সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে না পারাকেই অজুহাত দিচ্ছে পাকিস্তান
মিরপুর টেস্টে পাকিস্তান কী কখনো ম্যাচে ছিলো? হয়তো বা দ্বিতীয় দিনটাকে পাকিস্তানের অনুকুলে ছিল বলা যায়। এমনকি চতুর্থ দিনও ম্যাচের ভাগ্য ছিল বাংলাদেশের জয় আর ড্র’য়ের মাঝে ফিফটি ফিফটি। এই পরিস্থিতিতে শেষ দিনের একেবারে শেষ সেশনে এসে এভাবে বাংলাদেশের বোলাররা বাজিমাত করে দেবে, তা হয়তো পাকিস্তানিরা স্বপ্নেও চিন্তা করেনি।
কিন্তু টেস্ট খেলা এমনই। যে কোনো একটি সেশনেই বদলে যেতে পারে অনেক কিছু। বাংলাদেশ শেষ সেশনে এসে সুযোগটা গ্রহণ করেছে। পাকিস্তান পারেনি। এই না পারাটাকেই মিরপুর টেস্টে হারের জন্য দায়ী করছেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ।
মিরপুর টেস্ট শেষ হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বেশ হতাশা প্রকাশ করেন পাকিস্তান অধিনায়ক। ম্যাচ শেষে তিনি স্বীকার করেন, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি তার দল।
টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শান মাসুদ। ম্যাচ শেষে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও পাকিস্তান অধিনায়ক জানিয়েছেন, তখনকার কন্ডিশন বিবেচনায় সিদ্ধান্তটি ভুল মনে হয়নি। তবে পরে ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় এখন সেটি ভুল মনে হতে পারে।
শান মাসুদের ভাষায়, ‘পরে সবকিছু বিচার করলে অনেক কিছুই সহজ মনে হয়। আমরা কন্ডিশন দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তখন পেস বোলিংয়ের জন্য খুব ভালো পরিবেশ ছিল। শুরুতেই আমরা দুই উইকেটও পেয়েছিলাম।’
তবে শুরুটা ভালো হলেও পাকিস্তান সেটার সুবিধা নিতে পারেনি বলে আক্ষেপ করেন তিনি। তার মতে, প্রথম ইনিংসেই ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করে পাকিস্তান।
পাকিস্তান অধিনায়ক বলেন, ‘প্রথম ইনিংসে আমরা সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারিনি। শুধু বল হাতে নয়, ব্যাট হাতেও আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আরও বেশি রান করা উচিত ছিল। আসলে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং ও বোলিং- দুই বিভাগেই আমাদের আরও ভালো করা দরকার ছিল।’
তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিন পর টেস্ট ক্রিকেট খেলতে নেমে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জায়গায় পিছিয়ে পড়েছে তার দল। তবে ক্রিকেটারদের চেষ্টার কমতি ছিল না বলেও উল্লেখ করেন পাকিস্তান অধিনায়ক।
শান মাসুদ বলেন, ‘চেষ্টার বিষয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না। বিশেষ করে ছয় মাস পর টেস্ট ক্রিকেট খেলতে নামলে এমন ম্যাচ অনেক কিছু শেখায়। এই ধরনের উইকেটে যখন ম্যাচ আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে, তখন প্রতিপক্ষকে আরও চাপে ফেলতে হয়। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারিনি।’
এদিকে অভিষেক হওয়া তরুণ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট পাকিস্তান অধিনায়ক। তিনি জানান, সম্ভাবনা দেখেই তরুণদের দলে নেওয়া হয়েছিল এবং তারা সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তার ভাষায়, ‘তাদের পারফরম্যান্সে আমি খুবই খুশি। আমরা সম্ভাবনা দেখেই তাদের দলে নিয়েছিলাম। তারা এই পর্যায়ে খেলার সামর্থ্য রাখে। ম্যাচে তাদের পরিণত মানসিকতা দারুণ ছিল।’
তবে টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা ধরে রাখাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন শান মাসুদ। তিনি বলেন, ‘এখন দেখার বিষয় তারা কতটা ধারাবাহিক হতে পারে। আমার বিশ্বাস, সেই সামর্থ্য তাদের আছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যখন সুযোগ আসে, তখন নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হয়।’
আইএইচএস/