আশরাফুলের সর্বকালের সেরা ওয়ানডে দলে নান্নু-আফতাব-রাজ্জাক

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৩৯ পিএম, ০৭ জুলাই ২০২০

তার চোখে বাংলাদেশের সেরা টেস্ট একাদশ, জাগো নিউজের সাথে একান্ত আলাপে গতকাল সোমবার তা জানিয়ে দিয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। দেশে ও বিদেশে টেস্টে বাংলাদেশের সেরা ১২ জনের দল সাজিয়েও দিয়েছেন এ নন্দিত ও নিন্দিত অথচ দেশের ক্রিকেটের সব সময়ের সেরা সহজাত ব্যাটিং প্রতিভা।

২৪ ঘন্টা না যেতেই নিজের দেখা বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ওয়ানডে একাদশও চূড়ান্ত করেছেন আশরাফুল। সেই টেস্টের ধারা মেনে নিজেকে রাখেননি ঐ দলে। এবারও তার ব্যাখ্যা, ‘আমার মনে হয় বড় বড় ক্রিকেট এক্সপার্টরা দল সাজালে হয়তো আমাকে রাখবেন। বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ওয়ানডে দলে আশা করি আমি থাকবো। আমার ট্র্যাক রেকর্ডই হয়তো আমার পক্ষে সাফাই গাইবে। তবে আমি যেহেতু নিজে ক্রিকেটার নির্বাচন করেছি, তাই দলে নিজেকে রাখিনি। সেটা শোভন দেখায় না ‘

টেস্টের মত ওয়ানডেতেও কন্ডিশনের কথা চিন্তা করে মানে দেশে ও বিদেশের কথা মাথায় রেখেই ক্রিকেটার নির্বাচন করেছেন আশরাফুল। সে কারণেই দলে রেখেছেন ১২ জনকে। নিশ্চয়ই খুব জানতে ইচ্ছে করছে, আশরাফুলের সেরা ওয়ানডে দলে জায়গা হয়েছে কার কার?

প্রথমেই বলে রাখা দরকার, আশরাফুল তার পছন্দের সেরা ওয়ানডে দলে পুরনো আর নতুনের মিশেল ঘটিয়েছেন। তাই তার দলে বর্তমান ওয়ানডে স্কোয়াডের বাইরে আগেই খেলা ছাড়া চার চারজন ক্রিকেটার আছেন। এর ভেতরে সর্বশেষ বিশ্বকাপ খেলা দলের বড় অংশই আছেন।

‘পঞ্চ পান্ডব’-এর সবাইকে ঠিক বিবেচনায় এনেছেন আশরাফুল। মাশরাফি বিন মর্তুজা, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সাথে লিটন দাস, মোস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন আছেন সেই সেরার তালিকায়।

সৌম্য সরকারকেও খুব করে রাখতে চেয়েছিলেন। এ বাঁহাতি সাহসী যুবার ফ্রি স্ট্রোক প্লে ‘র বড় ভক্ত আশরাফুল। সৌম্য সম্পর্কে অনেক প্রশংসাসূচক বাক্য আওরিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গিয়ে আর সৌম্যকে রাখতে পারেননি।

তার সর্বকালের সেরা ওয়ানডে দলে আছেন দেশের ক্রিকেটের সব সময়ের অন্যতম উজ্জ্বল তারকা মিনহাজুল আবেদিন নান্নু আর সীমিত ওভারের ফরম্যাটে বাংলাদেশের অকুতোভয় উইলোবাজ আফতাব আহমেদও।

আরও জায়গা পেয়েছেন দুই বাঁহাতি স্পিনার-মোহাম্মদ রফিক আর আব্দুর রাজ্জাক। এবং এই ১১ জনের বাইরে আশরাফুলের বিশেষ পছন্দ রুবেল হোসেন। দেশের বাইরে বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডে খেলা হলে রফিক ও রাজ্জাকের একজনকে বাইরে রেখে রুবেল হোসেনকে খেলানোর পক্ষে আশরাফুল।

একাদশ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আশরাফুল বলে ওঠেন, ‘তামিম টেস্টের মত ওয়ানডেতেও এক নম্বর ওপেনার। ওপেনিংয়ে তামিমই ফার্স্ট চয়েজ।’ তামিমের ওপেনিং পার্টনার নির্বাচন করতে গিয়ে খানিক দ্বিতীয় ছিলেন আশরাফুল। শুরুতে সৌম্যর কথা ভেবেছিলেন। তিনি বলেন, ‘বাঁহাতি সৌম্যর প্রথম ১০-১৫টি ওয়ানডে ইনিংস আমার মনে ধরে আছে। কিন্তু পরে সে ধারাবাহিকতা থাকেনি। সে জায়গায় লিটন দাসকে অনেক বেশি দক্ষ, টেকনিক্যালি সাউন্ড এবং সাবলীল মনে হয়েছে। তাই তাকে তামিমের সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছি।’

তিন নম্বর ব্যাটিং পজিশনটি সাকিবের। আশরাফুলের ভাষায়, ‘আমার মনে হয় সীমিত ওভারের ফরম্যটে ওয়ান ডাউনে সাকিব বেস্ট। নতুন বলে এবং ফিল্ডাররা ৩০ গজে বেশি থাকার সময়টায় সাকিবের ওভার দ্য টপ খেলার সামর্থ্য অনেক বেশি। তার সাহস আছে প্রচুর। শটস খেলার ক্ষমতাও বেশ। সব মিলে আমি মনে করি বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ওয়ানডে দলে অলরাউন্ডার সাকিবের ব্যাটিং পজিশন হবে তিনে। আর চারে আমি বেছে নিতে চাই নান্নু ভাইকে (মিনহাজুল আবেদিন নান্নু)। আমি তার খেলা দেখেছি। আমার মনে হয় বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ওয়ানডে দলে নান্নু ভাইকে না রেখে উপায় নেই। বাংলাদেশের সেরা ওয়ানডে দলে নান্নু ভাই আসবেনই।’

তিনি যোগ করেন, ‘আকরাম ভাই আর বুলবুল ভাই হয়তো থাকবেন না। তবে নান্নু ভাই থাকবেন। ৯৯‘র ওয়ার্ল্ড কাপে নান্নু ভাইয়ের ব্যাটিং দেখেছি। ক্লাব ক্রিকেটেও নান্নু ভাইয়ের ব্যাটিং দেখে হয়েছি মুগ্ধ। কি স্বচ্ছন্দে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে ব্যাট চালাতেন। ঝুঁকি না নিয়ে ফিল্ডারদের অবস্থান দেখে ঠান্ডা মাথায় গ্যাপে খেলে খেলে ইনিংস সাজাতেন। বোঝাই যেত না, কখন পঞ্চাশ হয়ে গেছে। আমার মনে হয় নান্নু ভাই বাংলাদেশের অলটাইম বেস্ট ওয়ানডে টিমে থাকার প্রকৃত দাবিদার।’

‘নান্নু ভাইয়ের পর পাঁচ, ছয়, সাত নম্বরে আমার পছন্দ যথাক্রমে মুশফিক, আফতাব ও মাহমুদউল্লাহ। মুশফিক তো দলের অন্যতম ব্যাটিং স্তম্ভ। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসেরও সব সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। গত কয়েক বছর টানা ভালো খেলে মুশফিক এমন এক জায়গায় চলে গেছে, যা সব ফরম্যাটেই বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারে তার জায়গা পাকা পোক্ত হয়ে গেছে।’

‘মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও বড় আসরগুলোয় নিজের কার্যকারিতার প্রমাণ রেখেছেন। আমার চোখে সে খুবই কার্যকর ও উপযোগী পারফরমার। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংটাও তার বড় সম্পদ। আর ছয় নম্বরে আমার পছন্দ আফতাব। ব্রিলিয়্যান্ট প্লেয়ার। ও যে কত বড় মাপের ব্যাটসম্যান ছিল বলে বোঝানো কঠিন। অনেক বড় বড় বোলারের বিপক্ষে বুক ভরা সাহস নিয়ে ইচ্ছেমত ফ্রি স্ট্রোক খেলেছে। চার ও ছক্কা হাঁকিয়েছে।’

আশরাফুল যোগ করেন, ‘এখনকার প্রজন্ম অনেক বেশি সাহসী। তামিম, সাকিব, মুশফিক, লিটন ও সৌম্য- রিয়াদরা যাকে তাকে ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে ছক্কা হাঁকাচ্ছে। কিন্তু একটা সময় ছিল যখন নিচের দিকে রফিক ভাই ছাড়া প্রতিষ্ঠিত উইলোবাজদের ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড ছিল খুব কম। সেই সময়ে আফতাব সাহস নিয়ে বিগ হিট করতো। ছক্কা ও চারে মাঠ গরম করে ফেলতো। প্রতিপক্ষ বোলারদের মনে কাঁপন ধরাতে পারতো।’

‘আমার মনে হয় আফতাবের মত সাহস, স্বচ্ছন্দ ও সাবলীল ফ্রি স্ট্রোক প্লেয়ার আমাদের মিডল অর্ডারকে করেছে চাপমুক্ত। তাই আমি তাকে নিয়েছি। তার স্লো মিডিয়াম বোলিংটাও বিবেচনায় এনেছি। আর দুর্দান্ত ফিল্ডার ছিল। সে কারণেই আমার দলে থাকবে আফতাব।’

এছাড়া দলে সাকিবের সাথে আর দুজন বাঁহাতি স্পিনার রাখার পক্ষে আশরাফুল। এ নিয়ে আশরাফুল বলেন, ‘রফিক ভাইয়ের গুণ আর বোলিং কার্যকরিতা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তিনি এমনিতেই অলটাইম বেস্ট দলে আছেন, থাকবেনও। আমি তার সাথে রাজ্জাককেও রাখার পক্ষে। কারণ বাংলাদেশের অনেক সাফল্যে রফিক ভাই, সাকিব ও রাজ্জাকের অবদান আছে। এই তিনজনের সম্মিলিত কার্যকারিতা সম্ভবত সবচেয়ে বেশি। তাই তাদের একসাথে দলে রাখা।’

পেস আক্রমণ নিয়ে তিনি বলেন, ‘মাশরাফি আমাদের বেস্ট পেসার। সঙ্গী হিসেবে মোস্তাফিজই বাকিদের চেয়ে এগিয়ে। আর সীমিং কন্ডিশনে যুক্ত হবে রুবেল। তখন রাজ্জাক আর রফিক ভাইয়ের কাউকে বাইরে এনে একজন স্পিনার কমিয়ে থার্ড পেসার হিসেবে রুবেলকে খেলাতে হবে।’

আশরাফুলের সেরা ওয়ানডে একাদশ : তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, মুশফিকুর রহীম, আফতাব আহমেদ, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ রফিক, মাশরাফি বিন মর্তুজা, আব্দুর রাজ্জাক, মোস্তাফিজুর রহমান।

এআরবি/এমএমআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]