সমাধান হবে তো? অনিশ্চয়তার ঘনঘটায় বিপিএল

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৩৮ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

ক্রিকেটাররা তাদের দাবিতে অনড়। কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে জাতীয় দলের তিন ফরম্যাটের অধিনায়ক লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্ত, কোয়াবের অন্যতম নেতা নুরুল হাসান সোহান এবং সিনিয়র ক্রিকেটার শামসুর রহমান শুভ— সবাই বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো সমাধান ভাবতে রাজি নন।

গতকাল সন্ধ্যায় মিঠুনের ডাকা জুম সংবাদ সম্মেলনের পর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বনানীর শেরাটন হোটেলে অনুষ্ঠিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনেও ক্রিকেটারদের বক্তব্য ছিল এক ও অভিন্ন— নাজমুল ইসলামকে পদত্যাগ করতে হবে, নতুবা তাকে পদচ্যুত করতে হবে। অন্যথায় তারা বিপিএল খেলতে মাঠে নামবেন না।

এই এক দফা, এক দাবির মুখে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) আজ ১৫ জানুয়ারি নির্ধারিত দুটি ম্যাচের একটিও অনুষ্ঠিত হয়নি। আগামীকাল ১৬ জানুয়ারির দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তাও নেই। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে সে সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।

যদিও দেরিতে হলেও ক্রিকেটারদের দাবির মুখে বিসিবি দুটি পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রথমত, এম নাজমুল ইসলামকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, তিনি যে স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন— অর্থ কমিটির প্রধানের পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তামিম ইকবালের মতো দেশবরেণ্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহুল পরিচিত জনপ্রিয় ক্রিকেটারকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভারতের দালাল’ বলে অভিহিত করে চরম বিতর্কে জড়ান নাজমুল ইসলাম। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সিনিয়র পরিচালক ইফতিখার রহমান মিঠু, আমজাদ হোসেনসহ বোর্ডের বড় একটি অংশ তার এই মন্তব্যে হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তবে ক্রিকেটারদের দাবির মুখে থাকা সত্ত্বেও গঠনতন্ত্রে নির্দিষ্ট বিধান না থাকায় নাজমুল ইসলামকে বোর্ড পরিচালক পদ থেকে সরানো সম্ভব হচ্ছে না।

বিসিবির ধারণা ছিল, শোকজ নোটিশ ও অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর ক্রিকেটারদের ক্ষোভ কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে এবং তারা মাঠে ফিরে বিপিএল খেলবেন। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বরং বিপিএল বন্ধ হলে তার দায় বিসিবির ওপর চাপানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। এমনকি আসর শেষ না হলে সব ক্রিকেটারের পাওনা অর্থ বিসিবিকে পরিশোধ করতে হবে— এমন দাবিও উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে বিসিবির অভ্যন্তরেও সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। নীতিনির্ধারক মহল এখনো সমস্যার ইতিবাচক ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতিখার রহমান মিঠু খানিকটা আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘যা ঘটেছে, আমরা কেউই সেটাকে ভালোভাবে নেইনি। তামিম ইকবাল ইস্যুতে সবাই লজ্জিত ও হতাশ। একজন জাতীয় তারকাকে প্রকাশ্যে এমন তীর্যক ভাষায় আক্রমণ করা কোনো সচেতন মানুষের কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্রিকেটারদের দাবির বিষয়েও আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। কিন্তু বিসিবির গঠনতন্ত্রে নির্দিষ্ট কয়েকটি কারণ ছাড়া কাউকে পদচ্যুত করার বিধান নেই। তিনি নিজে থেকে সরে না দাঁড়ালে কিংবা দুঃখ প্রকাশ না করলে আমরা জোর করে কীভাবে সরাবো?’

এদিকে বিসিবির একজন শীর্ষ কর্তা ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের এই সদস্য সচিব আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এমনিতেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে বাংলাদেশ কি না— এ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আইসিসির সিদ্ধান্ত কী হবে, তা নিয়ে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন। তার মধ্যেই এই সংকট পরিস্থিতি সামলানো সত্যিই কঠিন।’

তবে কি বিপিএল শেষ দিকে এসে বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে?

এই প্রশ্নের জবাবে ইফতিখার রহমান মিঠু বলেন, ‘আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ক্রিকেটারদের মাঠে ফিরিয়ে এনে বিপিএল শেষ করার। সে লক্ষ্যেই আজ বৃহস্পতিবার রাতে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে বোর্ড কর্তাদের ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। দেখা যাক, আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধান বেরিয়ে আসে কি না।’

সবশেষে বলা যায়, বিসিবির উচ্চপর্যায়েও বিপিএল নিয়ে নেতিবাচক ভাবনা তৈরি হয়েছে। বোর্ডের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, ক্রিকেটাররা যদি কোনোভাবেই মাঠে না ফেরেন, তাহলে বিসিবি নিজ উদ্যোগেই এবারের বিপিএল বন্ধ করে দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এআরবি/আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।