আনচেলত্তির নজরে আসতে নেইমারের নতুন পরিকল্পনা
ব্রাজিল ফুটবলে নেইমারের বিশ্বকাপে থাকা না থাকা এখন একপ্রকার জাতীয় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ডকে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে, তবে হাল ছাড়ছেন না নেইমার। বরং নিজেকে আবারও সেরা ফর্মে ফেরাতে এবং কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে রাজি করাতে বিশেষ একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন তিনি, যা ‘তিন ম্যাচ নীতি’ হিসেবে পরিচিত হচ্ছে।
বর্তমানে সান্তোসের হয়ে খেলা নেইমার জানিয়েছেন, তিনি কাউকে কিছু প্রমাণ করতে চান না, তবে এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে- এমন উপলব্ধি থেকেই তিনি সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে চান। সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের দলে জায়গা না পাওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
কোচ আনচেলত্তি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি এখন ১০০ শতাংশ ফিট খেলোয়াড় চান, আর সে কারণেই নেইমারকে দলে রাখা হয়নি। তবে দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি তিনি। তার মতে, চূড়ান্ত বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেতে হলে নেইমারকে নিয়মিত খেলতে হবে, নিজের ফিটনেস ও সামর্থ্য প্রমাণ করতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে নেইমার নিজের জন্য একটি বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছেন। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি সপ্তাহে তিনটি ম্যাচ খেলার ঝুঁকি এড়িয়ে চলবেন, যাতে করে নতুন করে চোট না লাগে বা পুরোনো ইনজুরি না বাড়ে। এই ‘লোড ম্যানেজমেন্ট’ পরিকল্পনা ইতোমধ্যে সান্তোসের মেডিকেল বিভাগ ও কোচ কুকার সঙ্গে সমন্বয় করেই ঠিক করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নেইমার ঘরের মাঠে বেশি ম্যাচ খেলতে চান, যাতে ভ্রমণের ক্লান্তি কম হয় এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা যায়। উদাহরণ হিসেবে, তিনি ২ মে রেমোর বিপক্ষে ঘরের ম্যাচ এবং ৫ মে ফ্ল্যামেঙ্গোর বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে আগ্রহী। তবে ৮ মে কোপা সুদামেরিকানায় দেপোর্তিভো কুয়েঙ্কার বিপক্ষে উচ্চভূমিতে খেলতে যাওয়ার সফর এড়িয়ে যেতে পারেন।
এই পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- নেইমার বিকল্প হিসেবে মাঠে নামার ধারণা পছন্দ করেন না। তিনি বিশ্বাস করেন, পুরো ম্যাচ খেলার মতো প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামা উচিত। আংশিক সময় খেললে তা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তাই তিনি চান, যখনই খেলবেন, শুরু থেকেই খেলবেন এবং ম্যাচ শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন।
তবে বিশ্বকাপের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। সেখানে কোচের প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় মাঠে নামতে প্রস্তুত থাকবেন বলেও জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, চোট এড়িয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বজায় রাখা এবং সঠিক সময়ে নিজের সেরা ফর্মে ফেরা—এই তিনটি লক্ষ্য সামনে রেখে এগোচ্ছেন নেইমার। তার এই পরিকল্পনা কতটা সফল হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। কারণ ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে প্রতিটি পদক্ষেপই তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আইএইচএস/