হাথুরু নয়, দুজন কোচের সাথে ভিডিও কনফারেন্স বিসিবির

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৪৩ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০১৯

আগেই আভাস মিলেছিল যে, ঈদের ছুটি শেষ না হতেই ভেতরে ভেতরে চলবে প্রধান কোচ নিয়োগের কাজ। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ১৪ আগস্ট ঢাকা আসার কথা ছিল নিউজিল্যান্ডের মাইক হেসনের।

কিন্তু ভারতের সম্ভাব্য কোচের শর্ট লিস্টে থাকায় মাইক হেসন আজ আসেননি। আগামী পরশু শুক্রবার মুম্বাইতে ভারতের হেড কোচের ইন্টারভিউ আছে তার। বিসিসিআই তার ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নেয়, তা জানার ও বোঝার পরই হয়ত বাংলাদেশে ইন্টারভিউ দিতে আসবেন হেসন।

এদিকে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নামার আগেই হঠাৎ গুঞ্জন, চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সাথে নাকি টেলিকফারেন্স করেছেন বিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তারা। এবং বিসিবি বিগ বস নাজমুল হাসান পাপনের ধানমন্ডিস্থ বেক্সিমকো কার্যালয়ে বসেই নাকি হাথুরুর সাথে টেলিকনফারেন্স করেন বিসিবির শীর্ষ কর্তারা।

সত্যিই হাথুরুসিংহের সাথে টেলিকনফারেন্স হয়েছে? নাকি এটা শুধুই গুঞ্জন? শেষ খবর, টেলিকনফারেন্সই শুধু নয়, ভিডিও কনফারেন্সও হয়েছে। তাও একজনের সাথে নয়। দু’জনের সাথে আজ ভিডিও কনফারেন্স করেছেন বিসিবির কর্মকর্তারা।

তবে কাদের সাথে ভিডিও কনফারেন্স হয়েছে? তাদের নাম ধাম জানাতে রাজ্যের অনিহা বোর্ড কর্তাদের। সে খবর জানতেই জাগো নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় বোর্ডের দুই অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা মাহবুব আনাম এবং জালাল ইউনুসের সাথে।

তারা জানালেন, বিষয়টি অতি গোপনীয়। বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপনসহ অন্য কর্তারাও যথেষ্ঠ সতর্ক এবং সাবধানি। তারপরও ঈদের ছুটি শেষ হতেই এমন এক টেলিকনফারেন্সের কথা মিডিয়ায় জানাজানি হলো কি করে? মাহবুব আনাম ও জালাল ইউনুস দু’জনই খানিক বিস্মিত।

তবে কেউই অস্বীকার করেননি যে টেলিকনফারেন্স হয়নি। তারা স্বীকার করছেন, হ্যাঁ, টেলিকনফারেন্স-ভিডিও কনফারেন্স দুটিই হয়েছে। তবে কাদের সাথে হয়েছে, তারা কারা? কোন দেশের? এসব তথ্য জানাননি মাহবুব আনাম ও জালাল ইউনুসের কেউই। দু’জনের কারো মুখ থেকে একটি নামও বের হয়নি।

মাহবুব আনাম সবাইকে ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষায় থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে শুধু বিসিবি আর সম্ভাব্য বিদেশী কোচরাই নন, আরও কেউ কেউ জড়িত আছেন। তাদের প্রায় সবার একাধিক অফার আছে। আরও টেস্ট খেলুড়ে দেশের বোর্ডও সম্পৃক্ত। তারা জেনে গেলে কথা চালচালির সুযোগ যায় কমে। আর কথা বার্তা চূড়ান্ত না হলে আরেক সমস্যা। ধরা যাক একজনের সাথে কথা হলো কিন্তু রফা হলো না। বা সব কিছু চূড়ান্ত হলো না। আর সেটা ফাঁস হলে ওই কোচের ডিমান্ড যায় কমে। তাকে আর যারা পেতে চেয়েছিল, তাদের তখন উৎসাহে ভাটা না আসলেও তারা টাকার অংক কমিয়ে ফেলেন। বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডই যখন কথা বার্তা চূড়ান্ত করেনি, একটু এগিয়ে কথা বাদ দিয়ে অন্যত্র হাত বাড়িয়েছে, তখন ওই কোচের ডিমান্ড কমে যায়। তার পারিশ্রমিকও কমে যায়। এ কারণেই সম্ভাব্য কোচের তালিকায় যারা আছেন, তাদের নাম প্রকাশে আমরা এতটাই গোপনীয়তা অবলম্বন করছি।’

একই কথা জালাল ইউনুসেরই। তিনি বলে বসেন, ‘আমরা যাদের সাথে কথা বলেছি, তারা কেউই একদম ফ্রি নন। তাদের অফার আছে। হয়ত কেউ অন্যত্র কাজও করছেন। এখন আমাদের সাথে যোগাযোগ আর কথা-বার্তা বলার বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে ওই কোচরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যান। তাদের ডিমান্ড কমে যায়। আর কথা-বার্তা চূড়ান্ত না হওয়ার আগে মিডিয়ায় এ খবর প্রকাশিত হলে তাদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রেও খানিক সমস্যা হয়।’

তাই জালাল ইউনুস জানালেন, ‘আসলে যাদের সাথে কথা হয় বা হয়েছে, তাদের অনুরোধেই আমরা নাম-ধাম ও দেশ কিছুই বলতে চাই না।’

জালাল ও মাহবুবের কেউ কোন কোচের নাম প্রকাশ না করলেও একটি তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। সেটা হলো হাথুরুসিংহের সাথে কোন টেলিকনফারেন্স হয়নি বিসিবির। তিনি শর্টলিস্টেও নেই। তার নাম ওঠার বিষয়টি পুরোপুরি গুজব।

আজ যে দু’জন কোচের সাথে টেলিকনফারেন্স ও ভিডিও কনফারেন্স হয়েছে, তাতে হাথুরুসিংহে ছিলেন না। এটা বোর্ডের কোন পরিচালক মুখ ফুটে না বললেও বোর্ডের উচ্চ পর্যায়ের অতি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ খবর নিশ্চিত করেছে।

সূত্র আরও জানিয়েছে, হয়তো তিন থেকে চার দিনের মধ্যে কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়াও শেষ হয়ে যাবে। তার মানে ১৮ থেকে ২০ আগস্টের মধ্যে নতুন কোচের নামও চূড়ান্ত হবে।

এআরবি/আইএইচএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :