নিচের দিকের ব্যাটিং পারফরম্যান্স নিয়ে মনোকষ্ট লিটনের
চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও ওপেনাররা রান পাননি। শুধু দুই ওপেনার সাইফ হাসান আর তানজিদ হাসান তামিম নন, অধিনায়ক লিটন দাসের ব্যাট থেকেও রান আসেনি। কিন্তু তিন মিডল অর্ডার তাওহীদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন ইমন আর শামীম পাটোয়ারী শুরুর ধাক্কা সামলে দল জিতানোর কাজটি করেছেন।
হৃদয়ের ফিফটি (১৮৮ স্ট্রাইক রেটে অপরাজিত ৫১) আর পারভেজ ইমন (২০০ স্ট্রাইক রেটে ২৮) ও শামীম পাটোয়ারীর (২৩৮ স্ট্রাইক রেটে ৩৩ নটআউট) একজোড়া ঝড়ো ইনিংস বাংলাদেশকে পৌঁছে দেয় জয়ের বন্দরে।
আজ কেউই পারেননি। ২ মে সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ে টিম বাংলাদেশের পুরো ব্যাটিং লাইনআপ ফ্লপ। তাওহীদ হৃদয় (২৪ বলে ৩৩) আর লিটন দাস (১৭ বলে ২৬) ছাড়া টপ, মিডল ও লেট অর্ডারে কারও ব্যাট কথা বলেনি। হাসেনি।
টপ অর্ডারে সাইফ হাসান (১১ বলে ১৬), তানজিদ তামিম (১০ বলে ৬), মিডল অর্ডারে পারভেজ ইমন (১ বলে ০) আর শামীম পাটোয়ারী (৮ বলে ৩) চরম ব্যর্থ। আর লেট অর্ডারের অবস্থা রীতিমতো শোচনীয়। ৭ নম্বর শেখ মেহেদী (৬ বলে ৭), ৮ নম্বর সাইফউদ্দিন (১ বলে ০) ও ৯ নম্বর রিশাদ হোসেন (৪ বলে ৫) কিছুই করতে পারেননি।
তাদের পেছনে শরিফুল ইসলাম (৩ বলে ২) আর রিপন মন্ডল (১ বলে ০) উইকেটে গিয়েই বিদায় নিলে ১৭ বলে ১৬ রানে পতন ঘটে শেষ ৬ উইকেটের। ব্যাটিং পারফরম্যান্সের এ করুণ চিত্রই বলে দিচ্ছে, ম্যাচে বাংলাদেশের পরিণতি কতটা খারাপ!
বাংলাদেশ কি ওই জায়গায়ই হেরে বসেছিল? খেলা শেষে প্রশ্ন উঠলো। বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস উত্তরে যা বললেন, তার সারমর্ম হলো, টপ ও মিডল অর্ডারের সঙ্গে লেট অর্ডারের কাছ থেকেও দল ‘কন্ট্রিবিউশন’ আশা করে। তারাও একটা অংশ। কিন্তু বাংলাদেশ দলে কার্যত লেট অর্ডার পারফরমারদের সে অর্থে কোনোই অবদান থাকছে না। তারা সময়মতো কিছুই করতে পারছেন না। যেমন আজ পারেননি। পারলে হয়তো খেলার ফল ও চিত্র ভিন্ন হতে পারত।
লিটন দাসের অনুভব, শুধু টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নয়। এখন সাদা বলে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে সমস্যা-সংকুল জায়গা হলো লেট অর্ডার ব্যাটিং।
তার কথা, ‘ফার্স্ট প্রেস কনফারেন্সে আমি একটা কথা বলেছিলাম যে, আমাদের লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব আছে। আমি চাই যে তারা আমাদের ইনপুট দেবে ব্যাটিংয়ে। সো আজকে সে ইনপুট দেওয়ার জায়গা ছিল। কিন্তু আবারও ব্যর্থ হয়েছে লেট অর্ডার।’
আগে বলা কথা নতুনভাবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি ক্যাপ্টেন বোঝানোর চেষ্টা করেন, বাংলাদেশ দলে যারা স্পিনার হিসেবে খেলেন, তাদের ব্যাটিংয়ে তেমন কোনোই অবদান থাকছে না। তারা যদি ব্যাট হাতে অবদান রাখতেন, তাহলে দল উপকৃত হতো। সময়ের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হতো। তা না পারলেও তারা যদি কেউ বল হাতে এক্সট্রা-অর্ডিনারি পারফরম করতেন, তাহলেও একটা কথা ছিল। কিন্তু তাও পারছেন না কেউ।
লিটন বলেন, ‘ওইদিনও বলেছি রিশাদ, শেখ মেহেদী, নাসুম স্পিনার হিসেবে খেলে। ওয়ার্ল্ডওয়াইড যারা স্পিনার হিসেবে খেলে, সঙ্গে ব্যাটিং করে—সব টিমেই পারে। তা না হলে আপনাকে চায়নাম্যান হতে হবে, যেটা মিরাকেল কিছু। যেমন অনেক টিমের প্লেয়ার থাকে শুধু বোলিং হিসেবেই খেলে। বাট শেখ মেহেদী তো ব্যাটিং পারে, বাট ওই পারফরম্যান্সটা আমাদের দরকার ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে। সেম গোজ টু নাসুম অ্যান্ড রিশাদ। অলরাউন্ডারের ক্ষেত্রে যদি আমি বলি, সাইফউদ্দিন, সাকলাইন আছে। তানজিম সাকিবও আছে। তাদের কাছ থেকে আমরা একটা ব্যাটিং আশা করি। যে ব্যাটিংটা কিছু কিছু সময় এরকম গেম থাকবে, যে গেমগুলোতে লোয়ার অর্ডারের দরকার। তো এই জিনিসটা খুবই ইম্পর্ট্যান্ট। আই হোপ যে ওরা ফিউচারে আমাদেরকে এই জিনিসটা ডেলিভার করবে।’
লেট অর্ডারের এই ব্যর্থতার সমাধানটা কী? মানে আপনারা কি নতুন কিছু চিন্তা করবেন? মানে একটা প্রপার অলরাউন্ডার নাকি ব্যাটিং ডেপথ আরও বাড়ানো—এরকম কোনো কিছু চিন্তা করছেন কি না? তার উত্তরে টাইগার ক্যাপ্টেনের ব্যাখ্যা, ‘টি-টোয়েন্টিতে ৫ বোলার ছাড়া যেতে পারব না। আমি যদি ৯ ব্যাটসম্যান নিয়ে যাই, ৩ বোলার নিয়ে খেলা লাগবে।’
রিশাদ দীর্ঘদিন ধরে ব্যাটে কিছুই করতে পারছেন না। অনেক লম্বা সময় হয়ে গেছে যে ব্যাটিংটা ওরকম কাজে দিচ্ছে না। তা নিয়ে কি আপনারা এক্সট্রা কাজ করানো হচ্ছে কি না?
লিটনের উত্তর, ‘অনেকদিন ধরেই করছে। আমাদের যারা ব্যাটিং কোচ আছে তারা পেছনে সময় দিচ্ছে। অবভিয়াসলি আপনি তো একদিনে রাতারাতি চেঞ্জ হতে পারবেন না এবং এটা সম্ভবও না। বাট ওরাও চেষ্টা করছে। আই হোপ যে ওয়ার্ল্ড কাপ আসতে আসতে কিছুটা হলেও বেটার হবে।’
কারোর মধ্যে কোনো লোয়ার অর্ডারদের মধ্যে কি দেখেছেন যে ব্যাটিং করার ইচ্ছা অনেক বেশি বা ইমপ্রেস করছে কি না? লিটন বললেন, ‘প্র্যাকটিসে সবাই চেষ্টা করছে। আপনারা দেখলেও দেখবেন যে সবাই ব্যাটিং করে শেষ পর্যন্ত। এক হচ্ছে যে নেটে ব্যাটিং আর ম্যাচের ভেতর ব্যাটিং—অনেক ডিফারেন্স আছে। আই হোপ যে ওরা যদি ম্যাচগুলোতে পারফর্ম করে, তাহলে কনফিডেন্সটা আরও বিল্ড আপ হবে।’
এআরবি/এমএমআর