বাজার নিয়ন্ত্রণে ‘অপর্যাপ্ত’ টিসিবির কার্যক্রম
আসন্ন রমজান উপলক্ষে ১৫ মে থেকে ডিলারদের মাধ্যমে ট্রাকে করে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল ও ছোলা বিক্রি শুরু করেছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।
শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের ছয়দিন এসব পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চলবে। সারাদেশে ১৮৫টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৩৫টি, চট্টগ্রামে ১০টি, অন্যান্য বিভাগীয় শহরে পাঁচটি এবং জেলা সদরে দুটি করে ট্রাকে পণ্য বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিটি ট্রাকে প্রতিদিন ৩০০-৪০০ কেজি চিনি, ২৫০-৩০০ কেজি করে মসুর ডাল, ৩০০-৪০০ কেজি ছোলা এবং ৩০০-৪০০ লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে। একজন ভোক্তা সর্বোচ্চ চার কেজি চিনি, মসুর ডাল তিন কেজি, সয়াবিন তেল পাঁচ লিটার, ছোলা পাঁচ কেজি এবং এক কেজি খেজুর কিনতে পারবেন। প্রতিদিন ২০-৩০ কেজি খেজুর বিক্রির কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত সরবরাহ না থাকায় তা বিক্রি করা হচ্ছে না।
টিসিবি’র এ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও বাজারসংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, রাজধানীর দুই কোটির অধিক মানুষের জন্য মাত্র ৩৫টি ট্রাকে রমজানের নিত্যপণ্য বিক্রি দ্রব্যমূ্ল্য নিয়ন্ত্রণে কতটুকু ভূমিকা রাখবে।
তবে টিসিবি বলছে, সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। রাজধানীর জন্য সর্বোচ্চসংখ্যক ট্রাক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
টিসিবি সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ট্রাকে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ছয়দিন প্রতি কেজি ছোলা ৭০ টাকা, চিনি ৫৫, মসুর ডাল ৮০, খেজুর ১২০এবং সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আমদানি না থাকায় খেজুর আপাতত বিক্রি হচ্ছে না।
শনিবার রাজধানীর মতিঝিল, খামারবাড়ী ও প্রেসক্লাব এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই ট্রাকের সামনে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন। নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তরাও গাড়ির সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনছেন। সচিবালয়ের পাশে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে আসা কিছু উচ্চবিত্ত মানুষকে এ সারিতে দাঁড়াতে দেখা যায়। দাম নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও পরিমাণে কম দেয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করেন অনেকে।
ফার্মগেটের খামারবাড়ীর সামনে ট্রাক থেকে ছোলা, তেল ও চিনি কিনতে আসেন কাপড় ব্যবসায়ী ইদ্রিস মোল্লা। তিনি জাগো নিউজকে জানান, রমজান সামনে রেখে টিসিবির এ উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। পণ্যের দামও সন্তোষজনক। তবে জনপ্রতি বিক্রির পরিমাণ আরও বাড়ালে সুবিধা হতো। পাশাপাশি খোলাবাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে টিসিবির ভূমিকা রাখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় সচিবালয়ের পাশের সড়কে টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য কিনছিলেন কাকরাইলের বাসিন্দা কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম। টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য কেনার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ন্যায্যমূল্যে পণ্য পাওয়া ধনী-গরিব সবার অধিকার। সচ্ছলতা থাকলেও ন্যায্যমূল্যের বাইরে অতিরিক্ত দামে পণ্য কেনার কোনো মানে হয় না। তবে জেলা শহরের তুলনায় ঢাকায় টিসিবি আরও বেশিসংখ্যক ট্রাকে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিলে মানুষ বেশি উপকৃত হতো।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির জাগো নিউজকে বলেন, ইচ্ছা করলেই ট্রাকের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব নয়। আমাদের সামর্থ্যের বিষয়টি এখানে জড়িত। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সংখ্যা বাড়াতে হলে আবার অনুমতি নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ডিলারপ্রতি পণ্যের পরিমাণ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকায় এবং ঢাকার বাইরের ডিলারদের পণ্যের বরাদ্দ কম-বেশি করলে বৈষম্য তৈরি হতো। তাই সব ডিলারের জন্য সমান বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তালিকায় খেজুর বিক্রির কথা থাকলেও তা না পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, টিসিবি এখনও খেজুর আমদানি করতে পারেনি। আমদানির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। আশা করি ২৩ অথবা ২৪ মে থেকে খেজুর পাওয়া যাবে।
রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে এসব পণ্যের দাম টিসিবি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি। এ বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, বাজার তদারকির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সেল আছে। রমজানে খুচরা বাজারে পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি তারা দেখবে।
টিসিবি সূত্র জানায়, রমজান উপলক্ষে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের পাশাপাশি সারাদেশে টিসিবির নিজস্ব ১০টি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র এবং দুই হাজার ৮১১ ডিলারের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি অব্যাহত থাকবে। এছাড়া ১৮৫টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পণ্য বিক্রির সেবা ১৮ জুন পর্যন্ত চলবে।
এমএ/এমএআর/এমএস