছে না হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে নুর নাহার। ফেসবুকে এমন একটি পোস্ট দেখে চ্যানেল-২৪ এর পাবনা প্রতিনিধি শাহীন রহমানের সহযোগিতায় নুর নাহারকে প্রথমে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. সিরাজুল ইসলামের কাছে নেয়া হয়।

তার টিউমার দেখে তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালে এর অপারেশন ফ্রি। কিন্তু ওষুধ বাবদ প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হবে।

এরপর গত ২২ জানুয়ারি অনলাইন নিউজপোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কম-এ ‘২০ হাজার টাকা হলেই সুস্থ হয়ে উঠবে নুর নাহার’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। নিউজটি প্রকাশের পর পরই দেশ-বিদেশ থেকে জাগো নিউজে ফোন আসা শুরু করে। একপর্যায়ে নগদ ৩১ হাজার ২০০ টাকা সহযোগিতা পায় নুর নাহারের পরিবার। সেই টাকা দিয়েই চিকিৎসা শুরু হয় নুর নাহারের। এরপর ওই সংবাদটি অন্য গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে সেদিক থেকেও সাহায্য আসে তাদের কাছে।

Nur-Nahar

পূর্বের ঘটনা টেনে নুর নাহারের বাবা সিদ্দিক মণ্ডল জানান, জন্মের পর থেকেই তার কোমরের নিচে (পেছনের অংশে) ছোট টিউমার ধরা পড়ে। তখন বুঝতে পারিনি। মেয়ে বড় হওয়ার সাথে সাথে টিউমারও বড় হচ্ছে। তিন বছর বয়সে প্রথম অবস্থায় পাবনার হামিদা ক্লিনিক ও মিতু ক্লিনিকে ডাক্তার দেখিয়েছি। কাশিনাথপুরের স্থানীয় একজন ডাক্তারকেও দেখিয়েছি।

তারা সবাই বলছেন, এ টিউমার অপারেশন করা যাবে না। করলে মেয়ে বাঁচবে না। এ চিন্তা থেকে পরে আর কোনো ডাক্তার দেখাইনি। একজন ঢাকায় নেয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু টাকা না থাকায় ঢাকায় নিতে পারিনি।

Nur-Nahar

মেয়েকে সুস্থ হওয়া দেখে তিনি জানান, যাদের সহযোগিতায় নুর নাহার সুস্থ হলো তাদের কোনো দিনও ভুলবো না। চিকিৎসায় যে মানুষ সু্স্থ হয় আমার মেয়েকে দেখে প্রমাণ পেলাম। অথচ আমরা গ্রামগঞ্জের মানুষ এখনো অন্ধকারেই আছি।

এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।