প্রমোশনও বাতিল করবে তামিমের বিসিবি? কি ভাবছে ক্লাবগুলো!

ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪৮ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

গেল নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগের জেরে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের অধীনে কোনো লিগে অংশ নেয়নি ৩৯টি ক্লাব। পরে গত ৭ এপ্রিল নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়ে বুলবুলের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন তামিম ইকবাল। দায়িত্ব নিয়েই মাঠে ক্লাব ক্রিকেট ফেরাতে বিভিন্ন স্তরের ক্লাবগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আলোচনায় বসছেন বিসিবি সভাপতি তামিম।

সবশেষ প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাবগুলোর সঙ্গে বৈঠকে এ মৌসুমে অবনমন না রাখার সিদ্ধান্তে সবাই একমত হয়েছে। তবে প্রমোশন নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এবার প্রথম বিভাগ থেকে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব ও ঢাকা ইউনাইটেড প্রমোশন পেয়েছে। আর দ্বিতীয় বিভাগ থেকে উঠেছে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব ও ইয়াং পেগাসাস। এই চার ক্লাবের সঙ্গে আলাদা করে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।

প্রমোশন পাওয়া একটি ক্লাবের এক সূত্র জানায়, ‘আসলে সত্যিকার অর্থে উনি তো বলেননি যে প্রমোশন উঠিয়ে দেবেন। উনি বলেছেন যে চারটি ক্লাবের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবেন। চার ক্লাব যদি একমত হয় যে প্রমোশন না হলেও সমস্যা নেই, তাহলে জটিলতা কমে যাবে। আর যদি চার ক্লাবই বলে যে তারা প্রমোশন চায়, তাহলে অ্যাডহক কমিটির অন্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান বের করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগের বোর্ড প্রথম বিভাগ শুরু হওয়ার সময়ই আটটি দলকে রেলিগেটেড দেখিয়েছিল, যেটা নিয়মবহির্ভূত ছিল। আবার দ্বিতীয় বিভাগ থেকেও ১২টি দলকে অবনমিত করা হয়েছিল। স্বাভাবিক নিয়মে সাধারণত দুটি দল অবনমিত হয়। এই জটিলতা থেকেই এখন সমঝোতার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা ২৪টি ক্লাব খেলেছি সবাই রেলিগেশন না রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। তবে চারটি ক্লাব যে প্রমোশন পেয়েছে, সে বিষয়ে অন্য ক্লাবগুলোর সবাই একমত হয়নি। কেউ কেউ বলেছে যারা উঠেছে তাদের উঠতে দেওয়া হোক, আবার কেউ বলেছে কোনোটাই না রেখে আগের জায়গাতেই রাখা হোক। যদি উন্নতি-অবনতি দুটোই না থাকে, এই খেলার জন্য ক্লাবগুলো কেন বিনিয়োগ করবে? আমরা তো বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী লিগ খেলেছি এবং চ্যাম্পিয়নও হয়েছি। এখন যদি বলা হয় সেই ফল বাতিল, তাহলে সেটা তো সমাধান নয়।’

এদিকে আরেক ক্লাবের এক কর্মকর্তা জানান, প্রমোশন বাতিলের কোনো যৌক্তিকতা দেখছেন না তারা। তিনি বলেন, ‘প্রমোশন তো হয়ে গেছে। আমরা খেলেই অর্জন করেছি। এটা কারও দয়ায় পাইনি। বিসিবিই আমাদের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ ঘোষণা করেছে। অতীতেও অনেক সময় লিগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তখন দেখা গেছে রেলিগেশন হওয়া দলগুলোকে সহানুভূতি দেখিয়ে রাখা হয়েছে, কিন্তু যারা শিরোপা জিতেছে তাদের প্রমোশন ঠিকই দেওয়া হয়েছে।’

প্রমোশন বাতিলের প্রস্তাব এলে কী অবস্থান নেবেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা তো মেনে নেব না। আমরা অনেক টাকা খরচ করে দল গড়েছি। যারা খেলতে পারেনি তাদের প্রতিও আমাদের সহানুভূতি আছে। কিন্তু তাই বলে প্রমোশন বন্ধ করে দেওয়া অযৌক্তিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুইটি দল বেশি খেললে কোনো বড় সমস্যা হবে না। আগেও তো ক্রিকেটে অনেক বেশি দল খেলেছে। এখন ৭৬টি দল খেলছে, সেখানে ৭৮টি হলে সমস্যা কোথায়?’

চার ক্লাবের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাব্য সময় নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বলেছেন খুব শিগগিরই আমাদের সঙ্গে বসবেন। হয়তো দুই-চার দিনের মধ্যেই বৈঠক হতে পারে। তবে বোর্ডের অন্যান্য কাজের ব্যস্ততাও আছে। সময় পেলেই তিনি বসবেন বলে জানিয়েছেন।’

একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছে দ্বিতীয় বিভাগ থেকে প্রমোশন পাওয়া আরেকটি ক্লাবও। ক্লাবটির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা লিগ খেলেই এই জায়গায় এসেছি। তাই এখন প্রমোশন বাতিলের প্রশ্নই ওঠে না। সভাপতি যদি প্রমোশন বাতিলের কথাও বলেন, আমরা কেন মানবো? এটা তো প্রশ্নই ওঠে না!’

তিনি আরও বলেন, মাঠে যা হয়েছে সেটাই বহাল থাকা উচিত। তিনি বলেন, ‘আমরা খেলেই এই অর্জন করেছি। তাই আমাদের প্রমোশন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই আমাদের কথা শুনতে হবে।’

কবে এই বৈঠক হতে পারে-এমন প্রশ্নে ওই সূত্র বলেন, ‘এখনো কোনো তারিখ ঠিক হয়নি। তবে মূল সিদ্ধান্তটা হয়ে গেছে, রেলিগেশন নেই। এখন প্রমোশনের বিষয়টা ১০ দিন বা ১৫ দিন পর আলোচনা হলেও সমস্যা নেই। আমরা মনে করি শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক সিদ্ধান্তই আসবে।’

এসকেডি/আইএন

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।