হতে পারতেন ব্যাট প্রস্তুতকারী, কিন্তু নেতৃত্ব দেবেন অ্যাশেজে

শাহাদাৎ আহমেদ সাহাদ
শাহাদাৎ আহমেদ সাহাদ শাহাদাৎ আহমেদ সাহাদ , স্পোর্টস রিপোর্টার
প্রকাশিত: ০৬:৩১ পিএম, ২২ জুলাই ২০১৯

গতবছর কেপটাউন টেস্টে বল টেম্পারিং কাণ্ডের পর অনেক বদলে গেছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট। নিয়মিত অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারকে শাস্তি দিয়ে, অধিনায়কত্ব দেয়া হয়েছিল আনকোরা টিম পেইনের কাঁধে। যিনি এবার অ্যাশেজেও নেতৃত্ব দেবেন অস্ট্রেলিয়াকে।

তার ব্যাপারে ক্রিকেটবোদ্ধাদের সংশয় ছিলো অনেক কিন্তু সেসবকে পাত্তা না দিয়ে প্রায় বছর দেড়েক ধরেই অভিজাত ফরম্যাটের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ানদের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন পেইন। অথচ এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন ছেড়ে দেবেন ক্রিকেট, কাজ শুরু করবেন ব্যাট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে।

টিম পেইনের টেস্ট ক্যারিয়ারকে ভাগ করা যায় দুই ভাগে। ২০১০ সালে ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক হয় তার। সে বছর খেলেন ৪টি টেস্ট। কিন্তু এ ৪ ম্যাচের ৮ ইনিংসে মাত্র ২টি ফিফটি করায় বাদ পড়ে যান দল থেকে।

বাদ পড়ার পর পুনরায় দলে ফিরতে ৭ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে পেইনকে। মাঝের সময়টায় পুরোপুরি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ব্যাপারে। রাজ্য দল তাসমানিয়া তাকে মাত্র ১ বছরের চুক্তি প্রস্তাব করায়, তখন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন পরিবারের জন্য হলেও খেলা ছেড়ে অন্য কিছু করবেন।

অস্ট্রেলিয়ান সংবাদ মাধ্যমে সে সময়ের স্মৃতিচারণ করে পেইন বলেন, ‘তাসমানিয়া আমাকে শুধুমাত্র ১ বছরের চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল, যা আমার কাছে নিরাপদ মনে হয়নি। তাই আমি নতুন ক্যারিয়ার শুরু করার সিদ্ধান্তটি বদলানোর মতো যথেষ্ঠ কারণ পাচ্ছিলাম না। আমি তখনও খেলাটা ভালোবাসতাম। কিন্তু পরিবারের জন্য আমাকে একটা সিদ্ধান্ত নিতেই হতো। আমার মনে হচ্ছিলো যে এ খেলায় আমার শেষ প্রান্ত চলে এসেছে।’

তখন মেলবোর্নে সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের প্রতিবেশি ছিলেন পেইন। যিনি পেইনের মতোই হোবার্ট ছেড়ে থাকতে শুরু করেছিলেন মেলবোর্নে। পন্টিংকে ফোন করে খানিক মজার ছলেই সমস্যার কথা জানান পেইন। পরে এই ফোনকলটিই বাঁচিয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অধিনায়কের ক্যারিয়ার।

পেইনের ভাষ্যে, ‘আমি তখন রিকি পন্টিংকে ফোন করি। সেও আমার মতো হোবার্ট থেকে মেলবোর্নে চলে এসেছিল। তাকে বললাম, ‘হেলো বন্ধু, তুমি কি আমার জন্য ব্রাইটনের আশপাশে কোনো বাড়ির সন্ধান দিতে পারো?’ আমি তার সাথে মজার ছলে বলছিলাম কথাগুলো। কিন্তু তখন মেলবোর্নে থাকা আমার জন্য আসলেই কষ্টসাধ্য ছিল। তবে আমার আশা ছিলো পন্টিং আমাকে ভালো কোনো পরামর্শ দেবেন।’

Paine---2

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কথা শুনে পন্টিং কনফিউজড হয়ে যায়। জিজ্ঞেস করে, ‘আমি কিছু বুঝতে পারছি না। তুমি কিসের কথা বলছো?’ আমি তখন আমার অবস্থা তাকে বুঝিয়ে বলি যে তাসমানিয়া আমাকে শুধু ১ বছরের প্রস্তাব দিয়েছে এবং আমি ক্রিকেট থেকে অবসরের কথা ভাবছি। তখন আমার কাছে কোকাবুরা কোম্পানিতে চাকরির প্রস্তাব ছিলো এবং আমি সেটি করতে চাই। এসব শুনে সে আমাকে আশ্বস্ত করে বললো, ‘তুমি একটু অপেক্ষা করো, আমি কিছু খোঁজ নিয়ে দেখছি।’ কিছুদিন পরই আমাকে তাসমানিয়ার পক্ষ থেকে ২ বছরের চুক্তি প্রস্তাব দেয়া হয় এবং আমি খেলা চালিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। আমি যদি পন্টিংকে ফোন না করতাম, তাহলে এতদিনে পরিস্থিতি অন্যরকম হয়ে যেতে পারত।’

সেদিন পন্টিংকে ফোন করার ফলেই ক্রিকেটে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পেইন এবং ২০১৭ সালে প্রায় ৭ বছরের অপেক্ষার পর পুনরায় সুযোগ পান টেস্ট দলে। পরে কেপটাউন টেস্টের ঘটনার পর পেয়ে যান অধিনায়কত্বও। অথচ ক্রিকেট ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে এখন হয়তো অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের জন্য ব্যাট প্রস্তুত করতেই ব্যস্ত থাকতেন পেইন।

এ বিষয়ে আলোকপাত করে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক বলেন, ‘এই গ্রীষ্মে আমি হয়তো ইংল্যান্ডেই থাকতাম। তবে সেটি কুকাবুরার হয়ে খেলোয়াড়দের জন্য ব্যাট বানানোর কাজে। অথচ আমি এখন অ্যাশেজে অধিনায়কত্ব করতে যাচ্ছি। এটা আসলে স্বপ্নের মতো। শৈশব থেকেই স্বপ্ন দেখতাম যে আমি অ্যাশেজে অধিনায়কত্ব করছি। এমনকি গত অ্যাশেজে পার্থ টেস্ট জেতার পর আমি ভাবছিলাম ইংল্যান্ডে গিয়ে অ্যাশেজ জেতার অনুভূতিটা কেমন হতে পারে? তখন মনে হচ্ছিলো যে ৩৪ বছর বয়সে হয়তো আর পারবো না। কিন্তু আমি এখনও আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমনকি আমি এখনও বাসায় যখন বাচ্চাদের নিয়ে খেলি, তখন নিজে নিজেই চিন্তা করি যে আমি আসলেই অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক। নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করি আসলেই এটা সত্য কি-না। অথবা কেউ যদি আমাকে বলত যে খবরে, রেডিওতে বলা হবে ‘অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক টিম পেইন’- আমি হয়তো তার কথায় হেসে উঠতাম। আমি অবশ্যই এটি ভালোবাসি কিন্তু এখনও বিশ্বাস করতে পারি না।’

এসএএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]