ছেলেবেলার ঈদের প্রধান রোমাঞ্চ ছিল সালামি: শান্ত

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:৩৭ পিএম, ২০ মার্চ ২০২৬

ঈদ মানেই আনন্দ। ছোট-বড় নির্বিশেষে ঈদের স্বর্গীয় খুশির ফল্গুধারা বয়ে যায় সবার মনেই। তবে ছেলেবেলার ঈদের আনন্দটাই ভিন্ন। ভাই-বোন, আত্মীয়-পরিজন, সমবয়সী—সবার সাথে সেই আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার অনুভূতিটাই আলাদা। সারা বছরের অন্য কোনো দিনের সাথে সেই দিনটির আনন্দের তুলনা হয় না।

সেজন্যই সবাই চায় পরিবার, পরিজন, আপনজন ও শুভানুধ্যায়ীদের সাথে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করতে। তাই তো ঈদ আসলেই সবাই ছুটে যান শেকড়ের টানে, আপন মানুষের কাছে। আর সে কারণেই প্রতিবছর দুই ঈদকে কেন্দ্র করে গোটা দেশে গাড়ি, বাস ও অন্যান্য যানবাহনের প্রচণ্ড ব্যস্ততা দেখা দেয়।

তবে ফুটবলার বা ক্রিকেটারদের অনেকের এখন আর আগের মতো পরিবারের সাথে ঈদ করার সুযোগ হয় না। যেহেতু ক্রিকেট এখন সারা বছর ধরেই খেলা হয় এবং ঘরোয়া আসর ছাড়াও মহাদেশীয়, আন্তর্জাতিক ও বৈশ্বিক আসর নিয়মিত আয়োজিত হয়, তাই ক্রিকেটারদের অনেক ঈদই দেশের বাইরে কাটাতে হয়। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ছাড়াও আইসিসির এফটিপি সিরিজের ব্যস্ততা তো আছেই।

এবারের ঈদের ছুটিতে জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য থাকছে ক্রিকেটারদের ছেলেবেলার ঈদ ও স্মৃতিময় সব ঘটনা। আজ প্রথম পর্বে নিজের শৈশবের গল্প শুনিয়েছেন সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটার ও জাতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

ছেলেবেলার ঈদের প্রধান রোমাঞ্চ ছিল সালামি: শান্ত

জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জন্মসূত্রেই রাজশাহীর ছেলে। বড় হয়েছেন রাজশাহী শহরের নিকটবর্তী রংহাট গ্রামে। কিন্তু ক্রিকেটার হবার বাসনাতেই রাজশাহী শহরে ছুটে আসা। সেখানে ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমিতে কোচ রফিকুল ইসলামের হাত ধরে শুরু হয় তার ক্রিকেট জীবন।

ছেলেবেলার ঈদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শান্ত বারবার একটি কথাই বলছিলেন, ‘ঈদের সালামি’। পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে পাওয়া সালামি পেতেই মুখিয়ে থাকতেন আজকের এই তারকা ব্যাটার।

শান্ত বলেন, 'আমার বেড়ে ওঠা রাজশাহীর রংহাট গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই সেখানে সব ভাই-বোন ও কাজিনরা মিলে আনন্দ করতাম। সবাই দলবেঁধে ঈদের খুশি ভাগ করে নেওয়ার মাঝে অন্যরকম এক আনন্দ ছিল। তবে ২০০৭ সালে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আমি প্রথম রাজশাহী শহরে আসি। ভর্তি হই ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমিতে। তবে ঈদের সময় ঠিকই বাড়ি চলে যেতাম।'

শৈশবের স্মৃতি নিয়ে তিনি আরও বলেন, 'আমাদের জয়েন্ট ফ্যামিলি ছিল। আব্বারা চার ভাই, সবাই মিলে একসাথে ঈদ করতাম। সেখান থেকে ছুটিতে নানা বাড়িও ঘুরতে যেতাম। ছোটবেলায় ঈদের সবথেকে এক্সাইটিং পার্ট ছিল ‘ঈদের সালামি’। মনে মনে একটা দারুণ উত্তেজনা কাজ করত যে কার কাছ থেকে কত সালামি পাব। সালামি পাওয়ার পর সবাই মিলে একসাথে খাওয়া-দাওয়া, গল্প আর ঘোরাঘুরি করেই দিন কাটত।'

শান্ত জানান, ১৪ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬ এবং অনূর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেটের সাথে জড়িয়ে পড়েন। তখনো ঈদ রাজশাহীতেই করতেন। কিন্তু অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার সময় থেকেই পরিবার থেকে দূরত্ব বাড়তে থাকে। খেলার প্রয়োজনে দেশের বাইরে সফর করতে হতো।

শান্ত স্মৃতিচারণ করে বলেন, 'অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলতে গিয়েই আমি প্রথমবার পরিবার ছাড়া দেশের বাইরে ঈদ করি। সেটি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজে। পরে ইংল্যান্ডেও একবার ঈদ করতে হয়েছে। সত্যি বলতে, তখন অনেক ছোট ছিলাম বলে প্রফেশনালিজম অতটা বুঝতাম না। তাই পরিবার ও বাড়ির কথা খুব মনে পড়ত, খুব মিস করতাম।'

ছেলেবেলার ঈদের প্রধান রোমাঞ্চ ছিল সালামি: শান্ত

বিদেশের মাটিতে ঈদের দিনের এক তিক্ত স্মৃতির কথা জানিয়ে শান্ত বলেন, 'ঈদের দিন সম্ভবত ভারতের সাথে খেলা ছিল। দুর্ভাগ্যবশত আমরা হেরেছিলাম। এখনো সেই হারের স্মৃতি মনে পড়লে খুব মন খারাপ হয়। বারবার মনে হয়, ঈদের দিন যেন কোনো খেলা না পড়ে।'

বর্তমানে জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য হওয়ায় দেশের বাইরে ঈদ করাটা এখন শান্তর কাছে স্বাভাবিক হয়ে গেছে। তিনি বলেন, 'এখন জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গেলে ফরেন ট্যুর করতেই হয়। এখন আর খারাপ লাগে না, অভ্যাস হয়ে গেছে। পেশার জায়গা থেকে সবকিছু প্র্যাকটিক্যালি নিতে শিখে গেছি। তাছাড়া আমাদের ড্রেসিংরুমের বন্ডিং খুব ভালো। আমরা সবাই একটা ফ্যামিলির মতোই থাকি।'

জাতীয় দলে খেলার সময়কার কোনো বিশেষ স্মৃতি আছে কি না—এমন প্রশ্নে শান্ত একটি মজার তথ্য শেয়ার করেন। তিনি বলেন, 'পাপন স্যারের (নাজমুল হাসান পাপন) সময় আমরা যারা জাতীয় দলে খেলেছি, প্রত্যেক ঈদে সালামি পেতাম। আমরা যেখানেই থাকতাম না কেন, আমাদের সবার কাছে ঈদের সালামি পৌঁছে যেত। এটা দারুণ একটা ব্যাপার ছিল।'

এবারের ঈদ কোথায় করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শান্ত জানান, তিনি রাজশাহীতে নিজ বাড়িতেই থাকবেন। শহর থেকে ২০-২৫ মিনিটের পথ তার গ্রাম রংহাট। সেখানে চাচাদের সবার আলাদা আলাদা বাসা হলেও ঈদ উপলক্ষে সবাই এক হয়ে যান। কাজিনরা মিলে হইচই, খাওয়া-দাওয়া আর আড্ডায় মেতে ওঠেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।

এআরবি/এসকেডি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।