দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ম্যাচসেরা অধিনায়ক শান্ত

ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০৪ পিএম, ১২ মে ২০২৬

দলের জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পার যে কোনো অধিনায়কের জন্যই বিশাল একটি ব্যাপার। পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০৪ রানের ঐতিহাসিক জয়ে ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই ইনিংসেই দুর্দান্ত ব্যাট করেছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ৮৭ রান।

পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুর্দান্ত এই জয়ে অবদান রয়েছে বোলারদেরও। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্দান্ত বোলিং করে ৯.৫ ওভারে ৪০ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিলেন নাহিদ রানা। ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় নাহিদ রানার এই বোলিং ছিল অসাধারণ। তিনি তাণ্ডব না চালালে বাংলাদেশের জয় সম্ভবই হতো না হয়তো।

তবে, পুরো ম্যাচের চিত্র বিবেচনায় অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ১০১ রান ও ৮৭ রানের দুটি ইনিংসকেই ম্যাচের সেরার জন্য বিবেচনায় আনা হলো এবং ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতলেন বাংলাদেশ অধিনায়কই। শুধু ব্যাট হাতেই নয়, নেতৃত্বেও অসাধারণ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

ম্যাচ শেষে সেরার পুরষ্কার আনতে গিয়ে শান্ত জানালেন, গত কয়েক মাসের কঠোর পরিশ্রমের ফলই এই জয়। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘খুবই আনন্দ লাগছে। পুরো দলকে নিয়ে আমি গর্বিত। আমরা যেভাবে খেলেছি, তা সত্যিই দারুণ। গত কয়েক মাস আমরা খুব কঠোর পরিশ্রম করেছি। সেই পরিশ্রমের ফল পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’

শান্তর মতে, বাংলাদেশ দল ধীরে ধীরে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের আরও শক্তিশালী করে তুলছে। সেটাই ছিল দলের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য। টাইগার অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা ধীরে ধীরে টেস্ট ক্রিকেটে আরও ভালো হচ্ছি। সবসময়ই আমরা এটা চেয়েছি। এই জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে।’

টস হারলেও আগে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। যা ছিল দলের জন্য দারুণ এক সুযোগ। টস জিতলেও তাই করতো বাংলাদেশ। কারণ, বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ যথেষ্ট শক্তিশালী। তাই আগে রান তুলে পরে বোলারদের ওপর ভরসা রাখতেই চেয়েছিলেন অধিনায়ক।

শান্ত বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনাই ছিল আগে ব্যাট করা। গত কয়েক মাসের প্রস্তুতির পর আমরা জানতাম আমাদের বোলিং আক্রমণ খুব ভালো। তাই প্রথমে বড় রান তুলে পরে বোলারদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা ছিল।’

দ্বিতীয় ইনিংসে ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েও কথা বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তিনি জানান, বোলারদের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা ছিল বলেই দ্রুত পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তার ভাষায়, ‘আমরা ইনিংস ঘোষণা করেছি কারণ আমাদের মানসম্পন্ন বোলিং আক্রমণ আছে। এই কন্ডিশনে নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ আর তাইজুল ইসলাম অসাধারণ বোলিং করেছে। আমি সবসময় দলের প্রয়োজনটাই আগে ভাবি এবং প্রতিটি ম্যাচে অবদান রাখার চেষ্টা করি।’

মিরপুরের উইকেট নিয়েও নিজের পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন শান্ত। তিনি বলেন, ম্যাচের প্রথম কয়েক ঘণ্টা ব্যাটিং করা সহজ ছিল না। তবে মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটিং দলকে বড় ভিত গড়ে দেয়। তিনি বলেন, ‘প্রথম ইনিংসের শুরুতে উইকেট কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। বাড়তি বাউন্সও ছিল। কিন্তু আমরা ভালো শট খেলেছি। বিশেষ করে মুমিনুল ভাই এবং মুশফিক ভাই দারুণ ব্যাটিং করেছে।’

ঐতিহাসিক এই জয় উদযাপন করলেও খুব দ্রুত পরের ম্যাচের দিকেই মনোযোগ দিতে হবে বলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। এখন সিলেট টেস্টের উইকেট ও কন্ডিশন বুঝে নতুন পরিকল্পনা সাজানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। ‘আজ আমরা জয়টা উপভোগ করব। এরপর সিলেটের কন্ডিশন মূল্যায়ন করে পরের ম্যাচের পরিকল্পনা করব’- যোগ করেন শান্ত।

আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।