শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় আতর-টুপি-কসমেটিকসের চাহিদা বেশি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:২৬ পিএম, ২০ মার্চ ২০২৬
শেষ মুহূর্তে পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে মেহেদি, কসমেটিকস ও জুয়েলারি কিনছেন ক্রেতারা/ছবি: জাগো নিউজ

রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। তবে এখনো রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে মেহেদি, কসমেটিকস সামগ্রী, জুয়েলারি, আতর, টুপি, পাঞ্জাবি ও পায়জামার চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে পোশাকের দোকানে ক্রেতা তুলনামূলক কম।

শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে মৌচাক-মালিবাগ এলাকার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এসব মার্কেটের বিক্রেতারা জানান, ঈদের আগ মুহূর্তে সাধারণত পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে মেহেদি, কসমেটিকস ও জুয়েলারি কেনেন ক্রেতারা।

মৌচাক মার্কেটের সামনে কথা হয় মালিবাগ চৌধুরী পাড়ার বাসিন্দা যমজ বোন তানিশা ও সুমাইয়ার সঙ্গে। দুজনেই একাদশ শ্রেণিতে পড়েন। তারা জানান, আগেই পোশাক কেনা শেষ করেছেন। এখন কসমেটিকস, মেহেদি ও চুড়ি কিনতে এসেছেন।

তানিশা বলেন, ঈদের আগেই আমরা পোশাক কিনেছি। এখন কসমেটিকস, মেহেদি ও চুড়ি কিনছি। দুই ধরনের মেহেদি নিয়েছি, সঙ্গে মেহেদির স্টিকারও কিনেছি। স্টিকার দিয়ে হাতে ডিজাইন করলে দেখতে ভালো লাগে। বিভিন্ন ডিজাইনের স্টিকার নিয়েছি।

সুমাইয়া বলেন, পোশাক কিনতে যখন এসেছিলাম তখন মার্কেটে প্রচুর ভিড় ছিল। তাই মেহেদি, চুড়ি বা কসমেটিক্স কেনা হয়নি। আজ মার্কেট অনেক ফাঁকা, তাই পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে চুড়ি ও অন্যান্য জিনিস কিনছি।

jagonews24

মার্কেটের বিক্রেতা ইমরান হোসাইন বলেন, সাধারণত ঈদের আগ মুহূর্তে কিংবা চাঁদরাতে মেহেদি ও কসমেটিকস বেশি বিক্রি হয়। কারণ অনেকেই পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে এসব জিনিস কিনতে চান।

তিনি বলেন, গতকাল পর্যন্ত মার্কেটে অনেক ভিড় ছিল। আজ মূলত স্থানীয় বাসিন্দা কিংবা যারা ঢাকাতেই ঈদ করবেন তারা কেনাকাটা করতে এসেছেন। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে জুয়েলারি ও কসমেটিকস কিনছেন।

আশরাফ হাবিব পায়জামা ও আতর কিনতে এসেছেন। তিনি বলেন, ঈদের অনেক আগেই পরিবারের অন্যদের জন্য এবং নিজের জন্য পাঞ্জাবি ও টি-শার্ট কিনেছি। কিন্তু পায়জামা ও আতর কেনা হয়নি। তাই আজ এগুলো কিনতে এসেছি। তবে বৃষ্টির কারণে ক্রেতা কম, যা একদিকে ভালো হলেও দোকানিদের জন্য কষ্টের।

এদিকে পোশাকের দোকানগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। অনেক দোকানেই বিক্রেতারা অলস সময় পার করছেন।

jagonews24

এমনই একজন বিক্রেতা সাইমুম বলেন, ঈদের আগে কিছুদিন ভালো বিক্রি হয়েছে। কিন্তু আজ বৃষ্টির কারণে এখন পর্যন্ত তেমন ক্রেতা নেই। তবে গতকাল পর্যন্ত ভালো বিক্রি হয়েছে। বৃষ্টি না হলে ক্রেতা বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছেন হাবিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, চাঁদরাতে ফাঁকা মার্কেটে কেনাকাটা করবো ভেবেছিলাম। যেহেতু এবার রোজা ৩০টি পূর্ণ হয়েছে, তাই আজ একটু সময় নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছি। স্ত্রী ও মেয়ের জন্য থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গা কিনবো।

শেষ মুহূর্তে কেনাকাটার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদের তিন-চার দিন আগে মার্কেটে খুব ভিড় থাকে। তখন কেনাকাটা করা কষ্টকর হয়ে যায়। আবার ক্রেতা বেশি থাকায় অনেক সময় বিক্রেতারা বেশি দাম চান। তাই ফাঁকা সময়ে এসে কেনাকাটা করছি।

ইএআর/ইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।