মিরাজের জায়গায় থাকলে কি করতেন সালমান?
বাংলাদেশের স্পিন কোচ মুশতাক আহমেদের সংবাদ সম্মেলন তখনও শেষ হয়নি। পাকিস্তানের মিডিয়া ম্যানেজার নাদিম জিলানি হাজির সালমান আলী আগাকে নিয়ে। এরপর যখন সালমানের সংবাদ সম্মেলন শুরু হলো, সামনে থাকা সাংবাদিক ও সালমান দুই পক্ষের মুখেই হাসি! সালমান জানতেন তাকে নিয়ে কি প্রশ্ন করা হবে। হলোও তাই, এক পর্যায়ে জিলানি বলে উঠলেন আমরা এবার অন্য টপিকে যাই প্লিজ!
এরপর সালমান প্রথম প্রশ্নে নিজেই বললেন, মিরাজের জায়গায় থাকলে তিনি ভিন্ন কিছু করতেন। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের বলতে পারি ঘটনার পরে কি হয়েছে। সবাই দেখেছে কি হয়েছে। অনেকটা মুহূর্তের উত্তেজনায় ঘটে যাওয়ার মতো ব্যাপার। তবে আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, আমি ওখানে থাকলে কি করতাম, আমি ভিন্নভাবে করতাম। তবে এরপর যা হয়েছে, সবটুকুই ‘হিট অব দ্য মোমেন্টে’ হয়ে গেছে।’
মিরাজ আইন মেনেই আউট করেছেন, এখানে স্পোর্টসম্যানশিপ আর আইন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সালমান বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা ক্রিকেট আইনের মধ্যেই আছে। আমি এমন একজন মানুষ যে সবসময় নিয়ম মেনে চলতে চাই। কিন্তু কখনো কখনো যখন খেলোয়াড়সুলভ আচরণের (Sportsman spirit) প্রশ্ন আসে, আমার মনে হয় পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, এই স্পিরিটটা সবার উপরে থাকা উচিত। তবে সে (মিরাজ) যা করেছে তা আইনের মধ্যেই আছে; সে যদি মনে করে সে ঠিক করেছে, তবে সেটা তার কাছে ঠিক। কিন্তু যদি আমার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জিজ্ঞেস করেন, আমি হয়তো কাজটা অন্যভাবে করতাম। আমি আইনের চেয়ে খেলোয়াড়সুলভ আচরণকেই বেশি প্রাধান্য দিতাম।’
তখন ক্রিজে ঢোকার চেষ্টা না করে মিরাজকে বল দিতে যাচ্ছিলেন সালমান। কি ভাবছিলেন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বলটা প্রথমে আমার প্যাডে লেগেছিল, তারপর ব্যাটে। তাই আমি ভেবেছিলাম যে, যেহেতু বলটা আমার প্যাড আর ব্যাটে লেগে থেমে গেছে, তাই এখন আর আমাকে রান আউট করা যাবে না। আমি মোটেও রান নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম না বা তেমন কোনো উদ্দেশ্য আমার ছিল না; আমি কেবল বলটা ওকে (মিরাজকে) ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। আমি সেটাই করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ওর মাথায় অন্য কিছু ঘুরছিল।’
এসকেডি/আইএইচএস