ঢাকার বিশ্বাস ছিল পোলার্ডই পারবেন

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০১:১৮ এএম, ২২ নভেম্বর ২০১৭
ঢাকার বিশ্বাস ছিল পোলার্ডই পারবেন

জয়ের দোরগোড়ায় গিয়েও তা ছোঁয়া হলো না। যেন তীরে এসে তরী ডুবলো ঢাকা ডায়নামাইটসের। সাকিব, আফ্রিদি, নারিন, পোলার্ডদের ড্রেসিংরুমে কবরের মতো নিস্তবদ্ধতা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে আসা আবু হায়দার রনি অকপটে স্বীকার করলেন, নিশ্চিত জয় হাতছাড়া করেছে ঢাকা।

এ কারণেই মুখে এমন কথা, ‘আমরা খুব ভালো অবস্থায় ছিলাম। এখান থেকে জেতাটাই ছিল স্বাভাবিক; কিন্তু যে কোনো কারণেই হোক আমরা পারিনি।’

শেষ ওভারে পোলার্ডের তিন তিনটি ডট বলই (আসলে তিনি নিজেই সিঙ্গেল নিতে চাননি) কি আসলে পরাজয়ের মূল কারণ? সবার মুখে একই কথা। হাতে দুই উইকেট বাকি থাকার পরও পোলার্ড তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়েও তিন তিনটি সিঙ্গেল নেবার সুযোগ দিলেন নষ্ট করে। ঘুরিয়ে বললে তিনটি সিঙ্গেলস নেননি তিনি ইচ্ছা করেই।

নন স্ট্রাইকে থাকা মোহাম্মদ আমিরকে শেষ ওভারে এক বলেও স্ট্রাইক দিতে চাননি এই ক্যারিবীয়। আত্মবিশ্বাস ছিল, তিনিই পারবেন। ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জেতাবেন।

প্রথম দুই বলে সিঙ্গেল না নিয়ে তৃতীয় বলটি ডিপ মিড উইকেটের ওপর দিয়ে তুলে সীমানার ওপারে ভাসিয়ে দিলে, সে সম্ভাবনার প্রদীপই জ্বলে উঠলো; কিন্তু চার নম্বর বলে আবার সিঙ্গেল নেয়ার সুযোগ থাকলেও নেননি। সেটাই কাল হলো। পঞ্চম ডেলিভারিতে তাকে ইয়র্কারে বোল্ড করলেন রংপুরের শ্রীলঙ্কান পেসার থিসারা পেরেরা।

সেই তিন রানেই হার। খালি চোখে মনে হচ্ছে, ওই তিনটি সিঙ্গেল না নেবার জন্যই হেরেছে ঢাকা; কিন্তু আবু হায়দার রনির কথা শুনে মনে হলো ড্রেসিং রুমে কেউ পোলার্ডকে দোষারোপ করেননি। রনির কথা, ‘সবার বিশ্বাস ছিল পোলার্ড ছক্কা হাঁকানোয় ওস্তাদ। তিনি পারবেন; কিন্তু যে কোনো কারণেই হোক আজ হয়নি।’

শেষ বলে ৪ রান দরকার থাকা অবস্থায় রনি উইকেটে এসে, রিভার্স সুইপ খেলতে গেলেন উইকেট সোজা বলে। তিনি কেন উইকেটের সামনে বা মিড উইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা কিংবা বাউন্ডারি হাঁকানোর চেষ্টা করলেন না?

রনি রিভার্স সুইপ না খেলে সোজা ব্যাটে লং অফ, লং অনের ওপর দিয়ে চালানোর চেষ্টা করলে হয়ত চালচিত্র অন্যরকম হতে পারতো। এমন ভাবছেন অনেকেই; কিন্তু যিনি ওই সময় ক্রিজে ছিলেন, সেই আবু হায়দার রনি কেন তা না করে ক্রস ব্যাটে ঝুঁকি নিয়ে রিভার্স সুইপ খেলতে গেলেন? তার ব্যাখ্যাও আছে।

রনির সোজা-সাপ্টা উত্তর, ‘ইয়র্কার লেন্থের ডেলিভারি হচ্ছিল। আমি ধরেই নিয়েছিলাম আরও একটি ইয়র্কারই আসবে। এসেছেও। আমি উইকেটে গিয়েই ওই ধরনের কঠিন ডেলিভারিতে লং অফ কিংবা লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকাতে পারবো না। তা জেনে বুঝেই স্থির করি ফাইন লেগের পাশ দিয়ে রিভার্স সুইপ খেলে বলকে সীমানার ওপারে পাঠালে কেমন হয়? যেমন ভাবা তেমন কাজ। কিন্তু ব্যাটে বলে হয়নি।’

এআরবি/আইএইচএস/বিএ