রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে সেই পেরেরাই জেতালেন রংপুরকে

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০৪ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০৪:৫৮ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭
রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে সেই পেরেরাই জেতালেন রংপুরকে

এর আগে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে শেষ ওভারে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ৩ রানে রংপুরকে জয় এনে দিয়েছিলেন থিসারা পেরেরা। এরপর টানা দুই ম্যাচ হারতে হয়েছিল রংপুরকে। অবশেষে চট্টগ্রামে গিয়ে স্বাগতিক চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে আজও রূদ্ধশ্বাস ম্যাচে শেষ বলে ছক্কা মেরে মাশরাফির রংপুর রাইডার্সকে ৩ উইকেটে জয় এনে দিলেন এই লঙ্কান পেসার।

বিপিএলে আজ সন্ধ্যার ম্যাচের শেষ মুহূর্তটা ছিল চরম নাটকীয়তায় পূর্ণ। একেবারে শেষ বল না হওয়া পর্যন্ত ম্যাচ ঝুলছিল দুই দলের দিকেই। একদিকে চিটাগং ভাইকিংসের বোলার তাসকিন, অন্যদিকে রংপুরের আশার প্রদীপ নিয়ে উইকেটে টিকে থাকা থিসারা পেরেরা।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৪ রান। প্রথম বলে ২ রান। দ্বিতীয় বলেই মেরে দিলেন ছক্কা। তৃতীয় বলে দ্রুত সিঙ্গেল নিতে গিয়ে রানআউট হয়ে গেলেন নাহিদুল ইসলাম। চতুর্থ বলে শাহরিয়ার নাফীস উইকেটে এসেই ছক্কা মারতে গিয়ে দিলেন ক্যাচ। ক্রিজ পরিবর্তন করে পেরেরা স্ট্রাইকে। শেষ দুই বলে দরকার ৬ রান। ৫ম বলে নিলেন ২ রান। শেষ বলে প্রয়োজন ৪ রান। এই মুহূর্তে ওয়াইড দিয়ে বসলেন তাসকিন। শেষ বলে ফুল লেন্থের বল করতে গিয়েই দিলেন লুজ বল। সেটিকেই ছক্কায় পরিণত করেন পেরেরা। সঙ্গে সঙ্গেই জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে রংপুর রাইডার্স।

নানা নাটকীয়তা শেষে জয়েন জন্য শেষ ওভারে রংপুরের প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। বোলার তাসকিন আহমেদ। স্ট্রাইকে থিসারা পেরেরা। প্রথম বলেই পেরেরা ২ রান নিয়ে নেন। পরের বলেই বিশাল এক ছক্কা হাঁকালেন তিনি। ৪ বলে দরকার তখন ৬ রান। পরের বলটি পেরেরা মিস করলেও সিঙ্গেল নেয়ার জন্য ছোটেন; কিন্তু এনামুল হক বিজয় বল মেরে সোজা স্ট্যাম্প ভেঙে দিলে আউট হয়ে যান নাহিদুল।

ম্যাচ ঘিরে তখন উত্তেজনা তুঙ্গে। উইকেটে আসলেন শাহরিয়ার নাফীস। ৩ বলে দরকার ৬ রান। এ সময় বল হাওয়ায় ভাসিয়ে দিলেন নাফীস। সবাই ভাবছিলেন ছক্কা হয়ে যাচ্ছে; কিন্তু বলটি বাউন্ডারি পার না হয়ে সরাসরি ফিল্ডারের হাতে গিয়ে পড়ে এবং নাফীসও আউট হয়ে যান। রংপুরের দরকার তখন ২ বলে ৬ রান।

ক্যাচ ধরার আগেই স্ট্রাইকিং এন্ডে চলে আসেন পেরেরা। পরের বলে দ্রুতই দুটি রান নিয়ে নেন তিনি। দারুণ স্নায়ুর চাপ। সামলাতে পারলেন না তাসকিন। দিয়ে দিলেন ওয়াইড। এক বলে দরকার তখন ৩ রান। সময় নিয়ে শেষ বলটি করলেন তাসকিন; কিন্তু লেগ স্প্যাম্পের ওপর শট বল করে বসেন তাসকিন। এমন একটি বলের জন্যই যেন অপেক্ষা করছিলেন পেরেরা। কোনো ফিল্ডারকেই ফিল্ডিং করার সুযোগ দিলেন না তিনি। সোজা পাঠিয়ে দিলেন বাউন্ডারির ওপারে। সঙ্গে সঙ্গেই ডাগআউট থেকে মাঠে ছুটে আসলো রংপুর রাইডার্সের খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তারা। দৌড়ে এসে তারা কোলে তুলে নিলেন পেরেরাকে।

চিটাগংয়ের দেয়া ১৭৭ রান তাড়া করতে নেমে ২০ ওভার খেলে রংপুর সংগ্রহ করে ৭ উইকেটে ১৮০ রান।

এর আগে রংপুরকে জয়ের মূল ভিত্তিটি গড়ে দিয়ে যান দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। গেইল-ম্যাককালাম ঝড় না উঠলেও, সাগরিকায় আজ টর্নেডো বইয়ে দিয়েছেন মাশরাশি। মাঠে আজ ছিল 'ম্যাশ ঝড়’। ১৭ বল খেলে তিনি করেন ৪২ রান। যার মধ্যে ছিল চারটি বাউন্ডারি এবং ৩টি বড় বড় ছক্কার মার।

ব্রেন্ডন ম্যাককালাম অন্যদিনের মত আজও ছিলেন ব্যর্থ। আল-আমিন জুনিয়রের বলে আউট হওয়ার আগে তিনি ২০ বল খেলে করেন মাত্র ১৫ রান। রংপুরের আরেক বিধ্বংসী ওপেনার ক্রিস গেইল ছিলেন ধীরে চল নীতিতে। ২৫ বলে তিনি করেন ৩৩ রান। তবে এতে একটি চারের মার থাকলেও ছক্কার মার ছিল তিনটি।

রংপুরকে মাশরাফি ছাড়াও জয়ের পথ দেখিয়েছেন মোহাম্মদ মিথুন। ২৯ বলে চার বাউন্ডারির সাহায্যে তিনি করেন ৪৪ রান। যদিও রিকির বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান তিনি। শেষ মুহূর্তে থিসারা পেরেরার হার না মানা ২৮ রানই অসাধারণ একটি জয় এনে দিয়েছে রংপুরকে। এই ২৮ রানের মধ্যে ১৬ রানই নিয়েছেন তাসকিনের শেষ ওভার থেকে।

চিটাগংয়ের হয়ে আল-আমিন, তাসকিন, সৌম্য, সানজামুল, তানবির হায়দার ও রিচি একটি করে উইকেট নেন। এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ফন জিলের তাণ্ডবে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রান করে চিটাগং ভাইকিংস। চিটাগংয়ের ফন জিল ৪০ বলে করেন ৬৮ রান।

এমএএন/আইএইচএস