বৃষ্টিতে দুর্ভোগ : পাশে নেই সাতক্ষীরার জনপ্রতিনিধিরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৯:০৩ এএম, ২৬ জুলাই ২০১৭

‘আমাদের সাতক্ষীরায় কোনো জনপ্রতিনিধি নেই ভাই। আপনারা তো আর কম লেখালেখি করলেন না। উপকার কী হলো বলেন? মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে আর লেখার দরকার নেই। আপনারা লেখা বাদ দেন। আমাদের কষ্ট আমাদের করতে দেন।’ জাগো নিউজের কাছে এভাবেই আক্ষেপের কথাগুলো বললেন শহরের সার্কিট হাউজ মোড় এলাকার বাসিন্দা তোহা খান।

তিনি আরো বলেন, শুধু শহর নয় উপজেলা সদরগুলোরও একই অবস্থা। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ডুবে গেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো। জনপ্রতিনিধিরা কেউ মাঠে নেই। সরকারি দফতরের কিছু কর্মকর্তারা নিজ উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলেও সেটি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। আবার সেটির সঠিক তদারকিও হচ্ছে না।

এদিকে, জেলার ৭টি উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সড়কগুলোর দশাও একই। পানিতে ডুবে গেছে। যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়বে জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ভেসে গেছে ২৫ লক্ষ হেক্টর মৎস্য ঘের ও চাষের জমি।

satkhira

সাতক্ষীরার তালা সদরের জেয়ালানলতা গ্রামের শরিফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আমার কয়েক হাজার বিঘা মৎস্য ঘের একেবারেই ভেসে গেছে। আল্লাহ্’র উপর ছেড়ে দিয়েছি। প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়ে গেলো আমার। এমন অবস্থা শুধু আমার নয় সকল ঘের ব্যবসায়ীদের।

অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য অ্যাড. ফাহিমুল হক কিসলু জাগো নিউজকে বলেন, এখানে কোনো জনপ্রতিনিধি আছে বলে মনে হচ্ছে না। সাতক্ষীরার সড়কগুলো চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। হেঁটে চলার কোনো উপায় নেই। কোনটি রাস্তা আর কোনটি গর্ত দেখে বোঝার উপায় নেই। বৃষ্টির পানিতে চারদিক ডুবে গেলেও জনপ্রতিনিধিদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র কাজী ফয়সাল আহম্মেদ জানান, বৃষ্টিতে কলেজের চারপাশ একেবারেই ডুবে গেছে। ডুবে গেছে কলেজের ভিতরের সব অংশ। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা নেই।

সাতক্ষীরা সদরের কাটিয়া মাঠপাড়ার বিল এলাকা, জজ কোর্টের পেছনের বিল এলাকাসহ জেলার সকল বিল এলাকাগুলো এখন প্লাবিত।

satkhira

এতি যে শুধু সাধারণ মানুষের ক্ষতি হচ্ছে এমন নয়। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাস মালিকরাও। এসব কথা জানিয়ে জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহম্মেদ বলেন, সাতক্ষীরার কোনো সড়কই ভালো নেই। চলাচলের অযোগ্য এসব রাস্তায় যাতায়াতকালে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাস মালিকরাও।

পানি নিষ্কাশনের জন্য এখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি জানিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব আব্দুল লতিফ খান জাগো নিউজকে বলেন, যেসকল নিন্মাঞ্চল প্লাবিত সেসব এলাকার পানি নিষ্কাশনের কোনো উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি। তবে যেসব খালগুলোতে নেটপাটা ও ক্রস বাঁধ দেওয়ায় পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে সেগুলো অপসারণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, তালা-কলারোয়ার এখনো তেমন কোনো অঞ্চল প্লাবিত হয়নি। কোনো বসতভিটা প্লাবিত হয়নি। ফসলি জমিও প্লাবিত হয়নি।

এদিকে কলারোয়া থেকে জুলফিকার আলী জাগো নিউজকে বলেন, কলারোয়া উপজেলার কপোতাক্ষ তীরবর্তী এলাকা দেয়াড়া, কাশিয়াডাঙ্গা, ঘোষনগর এসব এলাকাগুলো পানিতে ডুবে গেছে। কপোতাক্ষ নদ দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে না। তাছাড়া বেত্রাবতী হাই স্কুলটি একেবারেই পানিতে নিমজ্জিত। ক্লাসরুমে পানি ঢুকে গেছে। বিদ্যালয়টি আপাতত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও কপোতাক্ষ পাড়ের কিছু মানুষের বাড়িতেও পানি উঠেছে। যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে যেকোনো মুহূর্তে।

আকরামুল ইসলাম/এফএ/আরআইপি/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।