হামজার ক্লাব লেস্টার সিটির বড় শাস্তি

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:১৩ এএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইংলিশ ফুটবল লিগের (ইএফএল) আর্থিক নিয়ম প্রফিট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি রুলস (পিএসআর) ভাঙার দায়ে লেস্টার সিটির ছয় পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট তালিকায় ১৭তম স্থান থেকে ২০তম স্থানে নেমে গেছে লেস্টার। গোল ব্যবধানে শ্রেয়তর অবস্থানে থাকায় অবনমন অঞ্চলের বাইরে আছে ক্লাবটি।

বৃহস্পতিবার একটি স্বাধীন কমিশন রায় ঘোষণা করার পর ইএফএল তাৎক্ষণিকভাবে এই শাস্তি কার্যকর করে বলে জানিয়েছে। এই ক্লাবেই খেলেন বাংলাদেশের তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরী।

লেস্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় ২০২৫ সালের মে মাসে। তদন্তের আওতায় ছিল ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত তিন অর্থবছর। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্ধারিত ক্ষতির সীমার চেয়ে লেস্টার সিটি ২০.৮ মিলিয়ন পাউন্ড বেশি ব্যয় করেছে। ক্লাবটির ঘোষিত মোট ক্ষতির অঙ্ক ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড ছাড়ালেও, পিএসআর নিয়ম অনুযায়ী কিছু খাত হিসাবের বাইরে রাখা হয়।

এই ক্ষেত্রে লেস্টারের জন্য ক্ষতির সর্বোচ্চ সীমা ধরা হয় ৮৩ মিলিয়ন পাউন্ড। কারণ, মূল্যায়নে তাদের দুটি প্রিমিয়ার লিগ মৌসুম ও একটি চ্যাম্পিয়নশিপ মৌসুম অন্তর্ভুক্ত ছিল। লেস্টার সিটি দাবি করেছিল সীমা ১০৫ মিলিয়ন পাউন্ড হওয়া উচিত, তবে কমিশন প্রিমিয়ার লিগের যুক্তির সঙ্গে একমত হয়ে ৮৩ মিলিয়ন পাউন্ডের সীমাই বহাল রাখে। উল্লেখ্য, যদি ১০৫ মিলিয়ন পাউন্ডের সীমা ধরা হতো, তাহলে লেস্টারের কোনো নিয়মভঙ্গ হতো না।

লেস্টারের অতিরিক্ত ব্যয় ছিল অনুমোদিত সীমার চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি। ইএফএলের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২১ থেকে ২৬ শতাংশ অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য সাত পয়েন্ট কাটার কথা থাকলেও, কিছু লঘুকরণ বিবেচনায় নিয়ে এক পয়েন্ট কমিয়ে ছয় পয়েন্ট শাস্তি দেওয়া হয়। বিশেষ করে, মূল্যায়নের শেষ বছরে ক্লাবটি ৬.১ মিলিয়ন পাউন্ড লাভ করায় এই ছাড় দেওয়া হয়েছে।

প্রিমিয়ার লিগ শুরুতে ১২ পয়েন্ট কাটার দাবি জানিয়েছিল এবং গুরুতর অভিযোগ যুক্ত হলে শাস্তি ২০ পয়েন্ট পর্যন্ত হতে পারতো বলে আলোচনা ছিল। লেস্টার আরও দাবি করে যে হিসাবের সময়কাল ৩৭ মাস নয়, ৩৬ মাস হওয়া উচিত—এ বিষয়ে কমিশন ক্লাবের পক্ষেই রায় দেয়।

যদিও লেস্টার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল, এটিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়নি। ফলে এ কারণে অতিরিক্ত কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি।

এখন দ্রুতই আপিল করবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে লেস্টার সিটিকে, যাতে মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই যেকোনো আপিল শুনানি সম্পন্ন করা যায়। সম্ভাব্য আপিলের একটি কারণ হতে পারে—প্রিমিয়ার লিগ থেকে শুরু হওয়া এই মামলায় ইএফএল আদৌ পয়েন্ট কাটার ক্ষমতা রাখে কি না।

তবে ২০২৪–২৫ মৌসুমে লেস্টার সিটি নতুন করে কোনো পিএসআর সমস্যায় পড়বে বলে আপাতত মনে করা হচ্ছে না।

এমএমআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।