বিশ্বকাপের দুঃস্মৃতিময় ‘ব্যাডবয়’রা

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:০২ পিএম, ১৪ জুন ২০১৮

বিশ্বকাপ যেমন অনেক ভালো স্মৃতির জন্ম দেয়, তেমনি জন্ম দেয় কিছু দুঃস্মৃতিরও। সেই দুঃস্মৃতি ঘটানো ‘ব্যাড বয়’ বিশ্বকাপের ইতিহাসে নেহায়েৎ কম নয়। প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপই নতুন কোন ব্যাড বয়ের সন্ধান দেয়। চলুন দেখে নেয়া যাক উল্লেখযোগ্য কিছু ব্যাড বয়ের গল্প।

হ্যারাল্ড শুমাখার (পশ্চিম জার্মানি)
বিশ্বকাপের ব্যাড বয়দের নাম নেয়া হহলে তাতে সম্ভবত পশ্চিম জার্মানির হ্যারাল্ড শুমাখারের নামই আগে আসবে। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় ফ্রান্স ও পশ্চিম জার্মানি। এ ম্যাচে করা কুকীর্তির জন্যই শুমাখার অখ্যাত হয়ে আছেন। ফ্রান্সের ব্যাটিনসন এদিন তার দুইটি দাঁত হারান শুমাখারের করা আঘাতে। এর ফলে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। এ কারণে ফ্রান্সে এখনো নিন্দিত এক ফুটবলার শুমাখার।

নাইজেল ডি ইয়ং (নেদারল্যান্ডস)
২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালে জোহানেসবার্গে মুখোমুখি হয় স্পেন ও নেদারল্যান্ডস। ৯০ মিনিট পেরিয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে ম্যাচের এক মূহুর্তে স্পেনের জাবি আলোন্সোর বুকে উড়ন্ত লাথি দেন নেদারল্যান্ডসের নাইজেল ডি ইয়ং। এর ফলে হলুদ কার্ড পেয়েছিলেন তিনি।

ডেভিড বেকহাম (ইংল্যান্ড)
ব্রিটিশ ফুটবলের রাজপুত্র ডেভিড বেকহামও ব্যাড বয় উপাধি থেকে রক্ষা পাননি। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেকহামের ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের এক পর্যায়ে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ডিয়াগো সিমিওনে বল দখলের লড়াইয়ে বেকহামকে ফেলে দিলে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন বেকহাম। আর সিমিওনেকে উদ্দেশ্য করে দিয়ে দেন এক লাথি। তা রেফারির চোখ না এড়ানোয় সরাসরি লাল কার্ড দেয়া হয় বেকহামকে।

জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স)
বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত দুর্ঘটনাই বোধহয় এটি। আর এটি যখন ঘটান স্বয়ং জিনেদিন জিদান, তখন এটি নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিকই। ২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে জিদানের ফ্রান্স মুখোমুখি হয় ইতালির। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্র হলে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে যায়। অতিরিক্ত সময়ে ইতালির মার্কো মাতোরাজ্জিকে মাথা দিয়ে ঢুঁস মারেন এ ফরাসি কিংবদন্তি। সাথে সাথেই লাল কার্ড দেখানো হয় তাঁকে। নিজের শেষ ম্যাচে লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় জিদানকে।

ডিয়াগো ম্যারাডোনা (আর্জেন্টিনা)
তর্কসাপেক্ষে সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় ডিয়াগো ম্যারাডোনার নামও এ তালিকায় আসবে। তবে মাঠে কোন দুর্ঘটনার জন্ম দেননি তিনি। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ায় বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করা হয় এ আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তিকে।

লুইস সুয়ারেজ (উরুগুয়ে)
বর্তমান সময়ের নিন্দিত এক খেলোয়াড় লুইস সুয়ারেজ অনেক সময়ই বিভিন্ন অপকর্ম করেছেন। আর তার সে অপকর্ম গত ব্রাজিল বিশ্বকাপেও টেনে এনেছেন বর্তমান বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। গ্রুপপর্বের এক ম্যাচে সুয়ারেজের উরুগুয়ে মুখোমুখি হয় ইতালির। ম্যাচ চলাকালীন সময়ে সুয়ারেজ কামড়ে দেন ইতালির ডিফেন্ডার জর্জিও কিয়েলিন্নিকে। কিয়েলিন্নি রেফারির কাছে অভিযোগ করলেও রেফারি সুয়ারেজকে তাৎক্ষনিকভাবে কোন শাস্তি দেননি। কিন্তু পরে তদন্তে আসল ঘটনা বেরিয়ে এলে সুয়ারেজকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ সহ ৯ ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়।

ডিকেটি/এসএএস/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :