‘আমরা এখনো অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে পারিনি’

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১০:০৭ পিএম, ০৮ এপ্রিল ২০২১

তিনি ক্রিকেটার কিংবা প্রশিক্ষক নন। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশের ক্রিকেটের সাথে তার যে নাড়ির সম্পর্ক! এ দেশের ক্রিকেটের এক নীরব কর্মী আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি।

ক্রিকেট অন্তঃপ্রাণ বলতে যা বোঝায়, তিনি তাই। সাজ্জাদুল আলম ববি দেশের ক্রিকেটে এক নিবেদিতপ্রাণ চরিত্র। ব্যক্তিত্ব হিসেবেই পরিগণিত। সেই মোজাফফর হোসেন পল্টু, মরহুম রাইস উদ্দীন আহমেদ, মরহুম রেজা-ই করিম, মরহুম মাজহারুল ইসলাম দামাল, মরহুম আমিনুল হক মনি, তানভির মাজহার তান্না, সৈয়দ আশরাফুল হক, সাবের হোসেন চৌধুরী ও মরহুম তানভির হায়দারের পর এ দেশের ক্রিকেট উত্তরণে যে ক’জন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ রেখেছেন কার্যকর ভূমিকা আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি তার অন্যতম।

ক্রিকেটের প্রতি তার টান, ভালবাসা আর দুর্নিবার আকাঙ্খা দেখেই আবাহনীর কর্মকর্তারা তাকে মাত্র ২০ বছর বয়সে দলটির ম্যানেজার হিসেবে মনোনীত করেন।

সম্ভবত ঢাকাই ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেট ম্যানেজার ববি। সেই ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে দেশের অন্যতম ক্রীড়া শক্তি ক্রিকেটের সবচেয়ে বেশি সাফল্যর অধিকারি আবাহনীর ম্যানেজারের দায়িত্ব পান ববি।

এরপর আবাহনীর সঙ্গেই গাঁটছড়া বাঁধেন। কখনো ম্যানেজার আবার বার দুয়েক ক্রিকেট সেক্রেটারির পদও পান। এক সময় উচ্চ শিক্ষায় পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে। সেখানে ১৯৭৯ সালে টিম বাংলাদেশ যখন প্রথম আইসিসি ট্রফি খেলতে যায়, ববি ছিলেন দলের ‘ছায়াসঙ্গী।’ এরপর বিভিন্ন সময় বিসিবিতে কাজ করেছেন। বোর্ডের নির্বাহী সদস্য হয়েছেন সেই ১৯৮৩ সালে। এরপর থেকেই ক্রিকেটই তার ধ্যান-জ্ঞান। বিসিবির যুগ্ম সম্পাদক, সহ-সভাপতি, মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।

ঢাকায় যখন ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে ইন্ডিপেন্ডেন্টস কাপের আসর বসে, ১৯৯৮ সালে মিনি বিশ্বকাপ বা নক আউট বিশ্বকাপ (এখন যেটা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি) অনুষ্ঠিত হয় তখন ববিই ছিলেন মিডিয়া ম্যানেজার। আর ২০০০ সালে বাংলাদেশের টেস্ট অভিষেকের নীরব সাক্ষী ববি তখন বোর্ড পরিচালক ও মিডিয়া কমিটি প্রধান। এখনো বিসিবির পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন।

তিন তিনবার জাতীয় দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করা ববি দেশের ক্রিকেটের এক নীরব সাক্ষী। ৯৭’র আইসিসি ট্রফি জয়, ৯৯-তে প্রথম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ এবং টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তি ও টেস্ট যাত্রার প্রত্যক্ষ সাক্ষী তিনি।

দেশের ক্রিকেটের অগ্রযাত্রার অন্যতম সৈনিক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি আজ বৃহস্পতিবার জাগো নিউজের সাথে একান্ত আলাপে দেশের ক্রিকেট নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। তার প্রত্যাশা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, অতৃপ্তির গল্প শুনিয়েছেন।

আসুন শোনা যাক-

জাগো নিউজ : আমরা আসলে এখন কোথায় দাঁড়িয়ে।

সাজ্জাদুল আলম ববি : আসলে আমরা অনেক আশা ও একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই শুরু করেছিলাম। স্বপ্ন ছিল একটা প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেট শক্তি হিসেবে দাঁড়াবার। ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ হিসেবে নিজেদের সুপ্রতিষ্ঠিত করার ইচ্ছে, আকাঙ্খা ছিল। সেটা যে শুধু আমরাই লালন করেছি, তা নয়। বিগত দিনে যিনি বা যারা বোর্ডে ছিলেন, তাদের সবারই আশা ছিল, লক্ষ্য ছিল দেশের ক্রিকেট উন্নয়ন এবং ধীরে ধীরে অবস্থা, অবস্থান ও মানের উন্নয়ন।

সবাই কম-বেশী সে চেষ্টাও করেছেন। তবে সে ক্রিকেট উন্নয়ন-উত্তরণ এবং মান উন্নত করার কাজটা মোটেই সহজ ছিল না। একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল। একটা নতুন টেস্ট খেলুড়ে দেশের সু-প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ সহজ ও মসৃণ নয়, বন্ধুর। কিছু পূর্ব শর্ত থাকে। অনেক অত্যাবশ্যকীয় উপাদান, উপকরণ আর অবকাঠামোর দরকার পড়ে। তার কিছুই হয়নি তা বলবো না। তবে আমার মনে হয় আমরা এখনো সে চ্যালেঞ্জগুলো পুরোপুরি অতিক্রম করতে পারিনি। 

জাগো নিউজ : টেস্ট মর্যাদা পাবার পর আপনাদের লক্ষ্য কী ছিল? ২১ বছর পর এখন কোথায় দেখতে চেয়েছিলেন নিজ দেশকে? সেই জায়গায় কী পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে?

ববি : নাহ! এক কথায় বললে হয়নি। আমাদের লক্ষ্য ছিল একটা নির্দিষ্ট সময়ে টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে সেরা পাঁচ না হয় ছয়ে থাকা; কিন্তু সে লক্ষ্য পূর্ণ হয়নি। ওই অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে সেটা বাস্তবতার নিরিখে। ঠিক ব্যর্থতা বলা যাবে না। অনেক ‘প্র্যাকটিক্যাল চ্যালেঞ্জেস’ ছিল। আমরা পারিনি সেগুলোকে অতিক্রম করতে। কাউকে দোষারোপ করার কিছু নেই। আমাদের নিজেদের অনেক সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ ছিল। সেগুলো ওভারকাম করা সম্ভব হয়নি বাস্তব কারণে। তবে আমি নৈরাশ্যবাদী নই। আশা করছি আমরা সেই বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করে অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো।

তবে এটুকু বলতে পারি আমাদের টার্গেট ছিল ঘরোয়া প্রথম শ্রেণি ক্রিকেট থেকে শুরু করে ঘরোয়া ক্রিকেটের অবকাঠামোগত ও মানগত উন্নয়ন। সে উপলব্ধি কিন্তু ছিল। আমরা জানতাম ক্রিকেট জাতি ও দল হিসেবে সু-প্রতিষ্ঠিত হতে হলে ঘরোয়া ক্রিকেটর মান উন্নয়ন জরুরি। এবং তা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই।

এটা এমন নয় যে, একটা নির্দিষ্ট সময় পর অবস্থার ও অবস্থানের আপনা-আপনি পরিবর্তন ঘটবে বা উন্নতি হবে। কোন শর্টকাট পথ নেই। ওপরে ওঠার নির্দিষ্ট পথ আছে। যার প্রথম ও শেষ কথা হলো ঘরোয়া ক্রিকেটের সত্যিকার উন্নয়ণ। তাই ঘরোয়া ক্রিকেটের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সেখানে পেশাদার ব্যবস্থাপনা চালু এবং সর্বোপরি মাঠের ক্রিকেটের মান বাড়ানোই ছিল প্রথম কাজ।

আমরা জানতাম-বুঝতাম, ঘরোয়া ক্রিকেটকে খুব উঁচু পর্যায়ে নিয়ে যেতে না পারলে, ঘরোয়া ক্রিকেট আসরের মান উন্নত করার পাশাপাশি একটা প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক পরিবেশ তৈরি না হলে কোনোভাবেই ক্রিকেটের উন্নয়ন সম্ভব হবে না। তারপরও ওই যে বললাম কঠিন বাস্তবতাকে মনে নিয়েই বলছি সে লক্ষ্য পূরণ না হবার কিছু বাস্তব কারণও ছিল।

সেটা অতিক্রম করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা বিগত দিনে সে চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে পারিনি। তবে অনুভব ও উপলব্ধিটা আছে। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের ওপরে যেতে হলে ওই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই হবে।

আমার বিশ্বাস আমরা সে সত্য অনুভব করে আগামী দিনগুলোয় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে শুরু করে ঘরোয়া ক্রিকেটকে আর সমৃদ্ধ, উন্নত ও প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক করে তুলতে সচেষ্ট হবো। সে কাজটা খুব জরুরি। তা না হলে সামনের দিনগুলোয় অভিষ্ঠ লক্ষ্য পূরণ হবে কিনা সন্দেহ।

জাগো নিউজ : আপনি বলছেন আপনাদের থেকে শুরু করে সব বোর্ডেরই ইচ্ছে ছিল ঘরোয়া ক্রিকেটের উন্নয়ন এবং টেস্ট দল হিসেবে শীর্ষ ছয়ে থাকার টার্গেট। তাহলে সে লক্ষ্য পূরণ হলো না কেন? কেন প্রায় দুই যুগ পরও টেস্টে সেই আতুঁড় ঘরেই পরে আছে বাংলাদেশ? 

ববি : আগেও বলছি আমাদেরও কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ ছিল, স্বীকার করতে দ্বিধা নেই আমরা সেগুলোকে অতিক্রম করতে পারিনি। সেই উন্নয়নের পথের সে চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে না পারার কারণেই আসলে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

আসলে ওপরে ওঠার চিন্তা ও ইচ্ছে কিন্তু সবারই ছিল। এটা ভাবার কোন কারণ নেই যে কেউ চেয়েছেন আর কেউ চাননি। সবাই চেয়েছেন। সবারই ইচ্ছে ছিল ক্রিকেট দল হিসেবে সু-প্রতিষ্ঠিত হওয়া। ইচ্ছের জায়গায় কারো কমতি ও ঘাটতি ছিল না। তবে মনে হয়, কী করলে এবং কিভাবে হাঁটলে আমরা লক্ষ্য পূরণ করতে পারবো, হয়ত তা স্থির করায় ঘাটতি থাকতে পারে।

জাগো নিউজ : তবে কী করনীয় ঠিক করায় বড় ধরনের ভুল ছিল? প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট এর প্রকৃত উন্নয়ন মান বাড়ানোর বদলে কি অন্য কোনোভাবে আগানোর চিন্তা হয়েছে?

ববি : বড় ধরনের ভুল বলবো না। তবে স্বীকার করতে দ্বিধা নেই শুধু প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং মাঠের ক্রিকেটকে আরও আকর্ষণীয়, প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক করে তুলতে যতটা কার্যকর উদ্যোগ এবং মনোযোগ দরকার ছিল, সে জায়গায় কেমন যেন ছাড়া ছাড়া ভাব সব সময়ই পরিলক্ষিত হয়েছে।

এবং কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার ক্ষেত্রে একটু উদাসীনতা কাজ করেছে। সেটা শুধু প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের বেলায়ই নয়। ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্ষেত্রেই মনে হয় মনোযোগ ও দৃষ্টি একটু কম। অবশ্য এখানে আমাদের নিজেদের কিছু আভ্যন্তরিন সমস্যাও আছে। শুধু বিসিবি বা বোর্ডকে দোষ দিয়ে বোর্ডের অদক্ষতার সমালোচনা করলে চলবে না। একটা দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে সে দেশের ক্রিকেট ক্লাবেরও অনেক ভূমিকা থাকে।

অবকাঠামো নির্মাণ, মাঠ, উইকেট, প্র্যাকটিস ফ্যাসিলিটিজ, আনুসাঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা প্রণয়নে ক্লাবগুলো রাখে কার্যকর অবদান। ইংলিশ কাউন্টি ক্লাবগুলো সে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট উন্নয়নে শুধু ভাল দল গড়ে কাউন্টি ক্রিকেটকেই আকর্ষণীয় আর প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ করে তোলেনি, অবকাঠামো নির্মাণ, মাঠ, স্টেডিয়াম পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট কমপ্লেক্স নির্মাণেও সচেষ্ট।

লর্ডস, ওভাল থেকে শুরু করে ইংল্যান্ডের বেশিরভাগ টেস্ট ও আন্তর্জাতিক সেরা ক্রিকেট স্টেডিয়াম তথা ভেন্যুই ইংলিশ কাউন্টি ক্লাবের। শ্রীলঙ্কায়ও একই ধারা বজায় আছে। কলম্বো শহরেই বেশ কিছু ক্রিকেট ক্লাব আছে। এমনকি জিম্বাবুয়েতেও ক্লাবগুলোর ক্লাবের নিজস্ব মাঠ, পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট কমপ্লেক্স, অত্যাধুনিক প্র্যাকটিস ফ্যাসিলিটজ আছে। হারারে আর বুলাওয়ের ক্লাব মাঠই কিন্তু জিম্বাবুয়ের টেস্ট ভেন্যু। যাদের প্র্যাকটিস, ক্রিকেট চর্চাই চলে ওইখানে। শুধু ক্রিকেট চর্চা আর প্র্যাকটিস ফ্যাসিলিটিজই নয়, দেশের ক্রিকেট কালচার চারদিকে ছড়িয়ে দেয়ার কাজগুলোও ওই সব ক্লাবই করেছে।

এমনকি দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের ক্লাবগুলো সেভাবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারেনি। ৯৯ ভাগ ক্লাবের কোন মাঠই নেই। একমাত্র আবাহনীর ক্লাবের নিজস্ব মাঠ ছিল। সেটাও ভিন্ন খাতে ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়া ক্লাবগুলোও স্পেশালাইজড না। ফুটবল, হকি ও অন্যান্য খেলায়ও অংশ নেয়। যে কারণে ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডে মনোযোগ ও দৃষ্টিও কম।

সোজা ক্রিকেটের যে রিয়্যাল ক্লাব কালচার সেটাই আমাদের দেশে গড়ে ওঠেনি। এখনো ক্লাবগুলো সকাল-বিকেল করে সিমেন্ট বা কংক্রিটের পিচে প্র্যাকটিস করে। এখন অবশ্য শেরে বাংলার একাডেমি না হয় ইনাডোরে চলে প্রিমিয়ারের দলগুলোর অনুশীলন। না হয় দীর্ঘদিন ক্লাবগুলোর কোন ন্যাচারাল টার্ফ ছিল না। নেট হয়েছে কংক্রিটের পিচে।

আমার মনে হয় দেশের ক্লাব ক্রিকেট একটু পিছিয়ে পড়েছে। দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এখন মনোনিবেশ করেছি বেশি। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট হতে পারে আকর্ষণ ও বিনোদনের খোরাক। সেখানে অর্থের ঝনঝনানি আছে। ক্রিকেটাররা খেলে বাড়তি অর্থ পান। তবে ওভাল অল ডমেস্টিক ক্রিকেটের হাল হকিকত কী?

সারা দেশের কোথায় কী ক্রিকেট হচ্ছে? আমার মনে হয় না আমরা খুব ভাল অবগত আছি। সেটাও কিন্তু উন্নতির অন্তরায়। এমনকি ঢাকার প্রিমিয়ার, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটের দিকেও তেমন সু-দৃষ্টি ও নজর নেই। যে কারণে ওই আসরগুলোর আউটপুটও গেছে কমে। দেশের ক্রিকেটকে রাজধানী ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটই আগের মত রসদ সরবরাহ করতে পারছে না।

জাগো নিউজ : প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের বর্তমান মান অবস্থানে কী আপনি সন্তুষ্ট?

ববি : নট রিয়্যালি। আমি কেন, আমার মনে হয় কেউ বলবে না সন্তুষ্ট। খেলা হচ্ছে। সিজন কমপ্লিট হচ্ছে। কী হচ্ছে? তা মিডিয়ার মাধ্যমেই জানতে পারি। ওভারঅল পাবলিক এন্ড দর্শক ইন্টারেস্ট জেনারেট করা যায়নি। পাবিলক ইন্টারেস্ট জেনারেট করতে না পারায় মিডিয়ার ইন্টারেস্ট নেই। আর মিডিয়ার উৎসাহ ও প্রচারণা কম বলেই ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির স্পন্সরও ইন্টারেস্টও নেই।

জাগো নিউজ : তাহলে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের নড়বড়ে অবস্থার কারণেই টেস্টে কাঙ্খিত উন্নতি ঘটেনি?

ববি : আসলে সেটআপ যদি স্ট্রং হয়, সে দেশের টেস্ট দল, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি সব দলই সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হবে। পাশের দেশ ভারতের দিকে তাকলেই বোঝা যাবে, ভারতে অন্তত তিনটি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের খুব বড় ও জমজমাট আসর বসে। সেখান থেকে প্রচুর প্লেয়ার বের হয়।

ভারতীয় ক্রিকেট উন্নত হবার আরও একটি বড় কারণ হলো, তাদের অনূর্ধ্ব-১৭’র নিচে ক্রিকেটারদের বেসিক শক্ত ও পোক্ত করার জন্য আগে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট শেখানো হয়। তাদের ওয়ানডে চর্চাই নেই। তারা ক্রিকেট শেখে দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ দিয়ে। একদিনের সীমিত ওভারের চর্চা হয় অনেক পরে। খুব স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে ধাতস্থ এবং সিদ্ধ হস্ত হয়ে তারপর তারা একটা পর্যায়ে খেলতে আসে।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে তো আর টি-টোয়েন্টি বা টি-টেন করা যাবে না। এখানে তিন-চারদিনের ম্যাচ দিয়েই আসর সাজাতে হবে। তবে আমার মনে হয় জাতীয় লিগ ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে দর্শক উপযোগি করে তোলার চিন্তা খুব জরুরি। খেলার মানের উন্নয়ন, প্রতিদ্বন্দ্বীতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেই দর্শক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট দেখতে মাঠে আসবে।

দর্শক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট একটা দেশের ক্রিকেটের মান নিরুপণের মানদণ্ড কিন্তু টেস্ট। ভুলে গেলে চলবে না একদিনের সীমিত ওভারের খেলায় যত দর্শক উৎসাহ-আগ্রহ আর উন্মাদনাই থাকুক না কেন, টেস্ট হচ্ছে প্রতৃত মানদণ্ড।

জাগো নিউজ : বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের মান অবস্থান নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

ববি : আমাদের ক্রিকেটের সেটআপাটাই হলো ওয়ানডের সাথে কানেক্টেড। আমাদের ক্রিকেট ছিল ওয়ানডে কেন্দ্রিক। আমরা বছরের পর বছর যুগের পর যুগ ধরে ক্লাব লেভেলে ৫০ ওভারের খেলাই খেলেছি বেশি।

সেখানেই আমাদের ক্রিকেটাররা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে। খেলতে খেলতে হাতও পাকিয়েছে। তারই ফলশ্রুতিতে আমাদের ওয়ানডে পারফরমার গড়ে উঠেছে। ৫০ ওভারের খেলায় পারফরমেন্সও হয়েছে ভাল এবং মহাদেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কিছু সাফল্য অর্জিত হয়েছে। যদিও সেখানেও ধারাবাহিকতায় ঘাটতি আছে। পারফরমেন্সের গ্রাফ কখনো উঁচু আবার কোন সময় নীচু হয়েছে। হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলার রেকর্ড কম।’

জাগো নিউজ : আচ্ছা! আপনার কী মনে হয় ক্লাব ক্রিকেটটা ৫০ ওভারের বদলে ৩-দিনের হলে আরও বেশি লাভ হতো, মানে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটের মান বাড়তো?

ববি : হ্যাঁ, অবশ্যই। সেটা নিয়েই আমার একটা আক্ষেপ আছে। আমার মনে হয় আমাদের দেশের ক্রিকেট যদি ওয়ানডে মানে ৫০ ওভারের ফরম্যাটের বদলে দীর্ঘ মেয়াদি ম্যাচ কেন্দ্রিক হতো, আমাদের ক্লাব পর্যায়েও যদি শুরু থেকে কিংবা অন্তত টেস্ট মর্যাদা পাবার পর থেকে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট চর্চা বাড়ানো হতো, লিগ ও অন্যান্য টুর্নামেন্টে ৩-৪ দিনের খেলা হতো, তাহলে নিশ্চিতভাবেই দীর্ঘ পরিসরের খেলার চর্চা ও সম্পৃক্ততা বাড়তো। সেই সাথে ক্রিকেটারদের দীর্ঘ পরিসরের খেলায় পারদর্শিতা, দক্ষতা ও উৎকর্ষতা বৃদ্ধি পেত এবং খুব স্বাভাবিকভাবেই তখন ওয়ানডের মত আমাদের টেস্ট পারফরমেন্সও ভাল হতো। 

জাগো নিউজ  : টি-টোয়েন্টি নিয়ে কিছু বলবেন কী?

ববি : টি-টোয়েন্টি অবশ্য আমাদের তেমন চর্চা ছিল না। এখন অন্যরা খেলে বলে আমাদেরও খেলতে হয়। হচ্ছে। সেখানে ইন্টারন্যাশনাল লেভেলে আমরা ৫০ ওভারের মত সাফল্য দেখাতে পারিনি। শেষ কথা হলো টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডের বর্তমান পারফরমেন্স নিয়েও বড়াই করার মনে হয় না তেমন কিছু আছে।

এআরবি/আইএইচএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]