বিএনপির সঙ্গে জোট গঠন এখনও চূড়ান্ত হয়নি

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪৪ পিএম, ২৯ আগস্ট ২০১৮

ড. কামাল হোসেন। বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধানপ্রণেতা। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায়। দ্বিধা আর নানা টানাপোড়েন থেকে আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে গণফোরাম নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেন।

ছয় দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে ফের আলোচনায় গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। নির্বাচন ঘিরে ‘জাতীয় যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। ঐক্য গঠনে বৈঠক করছেন, আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

‘জাতীয় যুক্তফ্রন্ট’ গঠন প্রসঙ্গ নিয়ে মুখোমুখি হন জাগো নিউজ’র। তিন পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে প্রথমটি।

জাগো নিউজ : নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে রাজনৈতিক আলোচনায় ‘জোট’ প্রসঙ্গ তত গুরুত্ব পাচ্ছে। ‘জাতীয় যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের উদ্যোগ নিয়ে বৈঠক করেছেন। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কী বলবেন?

কামাল হোসেন : একটি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনই রাজনীতির আকাঙ্ক্ষা। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার জন্য আন্দোলন, সংগ্রাম করেছিলাম সবাই মিলে। জনপ্রতিনিধিরা জনগণের স্বার্থে, কল্যাণে দেশ শাসন করবেন। সৎ, যোগ্য ও পরিশ্রমীদেরই সংসদে আসার কথা ছিল।

সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করার কথা জনপ্রতিনিধিদের। সরকারের সব সিদ্ধান্তে জনমতের প্রতিফলন ঘটার কথা। জনগণ যা চাইবে সরকার তা-ই করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করবে। সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এটিই হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য।

কিন্তু সংসদীয় গণতন্ত্রের কোনো বৈশিষ্ট কী এখন আছে? সবই তো ভেঙে পড়লো। মানুষ তো এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চায়। কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মানুষ এখনও স্বপ্নে বিভোর। আমরা পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে ঐক্য করছি। আমাদের অঙ্গীকার জনগণকে সামনে রেখেই।

জাগো নিউজ : এমন অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ২০০৮ সালে মহাজোট গঠন করেছিলেন। আওয়ামী লীগকেও জোটে নিয়েছিলেন। আবারও পরিবর্তনের অঙ্গীকার?

কামাল হোসেন : ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ছিল আমাদের বড় একটি অর্জন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ২০০৭ সালে একটি পাতানো নির্বাচনের ফাঁদ পেতেছিল। সে নির্বাচন বন্ধ করতে বাধ্য হলো। আমাদের মহাজোট পেলো ২৭০টির মতো আসন।

ওই নির্বাচনের পর আমরা ভেবেছিলাম, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালি যা হারিয়েছিল, এবার তা ফিরে পাবে। জনগণ দেশের মালিক হিসেবে রায় দিয়েছে। সংসদ কার্যকর হবে। জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা পাবে।

southeast

কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার হতাশ করলো চরমভাবে। পরিস্থিতি বুঝে জোট থেকে আগেই বেরিয়ে এলাম। আওয়ামী লীগ সরকার আগের চেয়েও স্বৈরনীতি প্রতিষ্ঠা করতে লাগলো। যার প্রমাণ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন। স্বাধীনতার পর এমন কেলেঙ্কারির নির্বাচন আর দ্বিতীয়টি হয়নি। ওই নির্বাচনের কথা তো কেউ ভুলতে পারেনি। এ কারণে মানুষ আবার পরিবর্তনের আওয়াজ তুলেছে।

জাগো নিউজ : বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসনের কথা বলেই মহাজোট গঠন করেছিলেন। এবার সেই বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে ‘জাতীয় যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের কথা বলছেন। এমন জোটে কি আসলে পরিবর্তন সম্ভব?

কামাল হোসেন : বিএনপির সঙ্গে জোট গঠন এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আমরা আলোচনা করছি মাত্র। এখনই কিছু বলছি না।

জাগো নিউজ : কিন্তু বিএনপিকে তো পাশে পেতে প্রত্যাশা করছেন?

কামাল হোসেন : প্রত্যাশার বিষয় নয়। উদ্যোগ নিয়ে অনেকেই কথা বলছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে অনেক কিছুই বিবেচনা করবো। বিএনপির অতীত তো আমাদের জানা। দলটির নিজের মধ্যে কতটুকু পরিবর্তন আনতে পেরেছে, তা দেখবো। তাদের সঙ্গে জোট করলে মানুষ কীভাবে নেবে, ফলাফল কী আসতে পারে, তা অবশ্যই আমলে নিতে হবে।

জাগো নিউজ : আসলে কাদের সঙ্গে জোট গঠন করছেন?

কামাল হোসেন : সবই জানতে পারবেন। আলোচনা হচ্ছে নানা আঙ্গিকে। তবে আমি মনে করি, আমরা ঐক্য করছি জনগণের সঙ্গে। দলীয় জোট এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়। জনমতই আমাদের কাছে আসল কথা। যারা জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনে বিশ্বাসী তাদের সঙ্গেই আমাদের বোঝাপড়া হবে।

southeast

জাগো নিউজ : জনমতকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু জনগণ তো দ্বি-দলীয় জোটের বাইরে আসছে না। ভরসা পাচ্ছেন কীভাবে?

কামাল হোসেন : এর কয়েকটি কারণ আছে। প্রথমত, রাজনৈতিকভাবে মানুষের মতকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রের মালিক জনগণ- এ অধিকারবোধ জাগ্রত হতে দেয়া হয়নি। দ্বিতীয়ত, অসচেতনভাবে ভোট দিয়ে যাদের সংসদে পাঠায় জনগণ, তারা সংসদকে কার্যকর রাখতে পারেনি।

সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখে বিরোধী দল। সংসদে বিতর্ক হয়। এ থেকে জনগণ তথ্য পায়। সেটি আর নেই। এখন সরকার যা ইচ্ছা তা-ই করছে। বিভিন্ন প্রকল্প থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা উধাও হয়ে যাচ্ছে। জনগণ জানতে পারছে না। মিডিয়ায় কিছু আসছে। বাকি সব আড়ালে থেকে যাচ্ছে। কিন্তু এখন মানুষ সচেতন। তারা আওয়াজ তুলছেন, পরিবর্তন চাইছেন।

জাগো নিউজ : মানুষ পরিবর্তন চাইছে, তার ইঙ্গিত পাচ্ছেন?

কামাল হোসেন : দেখুন, সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। ওই আন্দোলন শুধু নিরাপদ সড়কের দাবিতে নয়। তারা স্লোগান দিয়েছে, ‘রাষ্ট্র মেরামতের কাজ হচ্ছে’। তার মানে রাষ্ট্রকাঠামো ভঙ্গুর! রাষ্ট্রে জবাবদিহিতার ঘাটতি আছে। সংসদ যে ব্যর্থ তারই ইঙ্গিত মিলেছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে। স্বতঃস্ফূর্ত এ আন্দোলন থেকেই প্রমাণ মিলেছে যে, মানুষ আসলেই পরিবর্তন চাইছে।

এএসএস/এএইচ/এমএআর/এমএস

আমরা পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে ঐক্য করছি

রাজনৈতিকভাবে মানুষের মতকে জিম্মি রাখা হয়েছে

বিএনপির অতীত তো আমাদের জানা