রিয়ালের বিপক্ষে অসাধারণ পারফরম্যান্স, বিশ্বকাপে ফিরছেন ন্যুয়ার!

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:০১ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

ফুটবল জগতে সবচেয়ে নস্টালজিক মুহূর্তগুলোর মধ্যে একটি হলো, যখন বিশ্বের সবচেয়ে আইকনিক খেলোয়াড়রা আর বিশ্বকাপে অংশ নেন না। প্রকৃতপক্ষে, এমন কয়েকজন খেলোয়াড়ই আছেন যারা ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সে বিশ্বকাপে পৌঁছান। কেউ অভিজ্ঞতার জন্য, কেউ কেউ প্রয়োজনীয়তার কারণে অংশ নেন। কিন্তু জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়ারের ক্ষেত্রে বিষয়টা পুরোপুরি আলাদা। ন্যুয়ার নিজেই সেই জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন।

ম্যানুয়েল ন্যুয়ারের বয়স ৪০ বছর পার হয়ে গেছে। তবুও তিনি এখনও বায়ার্ন মিউনিকের মত বিশ্বসেরা ক্লাবের জার্সিতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ফুটবল খেলছেন, চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং বুন্দেসলিগা- সব জায়গাতেইই।

এমনিতেই ন্যুয়ার বিশ্বসেরা গোলরক্ষক হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ বিশ্বকাপ শিরোপা উঠেছে তার হাতে। তবে এই বয়সেও নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ধরে রেখেছেন তিনি। সম্প্রতি রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদের ফুটবলারদের অন্তত ৯টি শট থেকে নিজের দলকে বাঁচিয়েছেন তিনি। এটাই প্রমাণ করে, তিনি এখনও এলিট স্তরের গোলরক্ষক।

এরপরই ভক্ত-সমর্থকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠেছে, সামনেই বিশ্বকাপ। ম্যানুয়েল ন্যুয়ার কি অবসর ভেঙে জার্মানি জাতীয় দলে ফিরে আসবেন? আবারও দাঁড়াবেন জার্মান দলের গোলপোস্টের নিচে।

Manuel Nuear

কিন্তু তিনি নাকি ফিরবেন না। এমনটাই জানিয়ে দিয়েছেন ন্যুয়ার। অথচ, অনেকের কাছে বোঝা কঠিন, কেন তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেবেন না।

সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত: ফিরবেন না ন্যুয়ার

বর্তমানে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও বুন্দেসলিগায় অসাধারণ ফর্মে থাকলেও, জাতীয় দলে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ন্যুয়ার। তাতে ২০২৬ বিশ্বকাপে তাকে জার্মানির জার্সিতে দেখার ক্ষীণ যে আশা জেগেছিল, তা এখন পুরোপুরি নসাৎ হয়ে গেছে।

বিষয়টি নিয়ে বারবার প্রশ্ন আসায় নুয়্যার কিছুটা বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন। তার বার্তা স্পষ্ট, জার্মানি জাতীয় দলের হয়ে আমার সময় শেষ এবং এই দরজা আর খুলবে না।

কেন এই সিদ্ধান্ত?

১. ক্লাব ফুটবলে মনোযোগ: নয়্যার বর্তমানে তার পুরো শক্তি বায়ার্ন মিউনিখের জন্য ব্যয় করতে চান। ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে এসে ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থেকেই ফুটবলকে বিদায় জানাতে চান তিনি।

২. জার্মান ফুটবলের পটপরিবর্তন: জার্মানির কোচ হুলিয়ান নাগেলসম্যান বর্তমানে তরুণ ও ভবিষ্যৎ নির্ভর একটি দল গড়ার দিকে মনোযোগী। সেখানে ৩৯ বা ৪০ বছর বয়সী ফুটবলারের ফেরার চেয়ে ভবিষ্যতের গোলরক্ষক গড়ে তোলাকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

৩. কিংবদন্তিদের সমর্থন: জার্মানির সাবেক অধিনায়ক লোথার ম্যাথাউসের মতো ব্যক্তিত্বরাও মনে করেন, ন্যুয়ারের ফিরে না আসার সিদ্ধান্তটিই সঠিক এবং জার্মান ফুটবল এখন নতুন অধ্যায়ে পদার্পণ করেছে।

মাঠের পারফরম্যান্স বনাম ব্যক্তিগত ইচ্ছা

অনেকের কাছেই বিষয়টি আশ্চর্যজনক যে, রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বড় ম্যাচগুলোতে এখনো অবিশ্বাস্য সেভ করা একজন গোলরক্ষক কেন বিশ্বকাপে খেলবেন না? এর উত্তর হলো- এটি দক্ষতার অভাব নয়, বরং সঠিক সময়ে সরে যাওয়ার একটি সাহসী সিদ্ধান্ত। ন্যুয়ার চান না জোর করে দলে টিকে থাকতে, বরং তিনি চান জার্মানির নতুন প্রজন্ম দায়িত্ব বুঝে নিক।

জার্মানির নতুন যুগ

ন্যুয়ারের বিদায় মানেই একটি যুগের সমাপ্তি। জার্মানি এখন আর ঐতিহাসিক কোনো নামের ওপর নির্ভর করে দল গড়ছে না। তাদের বর্তমান প্রজেক্টের মূলে রয়েছে ধারাবাহিকতা এবং তারুণ্যের শক্তি। ন্যুয়ারের মতো একজন স্তম্ভ না থাকলেও, সেই শূন্যস্থান পূরণে তরুণ গোলরক্ষকদের ওপর ভরসা রাখছে জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

ভক্তদের জন্য বার্তা

ফুটবল ইতিহাসে ‘সুইপার কিপার’ ধারণাকে যিনি জনপ্রিয় করেছেন, সেই ম্যানুয়েল ন্যুয়ারকে আর কোনো বিশ্বকাপে গ্লাভস হাতে দেখা যাবে না। ভক্তরা হয়তো তাকে ২০২৬-এ মিস করবেন; কিন্তু ন্যুয়ার তার সিদ্ধান্তে অটল। তিনি এখন শুধুই বায়ার্নের হয়ে তার শেষ দিনগুলো রাঙাতে চান।

আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।