তিন জাতি আসরে ওয়ান ডাউনে ব্যাট করবেন সাকিব?

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৩৫ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৮

আর মাত্র ৭২ ঘন্টা। তারপরই শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পর্দা উঠবে ত্রিদেশীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের। ১৫ জানুয়ারি প্রথম খেলায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল।

প্রচন্ড শীতেও ভক্ত-সমর্থকদের উৎসাহ, উদ্দীপনায় ভাটা পড়েনি। নতুন বছরের প্রথম মাসে প্রিয় জাতীয় দলকে সমর্থন জানাতে, অনুপ্রাণিত করতে মাঠে যাবার প্রস্তুতি হাজারো ক্রিকেট অনুরাগির। সঙ্গে একটি কৌতুহলি প্রশ্নও সবার মনে, আচ্ছা, মাশরাফির দল কি আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে?

বলার অপেক্ষা রাখেনা, মাঝে ‘ভাল দলের’ তকমা গায়ে আঁটা টাইগাররা গত বছরের শেষ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে যারপরনাই খারাপ খেলেছে। ব্যাটিং , বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের তিন শাখায় ভীষণ অনুজ্জ্বল মাশরাফির দল হোয়াইটওয়াশ হয়ে দেশে ফেরত এসেছে। ঘরের মাটিতে তিন জাতি আসরে সে ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেড়িয়ে আসা সম্ভব হবে? জিম্বাবুয়ে আর শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে তিন জাতি টুর্নামেন্ট জিতে কি আবারো আলোয় ফিরবে মাশরাফির দল?

শুধু ভক্ত-সমর্থকদের কৌতুহলি প্রশ্নই নয়, ওই একটি সমীকরণ নিয়েই ত্রিদেশীয় আসরে মাঠে নামবে স্বাগতিকরা। হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে নেই। তার অবর্তমানে রিচার্ড হ্যালসল আর খালেদ মাহমুদ সুজনের তত্ত্বাবধানে চলছে প্রস্তুতি। প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে আর শ্রীলঙ্কার শক্তি-সামর্থ, গঠন শৈলি এবং তাদের গতি প্রকৃতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দল সাজানো থেকে শুরু করে লক্ষ্য ও কৌশল নির্ধারনের পালাও চলছে।

বেশ কিছুদিন পর এবার দলগঠনে নির্বাচকরা নিজেদের মতো করে দল সাজিয়েছেন। অধিনায়ক মাশরাফির মতামতও যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে। এখন চলছে প্রথম একাদশ সাজানোর প্রক্রিয়া।

আগেই জানা হয়েছে, তামিম ইকবালের সঙ্গে প্রথম দিন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ওপেন করতে যাচ্ছেন এনামুল হক বিজয়। এখন দেখার বিষয় তিন নম্বরে কে খেলেন বা কাকে ওয়ান ডাউনে নামানো হয়? যতদূর জানা গেছে, সম্ভবত সাকিব আল হাসান এবার ঘরের মাঠে তিন নম্বর পজিশনে ব্যাট হাতে মাঠে নামবেন।

বলার অপেক্ষা রাখে না, ওপেনিংয়ে তামিম একদিকে নিয়মিত ভাল খেলে রান করছেন। তার সঙ্গী হিসেবে কখনো ইমরুল, কোন সময় এনামুল হক বিজয় আবার কোন সময় সৌম্য বা লিটন কাজ চালিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু তিন নম্বরে সে অর্থে কার্যকর পারফরমার নেই। তাই বেশ কিছু দিন ধরেই তিন নম্বর পজিশনটি নিয়ে চলছে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

ওয়ানডে ক্রিকেটে যে সময়টাকে বাংলাদেশের সাফল্যের স্বর্ন সময় বলা যায়, সেই ২০১৪ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়েকে ৫- ০ ‘তে হোয়াইটওয়াশের সিরিজ থেকে এই তো গত বছর অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর; এই সময়ের মধ্যে ব্যাটিং অর্ডারে একটি মাত্র পজিশনই ছিল নড়বড়ে, তা হলো ওয়ান ডাউন।

গত তিন বছরের বেশি সময়ে এই তিন নম্বরে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে মুমিনুল, ইমরুল, সৌম্য, মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির ও লিটনকে খেলানো হয়েছে। এমনকি সাকিবকেও একবার চেষ্টা করানো হয়েছে।

২০১৪ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে জিম্বাবুয়েকে ধবল ধোলাইয়ের মিশনেও তিন নম্বরে কেউ আলো ছড়াতে পারেননি। তাই পাঁচ খেলায় চারজনকে তিন নম্বরে খেলানো হয়। প্রথমটিতে মুমিনুল। পরের খেলায় সাকিব। আবার পরে মুমিনুল। চার নম্বর ম্যাচে ইমরুল। আর পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে সৌম্যকে ট্রাই করানো হয়। প্রায় একই অবস্থা ছিল ২০১৫ সালের আইসিসি বিশ্বকাপেও। সেখানেও ইমরুল আর মাহমুদউল্লাহকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলানো হয়েছে।

এরপর ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে তিন ম্যাচের সিরিজে ‘বাংলা ওয়াশ’ করলেও তিন নম্বরে মাহমুদউল্লাহ তিন ম্যাচ খেলেও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। ঠিক পরপরই ভারতের সাথে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতলেও সেখানে তিন নম্বরে নামা লিটন কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হন। এরপর দক্ষিণ অফ্রিকার সাথে হোম সিরিজে দল জিতলেও তিন নম্বর পজিশনে খেলা লিটন আবারও অকার্যকর প্রমাণিত হন।

গত বছর মে মাসে আয়ারল্যান্ডে তিন জাতি আসর আর জুনে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তিন নম্বর পজিশন নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। আয়ারল্যান্ডে তিন জাতি আসরে চার ম্যাচেই তিন নম্বরে খেলানো হয় সাব্বির রহমান রুম্মনকে। প্রথম দুই ম্যাচে চরম ব্যর্থ ( ০ আর ১) সাব্বির পরের দুই ম্যাচে নিজেকে অবশ্য মেলে ধরেন। তৃতীয় খেলায় (৩৪ বলে ৩৫) আর চার নম্বর ম্যাচে সাব্বির ৮৩ বলে ৬৫ রান করেন।

এরপর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আবার তিন নম্বর পজিশনে রদবদল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তামিম (১২৮) আর সৌম্য (২৮) ওপেন করেন। তিন নম্বরে খেলেন ইমরুল কায়েস (১৯)। দ্বিতীয় খেলায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও তিন নম্বরে ইমরুল (৬)। তার ব্যাট কথা না বলায় তিন নম্বর ম্যাচে আবার সাব্বিরকে ফিরিয়ে আনা। কিন্তু কিউইদের বিপক্ষে সাকিব (১১৫ বলে ১১৪) ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ( ১০৭ বলে ১০২) অনবদ্য জোড়া শতকে জয়ের দেখা মিললেও তিন নম্বরে নামা সাব্বির (৮) ছিলেন ব্যর্থ। ভারতের সাথে সেমিফাইনালে ওপেনার তামিম (৭০) রান করলেও তিন নম্বরে নামা সাব্বির আরেকবার ব্যর্থ (২১ বলে ১৯) ।

গত বছর অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকায় তিন ম্যাচের শেষ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে হঠাৎ সাকিবকে (৪৫ বলে ২৯) তিন নম্বরে প্রমোশন দেয়া। কিন্তু পরের দুই ম্যাচে আবার লিটনকে (১২ বলে ১৪ এবং ৬ বলে ৬) ট্রাই করানো হয়েছে। কিন্তু যথারীতি লিটনও ব্যর্থ।

নিকট অতীত ও সাম্প্রতিক সময়ে যিনি তিন নম্বরে খেলেছেন বেশ কটি ম্যাচ, সেই লিটন দাস এবার ঘরের মাঠে তিন জাতি ক্রিকেটে দলেই নেই। ওদিকে ইমরুলও শতভাগ ফিট নন। তাই তিন নম্বর পজিশন নিয়ে খানিক সংশয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট।

মাঝে ১৪ ম্যাচ ওয়ান ডাউন খেললেও সাম্প্রতিক ফর্মটা তেমন ভালো না। তাই সাব্বির রহমানকে তিন নম্বর থেকে নিচে খেলানোর চিন্তা চলছে। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু আর টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনের সাথে কথা বলে মনে হলো, তারাও সাব্বিরকে ওয়ান ডাউন খেলানো নিয়ে দ্বিধায়। বরং ভিতরে ভিতরে সাকিবকেই তিন নম্বরে খেলানোর কথা ভাবছেন।

আরআই/এমএমআর/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :