তানজিদ তামিম দেখালেন ফর্মটাই শেষ কথা

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:২০ পিএম, ১৫ মার্চ ২০২৬

নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ দিতেই পারেন তানজিদ হাসান তামিম। প্রথা মেনে হিসেব কষলে আর পরিসংখ্যান দেখে একাদশ সাজালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অন্তত প্রথম ম্যাচটি তার খেলারই কথা ছিল না। কারণ, ৪ মাস আগে এই শেরেবাংলায় বাংলাদেশ যে শেষ ওয়ানডে ম্যাচটি খেলেছিল, সেই ম্যাচে সাইফ হাসানের সঙ্গে উদ্বোধন করতে নেমে ৮৬ বলে ৪ ছক্কা ও ৭ বাউন্ডারিতে ৯১ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেছিলেন সৌম্য সরকার।

শুধু তাই নয়, সাইফ হাসানের সঙ্গে জুটি বেঁধে ১৭৬ রান তুলে ওয়ানডেতে প্রথম উইকেটে বাংলাদেশের নবম সেরা জুটিও গড়েছিলেন বাঁহাতি সৌম্য। ধারণা করা হয়েছিল, সেই মাঠে এবার পাকিস্তানের সঙ্গেও ওপেন করবেন সৌম্য।

কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট সাইফ হাসানকে রেখে ওপেনার হিসেবে সৌম্যের জায়গায় সুযোগ দিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিমকে।

প্রথম ম্যাচে টার্গেট ছিল সামান্য, ১১৫। সে লক্ষ্যের পিছু ধেয়ে টি-টোয়েন্টি মেজাজে খেলে ৪২ বলে ৬৭ রানের হার না মানা ইনিংস উপহার দিয়েই নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের সে সিদ্ধান্তের কার্যকারিতার প্রমাণ দেন তানজিদ তামিম। আর আজ রোববার শেষ ম্যাচে দারুণ সেঞ্চুরি করে তানজিদ তামিম দেখিয়ে দিলেন, তাকে খেলানো ভুল হয়নি।

কেন সৌম্যের বদলে তানজিদ তামিম একাদশে? শেষ ম্যাচে একটা বড় ওপেনিং জুটি গড়ার পাশাপাশি ৯০–এর ঘরে পা রাখার পরও কেন সৌম্য তিন ম্যাচের একটিতেও জায়গা পেলেন না? এমনকি সাইফ পরপর দুই খেলায় রান না করার পরও কেন তার জায়গায় সৌম্যকে নেওয়া হয়নি? এসব প্রশ্ন অনেকের মুখে।

সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে একটিই কারণ। তাহলো, ৪ মাস আগে এই হোম অব ক্রিকেটে সৌম্য দুর্দান্ত ব্যাটিং করলেও সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনা করেই নাকি সৌম্যের বদলে তানজিদ তামিমকে নেওয়া হয়েছে। এটা মোটেই মিথ্যে নয়। তানজিদ তামিম ঘরোয়া সীমিত ওভারের ক্রিকেটে টগবগ করে ফুটছেন। নিয়মিত রান করছেন এবং বড় বড় ম্যাচ জেতানো ইনিংস উপহার দিয়েছেন।

ছোট্ট পরিসংখ্যানেই তা পরিষ্কার হবে। এবারের বিপিএলের ফাইনালে মাত্র ৬২ বলে দারুণ সেঞ্চুরি (১০০) করেছেন তানজিদ তামিম। তারপর অদম্য টি-টোয়েন্টির ফাইনালে উপহার দিয়েছেন ৮৮ রানের আরেকটি দুর্দান্ত ইনিংস। তার পর বিসিএল টি-টোয়েন্টিতে একজোড়া হাফসেঞ্চুরি (৫৪ ও ৯২)।

আর এ সিরিজের আগে ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে বিসিবি অলস্টার্স একাদশের বিপক্ষে আবার শতরান করে বসেন তানজিদ তামিম। সেই ম্যাচে রান পাননি সৌম্য।

বোঝাই যায়, রানে আছেন। তাই সৌম্যকে ফেলে তানজিদ তামিমকেই বেছে নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তানজিদ তামিম যে সত্যিই ফর্মে, আজ ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম শতক তার বড় উদাহরণ।

কখনো কখনো ইতিহাস, পরিসংখ্যান থেকে সরে বর্তমান ফর্মকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এবার বাংলাদেশ দলের নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট সেই ফর্মুলা মেনে তানজিদ তামিমকে চলতি সিরিজের তিন ম্যাচই খেলার সুযোগ দিয়েছেন। তামিমও সে সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগালেন।

নিজেকে মেলে ধরা ম্যাচে আরও একটি অপবাদও ঘোচালেন তানজিদ তামিম। সমালোচকদের কথা, ছোট টার্গেটের বিপক্ষে তানজিদ তামিমের ব্যাট যত সাবলীল, টার্গেট বড় হলে আর তা থাকে না। তখন তামিমকে তুলনামূলক নিষ্প্রভ মনে হয়। খেলায় আস্থা ও আত্মবিশ্বাসে ঘাটতিও চোখে পড়ে।

সেটা যে শুধুই অপবাদ, তার পক্ষে কোনো যুক্তি নেই—তা বলারও কোনো অবকাশ নেই। এবার পাকিস্তানের সঙ্গে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই তানজিদ তামিমের দুই রূপ। প্রথম ম্যাচে টার্গেট ছিল মাত্র ১১৫। তামিম দুরন্ত, দুর্বার। ৪২ বলে ৬৭ রানের হার না মানা ইনিংস।

ঠিক পরের খেলায় টাইগারদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৭৫। কিন্তু সে খেলায় তানজিদ তামিম নিষ্প্রভ। ব্যর্থ। মাত্র ১ রানে আউট।

অবশেষে আজ সেই অপবাদমুক্ত হলেন তামিম। রোববার শেরে বাংলায় চাপমুক্ত পরিবেশে আগে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি উপহার দিয়ে দেখিয়ে দিলেন, শুধু ছোট টার্গেট হলেই ব্যাট কথা, এমন নয়; আকর্ষণীয় উইলোবাজি, গণ্ডায় গণ্ডায় ছক্কা হাঁকানোর পাশাপাশি লম্বা ইনিংসও খেলতে পারেন তিনি।

রোববার শেরে বাংলায় ৯৮ বলে শতরান পূর্ণ করা তানজিদ তামিম শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন বল সমান ১০৭ রান করে।

ক্রিকেট সংস্কৃতিতে বলা হয়, ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট।’ কিন্তু আজ তানজিদ তামিম দেখালেন, ফর্মটাই শেষ কথা।

এআরবি/এমএমআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।